প্রকাশিত: ৩০/০৮/২০১৬ ৮:০৬ এএম , আপডেট: ৩০/০৮/২০১৬ ৮:০৬ এএম

নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের সংকটাপন্ন রোগীদের বাঁচানোর জন্য চালু হওয়া বহুল প্রতিক্ষিত ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) কার্যক্রম যাত্রা শুরু হওয়ার দুইমাস না পেরোতেই নার্স ও চিকিৎসকের অভাবে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি মানতে চাননি সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক এস এম আবু সাঈদ।

তিনি কক্সবাংলাকে বলেন, ”চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে আইসিইউতে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।বর্তমানে মাত্র একজন ডাক্তার এবং এজন নার্স রয়েছে।এত স্বল্প সংখ্যক লোকবল দিয়ে খুবই স্পর্শকাতর ইউনিটে সেবা দেওয়া অসম্ভব।তাই  আপাতত আইসিইউতে রোগীদের ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সমস্যার কথা হাসপাতালের তরফে সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে।”তিনি জানান,সরকারী আদেশে হাসপাতাল থেকে হঠাৎ ১৩ জন নার্স অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় ২৯ জুলাই থেকে রোগী ভর্তি করা বন্ধ রয়েছে।icu-coxএ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের আইসিইউ’র ডা. বিধান পাল  জানান,বর্তমানে সরঞ্জাম থাকলেও মুমূর্ষু রোগীদের পরিচর্যায় চালু করা এ ২ শয্যার জন্যও নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও ল্যাব সহকারি সহ অন্যান্য জনবল।গত ২৪ মে আইসিইউ কার্যক্রম জনবল সংকট নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মাত্র ২ জন চিকিৎসক ও ৪ জন নার্স দিয়েই দুই শয্যার এ বিভাগ চালু হয়।তবে মুমূর্ষু রোগীদের পরিচর্যায় চালু করা এ ২ শয্যার জন্যও পর্যাপ্ত ছিলনা চিকিৎসক, নার্স ও ল্যাব সহকারি সহ অন্যান্য জনবল।

তিনি আরও জানান,শুধু একটি আইসিইউ স্থাপনের জন্য অন্তত ৪০ জনের জনবল দরকার হয়।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন পু চ নু অবশ্য স্পষ্ট বলেছেন, নার্স ও চিকিৎসকের অভাবে সাময়িক সমস্যা তৈরি হওয়ায় আইসিইউ আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত ডাক্তার ও নার্স চেয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান,আইসিইউ বিভাগ চালু করার জন্য বারে বারেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে একাধিকবার জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসেও ৬ শয্যার এ বিভাগ চালু করতে চিকিৎসকসহ অন্য পদে ৬৭ জনের বেশি জনবল নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন। এরমধ্যে ১ জন সিনিয়র কন্সালটেন্ট (আইসিইউ), ২ জন জুনিয়র কন্সালটেন্ট, ৬ জন মেডিকেল অফিসার, নার্সিং সুপাভাইজার ৫ জন, ২৩ জন সিনিয়র ষ্টাফ নার্স, ল্যাব সহকারি ৪ জন, ১৮ জন ওয়ার্ড আয়া ও ৮ জন ঝাড়ুদার। তিনি বলেন, কিন্তু এত চাহিদার জনবলের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিলছ মাত্র ৬ জন। এদের মধ্যে ২ জন চিকিৎসক এবং ৪ নার্স। নিয়োগপ্রাপ্ত এ ৬ জনই আগে থেকেই হাসপাতালে কর্মরত ছিল। গত ডিসেম্বর মাসে তাদেরকে ৬ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণে পাঠিয়ে আইসিইউ বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়।কিন্তু তারা না থাকায় আপাতত রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না।তবে শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। icu coxকক্সবাজার রোগী কল্যান সমিতির এক কর্মকর্তা  জানান,দুই মাস আগে সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা হলেও চালু না থাকায় স্থানীয় সংকটাপন্ন রোগীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।এ ধরনের অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে।

তিনি আরও জানান,অনেক রোগী ঝুঁকি নিয়ে দেড়’শ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। তাই দ্রুত আইসিইউটি লোকবল নিয়ে পুনরায় চালু করা হলে নিশ্চিৎ বেঁচে যাবে অসংখ্য প্রাণ। এ সমস্যার সমাধানে সদরের  এমপি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য,২০০৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই সরকারি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।সিসিইউ স্থাপনের জন্য একটি বহুতল ভবন প্রস্তুত করা হলেও কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হওয়ায় সেই ভবনে আর সিসিইউ চালু হয়নি।তবে ২৪ মে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ছয় বেডের আইসিইউ স্থাপনে প্রায় তিন কোটি টাকার অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে চালু করা হলেও আবারও জনবল সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।কক্সবাংলা

পাঠকের মতামত

সীমান্তে পরিবর্তন হতে পারে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত উখিয়া উপজেলার নিকটবর্তী ...

ঘুমধুম সীমান্তে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের নোয়াপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় ...