প্রকাশিত: ২৪/০৭/২০১৬ ৯:৪০ পিএম

জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ::
টেকনাফে প্রাথমিক স্তরে বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ও২০১৬ সহ ১২মাসের মোটা দাগের টাকা বিতরণের সুযোগে ব্যাংক নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাড়াহুড়া, ভীড়, মা অভিভাবকদের সরলতার সুযোগে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিভাবকরা দৈনিক কক্সবাজারকে জানিয়েছেন। অভিভাবক ও শিক্ষক সুত্র জানায়, বিতরণে নিয়োজিত ব্যাংকের লোকজন কার্ডে উল্লেখিত প্রদত্ত টাকার পুরো অংশ অভিভাবকদের না দিয়ে কিছু অংশ ভাংতি নেই এই নেই সেই নেই বলে কৌশলে আত্মসাৎ করেছেন। স্কুল কমিটির অনেকে, তাড়াহুড়া এবং ভীড়ের মধ্যে বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ থাকে বলে মনে করেন। তবে অভিভাবক এবং স্কুল কমিটির সদস্যরা বিতরণ স্থলেই স্বয়ং দক্ষ একজন শিক্ষক উপস্থিত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এদিকে শত শত অভিভাবক তথা শিক্ষার্থীর মা’দের সামাল দেওয়া কঠিন ব্যাপার বলে শিক্ষকরা স্বয়ং দৈনিক কক্সবাজারকে জানান। শিক্ষক এবং শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টরা ছাত্র/ছাত্রীর মা’দের মাঝে ব্যাংক কর্তৃক উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়ম হতেই পারে তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, মুলত মা’দের হাতে এই টাকা দেওয়া হয়ে থাকে’ত। উনারা’ত একেবারে সরল, টাকার অংক ২/৩বার বললেও মনে রাখতে পারে না। এছাড়া আমাদের অনেক সমস্যাও আছে। এই সমস্যা উত্তোরণে সময় লাগবে। খতিজা বেগম নামের এক অভিভাবক ক্ষোভের সাথে বলেন, ছিঃ স্কুলের ছোট্ট ছেলে মেয়েদের টাকা খাওয়ার জন্য কি যে লোভ! আমার বাচ্ছার কার্ডে ১হাজার ৫০টাকার পরিবর্তে তাড়াহুড়া করে আমাকে ৫শ ৫০টাকা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে বিতরণকারী লোকজন আরো বকসকা করে চলে যেতে বলে। পরে মাষ্টার আনোয়ারকে ডেকে আনলে বাকী ৫শ টাকা দিতে বাধ্য হয়। রঙ্গিখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম দৈনিক কক্সবাজারকে জানান, ব্যাংকের লোকজন অভিভাবককে টাকা কম দিয়েছে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক কার্ড খুঁেজ বের করে বাদ বাকী প্রদত্ত টাকা উক্ত অভিভাবককের হাতে তুলে দিয়েছি। ঐঅভিভাবক ছাড়া আরো অনেকে অনাকাংখিত এমন পরিণতির শিকার হয়েছেন বলে উক্ত শিক্ষক জানিয়েছেন। সবে মেরাজ নামের অভিভাবক এপ্রতিবেদককে জানান, আমাকে ১হাজার টাকার পরিবর্তে ৫শ টাকা দিয়েছে। লায়লা বেগম নামের অপর এক অভিভাবক বলেন, ছেলে-মেয়ে দু’জনের প্রাপ্য ১হাজার ৮শ টাকার পরিবর্তে আমাকে ১হাজার ৩শ টাকা দেয়। তাড়াহুড়া করে বাকী ৫শ টাকা দেয়নি। ব্যাংকের লোকজন কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা কম দেওয়ার কথা অনেক অভিভাবক দৈনিক কক্সবাজারকে জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা সহ মোট ৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের অনুমোদন না থাকায় ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিধিমতে পৌরসভার ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ৬টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা পায়নি। জনতা ব্যাংক টেকনাফ শাখাকে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, ২০১৫সনের জুলাই থেকে ডিসেম্বর ও ২০১৬সনের জানুয়ারী থেকে জুন মাস সহ ১২মাসের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হয়। চলতি মাসের ১২তারিখ থেকে ২০তারিখের মধ্যে বিতরণ কার্য্যক্রম শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে ২৩জুলাই (অদ্য তারিখ) সম্পন্ন করতে হবে। অভিভাবকদের হাতে সুযোগ বুঝে টাকা কম দেওয়া হচ্ছে বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বে নিয়োজিত টেকনাফ জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা রিটন চাকমা অনেকটা স্বীকার করে এপ্রতিবেদককে বলেন, ভাই ভুলক্রমে কম বেশী দেওয়া হলে পরে ডেকে এনে দেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার জোবায়ের হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার ধর জানান, এটা আসলে খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি আগে থেকে শিক্ষকদের বলেও দেওয়া হয়েছে যে, অভিভাবকরা যেন যথাযথ প্রাপ্য টাকা হাতে পায় তা খেয়াল করতে হবে। টাকা বিতরণে অনিয়ম হতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমাদের আরো সময় লাগবে।

পাঠকের মতামত

সীমান্তে পরিবর্তন হতে পারে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত উখিয়া উপজেলার নিকটবর্তী ...