প্রকাশিত: ২৭/১১/২০১৬ ৭:৫৬ এএম , আপডেট: ২৭/১১/২০১৬ ৮:৫৫ এএম

উম্মুল ওয়ারা সুইটি কুতুপালং থেকে :
সাত বছরের আসমা, ছয় বছরের সুমাইয়া এবং চার বছরের হারুণ জানে না কোথায় আছে তাদের বাবা-মা। কি নাম তাদের দেশের, কি তাদের ধর্ম। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। চোখ শুধু চেনা জায়গা আর চেনা মানুষ খুঁজে বেড়ায়।
৭ দিন কখনো হেঁটে কখনো না খেয়ে মংডুর পহালি নোয়াপাড়া থেকে তাকাঁটা পেরিয়ে প্রথমে টেকনাফ সীমান্তে এবং পরে এসেছে কুতুপালং ক্যাম্পে। ৬০ বছর বয়সী হামিদা বেগমের সাথে এসেছে এই শিশুরা। কুতুপালং এর রোহিঙ্গা শহীদের মাধ্যমে কথা হয় হামিদার সঙ্গে, তিনি জানান, হঠাত করেই হামলা করে মগরা (মিয়ানমারের সেনাবাহিনী)। দুপুর বেলা তারা বাচ্চাদের নিয়ে খেতে বসবে। এমন সময় মগরা এসে সব হামিদার বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করে এবং সব গরু ছাগল নিয়ে যায়। এসময় মগদের ভয়ে তার ছেলে হামিদ পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হামিদ খুন হয়েছে মগদের হাতে। আর এই তিন শিশুর মাকে অত্যাচার করে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। আসমার মা ছিলো সন্তান সম্ভবা। আর কিছুদিন পরেই নতুন সন্তান আসতো অথচ মগরা তার ছেলে বউকে ছাড় দেয়নি।
হামিদা এখন এই তিন শিশুকে নিয়ে কি করবে জানে না। খাবার নেই। একটা কাপড় নেই। শীতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে এই তিনজন। ওদের সঙ্গে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা যেনো কাকে খুঁজছে। দোভাষীর মাধ্যমে জানতে চাইলাম, তোমার মা কই। তোমার দেশের নাম কি? কোনো জবাব নেই। শুধু কান্না। ছোট্ট শিশুটি কেঁদেই যাচ্ছে।
হামিদা জানান, মগরা শুধু মুসলমান শুনলেই ক্ষেপে উঠেছে। কাউকে ছাড়েনা। মেয়েগুলোকে একদম ছাড়েনা। শ্বশুর শাশুড়ীর স্বামীর ছেলেপুলের সামনে নারীদের বিবস্ত্র করে যা করছে তা কেমনে সহ্য করছি আল্লাহ জানে না।
হামিদা বলে, এই গুড়া গুড়া (বাচ্চা ছেলে) গুলি ধর্মে কি বোঝে আর দেশের কি বোঝে। গুড়াদের গায়েও গুলি করছে।

পাঠকের মতামত

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও রিফাত আসমা 

শীত মৌসুমের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়মুখী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উখিয়া উপজেলার সিকদার ...