ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ১০:২৭ পিএম

কর্মীদের হাতে চকলেট তুলে দিয়ে ছোট্ট এক প্র্যাঙ্ক করতে চেয়েছিলেন দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী নারী। কিন্তু প্যাকেট খুলতেই কারও হাতে মিলল একেবারে নতুন আইফোন ১৮, আর কারও হাতে বড় চকলেট বার। এরপর চকলেট পাওয়া কর্মীদেরও দেয়া হলো নতুন আইফোন। সেরা কর্মীদের ধরে রাখতে নেয়া এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী হাসিনা নিশাদের কিছু কর্মীকে নতুন আইফোন ১৮ উপহার দেয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, কর্মীদের খুশি রাখা এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূলনীতি।

‘কর্মীরাই আমাদের শক্তি। তাদের ছাড়া আমাদের কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। তাই প্রথম দিন থেকেই কর্মীদের পেছনে ব্যয় করাকে আমার স্বামী ও আমি অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি,’ খালিজ টাইমসকে বলেন ওয়ার্ল্ড স্টার হোল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নিশাদ।

স্বামী নিশাদ হুসাইনের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হাসিনা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিশাদ হুসাইন জনবল সরবরাহ সেবা নিয়ে কাজ করেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিশাদকে কয়েকজন কর্মীর মধ্যে প্যাকেট বিতরণ করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওই পরে ভাইরাল হয়। প্যাকেটগুলোর অর্ধেকের মধ্যে ছিল নতুন আইফোন ১৮, আর বাকি অর্ধেকের মধ্যে ছিল বড় একটি চকলেট বার।

সবাই প্যাকেট খোলার পর হাসিনা সেখানে উপস্থিত হন। এরপর যেসব কর্মী চকলেট পেয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেককেও নতুন ফোন উপহার দেয়া হয়।

‘আমাদের সেরা পারফর্ম করা ১২ জন কর্মীর জন্যই এই উপহার ছিল,’ বলেন হাসিনা। ‘চকলেটগুলো ছিল আমাদের করা ছোট্ট একটি প্র্যাঙ্ক। তবে সেখানে থাকাকালে আমি লক্ষ্য করেছি, যারা চকলেট পেয়েছিলেন, তাদের কেউই হতাশ হননি। তারা যা পেয়েছেন, খুশি মনে তা গ্রহণ করেছেন। অবশ্য আমরা যখন তাদের ফোন দিলাম, তখন তারা ভীষণ আনন্দিত হয়েছেন। তাদের মুখের আনন্দই আমাদের জন্য একটি উপহার।’

কর্মী ধরে রাখার কৌশল
কর্মীদের খুশি রাখতে হাসিনা ও নিশাদের এমন উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত বছরও সেরা পারফর্ম করা কর্মীদের আইফোন উপহার দেয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১৬ কর্মীর জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। তাদের পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার সুযোগ, চালকসহ বিলাসবহুল গাড়িতে ভ্রমণ এবং ইয়টে পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। আর ২০২৩ সালে কর্মীদের জন্য বিশেষ সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

হাসিনার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘমেয়াদে সেরা কর্মীদের ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

‘আমাদের কর্মীরা খুব কমই প্রতিষ্ঠান ছাড়েন। এমন কিছু কর্মী আছেন, যারা প্রতিষ্ঠান শুরুর দিন থেকেই আমাদের সঙ্গে আছেন। তাদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন,’ বলেন তিনি।

সেরা কর্মীদের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপরও গুরুত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

হাসিনা বলেন, ‘পুরো কোম্পানিকে চারটি দলে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতি বছর আমরা প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া দিবস আয়োজন করি। প্রতি মাসে তাদের খেলাধুলার অনুশীলনের জন্য একটি বাজেট বরাদ্দ থাকে। এতে তাদের প্রতিযোগিতার মনোভাব বজায় থাকে এবং তারা সুস্থও থাকে।’

২০০৮ সালে হাসিনা ও নিশাদ মিলে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। ‘শুরুতে শুধু আমার স্বামী আর আমি ছিলাম। বছরের পর বছর ধীরে ধীরে আমরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি এবং কর্মীরাই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কর্মীদের যথাযথ যত্ন নিলে প্রতিষ্ঠান নিজে থেকেই এগিয়ে যাবে,’ বলেন হাসিনা

পাঠকের মতামত

দিল্লির যন্তরমন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ইন্টারনেট

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল শনিবার রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে জড়ো হতে ...

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট, আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যু

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ...

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জমিতে বন্দিশিবির–সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে আরাকান আর্মি

মিয়ানমারের বাংলাদেশ সংলগ্ন রাজ্য রাখাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৪ সালে ওই রাজ্যের বিশাল অংশের ...

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ শুরু করেছে মালয়েশিয়া

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের প্রায় ১ হাজার ...