প্রকাশিত: ২৬/০৭/২০১৬ ৮:০৪ এএম

beach-wmn-life-guard-1-640x359আব্দুল কুদ্দুস রানা ::

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। উত্তাল সাগর। বড় বড় ঢেউ। এতেও দিব্যি সার্ফিং বোর্ড নিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে দুই কিশোরী। তীরে থাকা প্রশিক্ষক ইশারায় কী যেন বুঝিয়ে দিলেন। এগিয়ে গেল আরও কিছু দূর। এরপর ফিরে এল তীরে। এ চিত্র ১৭ জুলাই দুপুরের। কক্সবাজার সৈকতে সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা মেলে তাদের।

কক্সবাজারের মেয়েরা সার্ফিং করছে অনেক দিন ধরে। সে পুরোনো কথা। এখন মেয়েদের মনোযোগ লাইফ গার্ডে যোগ দেওয়া। সমুদ্রে গোসলের সময় ভেসে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধার করার কৌশল রপ্ত করছে তারা।

তীরে ফিরে আসা দুই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বাড়ি কক্সবাজারের মুজিবনগর এলাকায়। তারা দুই বোন—রিতা আকতার ও রিফা আকতার। তারা সার্ফিং করছে সাত বছর ধরে।

রিতা আকতার বলে, ‘সার্ফিং শেখার আগেই রপ্ত করেছি। এখন লাইফ গার্ডের প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। এই প্রশিক্ষণ সমুদ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধারে সহায়তা করবে।’

তাদের সঙ্গে লাইফ গার্ড কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে নার্গিস আকতার, জাহান আরা, সুমি আকতার, শবে মেহেরাজ, আয়েশা আকতার, মাইশা আকতার ও সোমা আকতার। এদের সবার বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তারা সৈকতের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা।

জাহান আরা জানায়, সে শহরের সৈকত বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে সৈকতে শামুক–ঝিনুক বিক্রি করে সংসার চালায়। এখন লাইফ গার্ডের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

মেয়েদের লাইফ গার্ড প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সি সেভ লাইফ গার্ড নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা দিচ্ছে সেন্টার ফর ইনজুরপ্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের উদ্দেশ্য সৈকতের পরিবেশকে বোঝা ও লাইফ সেভিং দক্ষতাবিষয়ক জ্ঞান আদান–প্রদানের মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর কবল থেকে লোকজনের জীবন রক্ষা করা।

মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সার্ফার রাশেদ আলম। তিনি কক্সবাজার লাইফ সেভিং অ্যান্ড সার্ফিং ক্লাবের সভাপতি। তিনি জানান, এই সৈকতে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে। সমুদ্রে গোসলে নেমে বিপদে পড়ে বহু নারী ও ছেলেমেয়ে। নারীদের সমুদ্র থেকে উদ্ধারের জন্য নারী লাইফ গার্ড নেই। সেই অভাবটা পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সার্ফিং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় খেলা হলেও বাংলাদেশে সার্ফিংয়ের বিপরীতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ নেই। ফলে মাঝপথে মেয়েদের ঝরে পড়তে হয়।

কক্সবাজারসহ ১৮০টির বেশি দেশের সৈকতে লাইফ গার্ড সেবা নিশ্চিত করছে সিআইপিআরবি। সার্ফার রাশেদ এই সংস্থায় কাজ করছেন।

সি-সেভ লাইফ গার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ জানান, ২০১৪ সালের মে মাস থেকে ১৯ জন প্রশিক্ষিত লাইফ গার্ড নিয়ে তাঁদের কার্যক্রম শুরু। এ পর্যন্ত সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে তাঁরা দেড় শতাধিক উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে প্রায় ৬০০ জন পর্যটককে প্রাণে রক্ষা করেছেন।

সমুদ্রজয়ের স্বপ্ন কিশোরীদের চোখেমুখে l প্রথম আলোপাশাপাশি সৈকতে থাকা বিভিন্ন স্তরের অন্তত ৫০০ মানুষকে (যেমন ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ী, ভ্রাম্যমাণ হকার, আলোকচিত্রী, বিচ বাইকচালক ও শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রয়োজনে তাঁরাও পর্যটকদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করতে পারেন।

ইমতিয়াজ আহমদ জানান, লাইফ গার্ড প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকে এই সংস্থায় চাকরি পাচ্ছে। কিন্তু ১৮ বছরের নিচে কাউকে চাকরিতে নেওয়া হয় না বলে প্রশিক্ষিত মেয়েরা এই সুবিধা পাচ্ছে না। তবে মেয়েরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে। মাসিক বেতন না পেলেও তাদের সম্মানী ভাতা ও নাশতার টাকা দেওয়া হয়।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী জানান, লাবণী পয়েন্ট (সুইমিং জোনে) ছাড়া অন্য কোনো সৈকতে গোসলে নামা নিষিদ্ধ। তারপরও লোকজন সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, ডায়াবেটিস হাসপাতাল পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে গোসলে নামছেন। অনেকে পড়ছেন বিপদে। এ ক্ষেত্রে লাইফ গার্ডের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

তিনি জানান, গত ২১ এপ্রিল সৈকতের লাবণী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন শহরের চারটি ক্লাবের ৯০ জন সার্ফার। এর মধ্যে ১০ জন মেয়ে। উপস্থিত ছিলেন আটটি দেশের ১৯ জন সার্ফার। বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

বিএসএ সূত্র জানায়, বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সার্ফিং শিখতে আসছেন বিভিন্ন দেশের নারী-পুরুষেরা। গত সাত বছরে এই সৈকতে অন্তত পাঁচ হাজার বিদেশি সার্ফিং প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর কারণ হলো সার্ফিং শেখার নিরাপদ এবং উপযুক্ত স্থান হচ্ছে বালুকাময় এই সৈকত। পৃথিবীর অন্যান্য সৈকতের মতো এখানে প্রবাল পাথরের আস্তর নেই। নেই হাঙরসহ হিংস্র প্রাণীর বিচরণ।

সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো

পাঠকের মতামত

যেভাবে ভুয়া জন্মসনদ এনআইডি ও পাসপোর্ট পাচ্ছে রোহিঙ্গা ও দাগি আসামিরা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সাদিয়া সুলতানা সাথি। পেশায় গৃহিণী। বিদেশ যাওয়ার কোনো স্বপ্ন নেই। নেই পাসপোর্টও। গৃহিণী ...

রাঙ্গামাটিতে স্পিডবোটে সন্তান প্রসব, ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ও আজীবন যাতায়াত ফ্রি

গত রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোটে এক শিশুর জন্ম হয়েছে। এঘটনায় ওই মা-শিশুর আজীবন ...