প্রকাশিত: ২২/১২/২০১৬ ৭:৪২ এএম , আপডেট: ২২/১২/২০১৬ ৯:১০ এএম

চকরিয়া প্রতিনিধি::

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হারবাং কাটাখালী এলাকা থেকে অপহরণের দেড়বছর পর স্বেচ্ছায় বাড়ি ফিরেছে কিশোরী নাজমা আক্তার। গত শনিবার সকালে ওই কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে তার গ্রামের বাড়িতে এসেছে। ২০১৫ সালের ২৬ জুন ওই কিশোরী অপহরণের শিকার হয়েছে, এমন অভিযোগে তার মা ছুরা খাতুন চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি রুজু করেন। পরে একই বছরের ২৫ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে একটি নালিশী মামলা করেন ছুরা খাতুন। এতে অভিযুক্ত করা হয় প্রতিবেশি শুধাংশু পাহাড় গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সোনাচন্দ্র আচার্য্যের ছেলে সুজিত আচার্য্য, তার ভাই অজিৎ আর্চায্য, তাদের মা রাজলক্ষী আর্চায্যসহ তিনজনকে।
বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। একই সাথে অপহরণের শিকার ওই কিশোরীকে উদ্ধারে আইনি ব্যবস’া নিতে বলেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করনে তৎকালীন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি দেবাশীষ সরকার।
তিনি বদলি হলে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন কক্সবাজার ব্রাঞ্চের উপ-পরির্দশক মোহাম্মদ হাসান। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
মামলার আসামি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সুজিত আচার্য্য অভিযোগ করে জানান, স’ানীয় একটি প্রভাবশালীমহল তাদের পৈতৃক বসতভিটাটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তাঁরা এতে ব্যর্থ হয়ে বসতভিটে থেকে তাদের (মুক্তিযোদ্ধা) পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্যই ওই কিশোরীকে অপহরণের কথিত ঘটনা সাজিয়ে একই এলাকার মৃত আবদুল মতলবের স্ত্রী ছুরা খাতুনকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে জড়িয়ে আদালতে মামলাটি করেছে।
হারবাং ইউপি মহিলা মেম্বার আমিনা খাতুন বলেন, মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে তার মা ছুরা খাতুন আদালতে বাদি হয়ে মামলা করলেও দেড়বছর পর গত শনিবার সকালে ওই মেয়ে স্বেচ্ছায় বাড়িতে ফিরেছে। ঘটনাটি জানার পর আমরা পরিষদের চৌকিদার পাঠিয়ে তাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি বলেন, মেয়েটি বলেছে ঘটনার দিন মা ছুরা খাতুন তাকে মারধর করে। এ কারণে রাগ করে সে এক মহিলার সাথে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। চট্টগ্রামের একব্যক্তির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো।
স’ানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দাবি করছেন, কিশোরী নাজমা আক্তার দেড়বছর পর বাড়ি ফেরার ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মাঝে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে। মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মা ছুরা খাতুনের মামলার সত্যতাও নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম খান বলেন, কিশোরী নাজমা আক্তার ১৭ মাস পর বাড়িতে ফিরেছে বলে তার মা ছুরা খাতুন ওই মেয়েকে নিয়ে গত সোমবার থানায় এসে বলেছে। ২০১৫ সালের ২৬ জুন ওই মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে মর্মে থানায় জিডি করে তার মা। এখন জিডিতে তাকে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি লিপিবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, এব্যাপারে মামলা থাকলে তা তদন্ত সংস’া দেখবে।

পাঠকের মতামত

সীমান্তে পরিবর্তন হতে পারে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত উখিয়া উপজেলার নিকটবর্তী ...

ঘুমধুম সীমান্তে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের নোয়াপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় ...

আলজেরিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশের বশির

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের কিশোর ...