প্রকাশিত: ১০/০৬/২০১৭ ৩:১৮ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৪:৪৪ পিএম

শ.ম.গফুর::

কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী সীমান্ত উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়িতে রমযানের বাজার তদারকিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি নেই। ফলে ভেজাল খাদ্যে সয়লাব হয়ে গেছে নাইক্ষ্যংছড়ি। সারা দেশের ন্যায় অন্যান্য জনগুরুত্যপূর্ন এলাকায় ,তৎ বাজার ও হাটে সাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এর যৌথ অভিযান পরিচালনা করার চিত্র দৃশ্যমান হলেও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে একেবারেই নেই কোন অভিযান বা বাজার তদারকি। এতে অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য পোয়াবারো হয়ে ওঠেছে রমযান মাস।যেমন ইচ্ছে হাতিয়ে নিচ্ছে পণ সামগ্রীর মুল্যের টাকা। ভোক্তা -সাধারণদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে ভেজাল ও নকল খাদ্য দ্রব্য সামগ্রী। ওজনে দিচ্ছেও কম। আর পচাঁ – বাসী খাবার ভোক্তাদের পেটে হজম হওয়াতে জনসাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।

জনস্বার্থে এসব বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তাব্যক্তিদের কোন মাথা নেই বললেই চলে। নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী রামু, কক্সবাজার সদর ও উখিয়া উপজেলা সদর মফসল এলাকায় রমযানের বাজার তদারকি করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণে প্রশংসনীয় ভুমিকা রাখছে। অথচ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ও অধীনস্থ ইউনিয়ন হাট বাজার এবং জনলোকারণ্য
স্থানে কোন অভিযান বা তদারকি ছাড়াই চলছে বাজারের বিকিকিনি। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের যত্রতত্র খোলা স্থানে চলছে ইফতারের খাদ্য তৈরি। স্যাতঁ-স্যাতেঁ পরিবেশন ও পচাঁবাসী খাবার বিক্রি, হোটেল – রেস্তোরাঁয় চলছে পোড়াঁ তেল দিয়ে রান্না, মুদির দোকানে টাংগানো হয়নি মুল্য তালিকা,মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সামগ্রী বিক্রি, ভোক্তারা পাচ্ছে অখ্যাত কোম্পানির ভেজাল সামগ্রী,মাছে ফরমালিন, ফলমুল ও কাচা তরিতরকারিতে ফরমালিন, পুরাতন বাটখাঁরায় পরিমাপে ওজনে কম, অতিরিক্ত মুল্য আদায় সহ ভোক্তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে নাইক্ষ্যংছড়িবাসী এমন অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।

গত মে মাসে সরকারের সাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রমযানের বাজার তদারকিতে সারাদেশ ব্যাপী ৬শত স্যানিটারি ইন্সপেক্টর একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেয়। এতে ” বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ “নামক সরকারের একটি সংস্থা রমযান মাসের খাদ্য সামগ্রীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ৯টি সুপারিশ করে। যা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণে সহায়ক ভুমিকা রাখার কথা বলা হয়। এর উল্টো হলে ৫বছরের জেল ও সবোর্চ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে মর্মে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়।এ বিজ্ঞপ্তি কার্যকরে অন্যান্য এলাকায় খাদ্য নিরাপদ নিশ্চিত বা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণে বাজার তদারকিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু নাইক্ষ্যংছড়িতে তার বিধিবাম। রমযানের আগে বা মাঝপথেও কোন তদারকি নেই নাইক্ষ্যংছড়িতে।

এতে ভোক্তা -সাধারণ শুধু ঠুকছেন না, ভেজাল খাদ্য খেয়ে কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনেও ঠকছেন। রয়েছেন মারাত্মক সাস্থ্য ঝুঁকিতে। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি তারেক রহমান জানান, রমযানের আগে বা চলমান মাসেও বাজার তদারকিতে কোন অভিযান বা প্রশাসনের দেখা মেলেনি। ফলে এক প্রকার আমরা আশংকা করছি যে, যেসব খাদ্য খাচ্ছি তা আসল না ভেজাল নিশ্চিত নয়। নাইক্ষ্যংছড়ি ও তার আশপাশের বাজারে -দোকানপাটে প্রশাসনের নজরদারির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, রমযানে খাদ্য খাচ্ছি না বিষ খাচ্ছি তা প্রশাসনের মনিটরিং ছাড়া কিভাবে বুঝব?। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দায়ীত্বরত স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পারভিন আকতারের মুঠোফোনে বহুবার কল দেওয়া হয়। কল রিসিভ না করায় তাহার মন্তব্য বা বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে অফিস সুত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমানে ছুটিতে দেশের বাড়িতে রয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল বলেন, ইতিপূর্বে অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকজন কে জরিমানা করা হয়। বাজার তদারকিতে প্রশাসনের গোপন টিম রয়েছে। রিসেন্টলি অভিযানও পরিচালনা করা হবে।

পাঠকের মতামত

রামুর ফতেখাঁরকুলে উপ-নির্বাচনে প্রতীক পেয়ে প্রচারনায় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী

রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি ৩ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া ...

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ দুদকের মামলা

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামানের সম্পদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ স্পেশাল ...