প্রকাশিত: ০৩/০৫/২০২২ ৯:৩১ এএম

আমাদের যাত্রা শুরু হয় কক্সবাজার থেকে ১৩ এপ্রিল-২০২২ইং রেজি বাংলাদেশ বিমানের বিকাল ৫ টার ফ্লাইটে।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকায় পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬ঃ১৫ মিনিটে।যেহেতু রমজান মাস ছিল আমরা (আমি,আমার স্ত্রী তাওফিকা খানম ইমু ও আমাদের ২ বছর বয়সী ছেলে জারিফ ইত্তেহাদ রহমান) এয়ারপোর্টে ইফতার করি।বাংলা নববর্ষ ও সপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ০৩ (তিন) দিন ছুটি হওয়াতে ঐ ফ্লাইটে কর্মজীবনের পরিচিত অনেকের সাথে আমাদের দেখা হয় যেমনঃ কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন জনাব মাহবুবুর রহমান,ইউনিসেফ এর লজিস্টিক টিমের মহিউদ্দিন ভাই ও জিয়াউদ্দিন জিয়া ভাই,এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নবনিযুক্ত নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেটর আমার একসময়ের সহকর্মী মির্জা ফারিজ ভাই।শিডিউল অনুযায়ী আমাদের ফ্লাইট ছিল বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বিজি-৩৯৭,১৪ এপ্রিল সকাল ১১ঃ৪৫ মিনিটে।রমজান মাসে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ডমোস্টিক ফ্লাইট রিশিডিউলড হওয়ায় ভোরে কোন ফ্লাইট না পাওয়াতে আমরা একদিন আগেই কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি।আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নিয়ম অনুযায়ী ন্যুনতম তিন ঘন্টা আগে এয়ারপোর্টে চেক করা লাগে সে হিসাবে আমরা পরদিন সকাল ৯ টায় ঢাকা এয়ারপোর্টে চেক-ইন করার পরিকল্পনা করি।বেল্ট থেকে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার সময়ই বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানিয়ে দিল তাদের আগামীকালকের দিল্লিগামী ফ্লাইট(বিজি-৩৯৭) তিন ঘন্টা দেরিতে অর্থ্যাৎ সকাল ১১ঃ৪৫ এর ফ্লাইট বিকাল ৩ টায় ছাড়বে।খবরটা পেয়ে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হলাম কারণ এই খবরটা কক্সবাজার থাকতে জানতে পারলে হয়ত একদিন আগে ঢাকায় আসা লাগতনা।কক্সবাজার থেকে সকাল ৮ঃ৫০ এর ফ্লাইট আসলে সহজে ম্যানেজ করা যেত।যাইহোক এয়ারপোর্ট থেকে উবার যোগে পূর্বে বুক করা হোটেল ব্লু বার্ড এ চলে গেলাম রাত তখন আনুমানিক ৭ঃ৪৫। উত্তরা সেক্টর-৭ এ লেক সাইডে হোটেলটির অবস্থান।রুমে চেক-ইন করে আশেপাশে একটু ঘুরে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম এবং ঐরাতের সেহরি খাওয়ার বন্দোবস্ত করে নিলাম।পরদিন সকাল বেলা উত্তরা লেক সাইডের বটতলার পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান উপভোগ করলাম এবং লেক সাইডে কিছুটা পায়ে হেটে ঘুরানো করলাম।দুপুর ১২ টায় হোটেল থেকে বের হয়ে ঢাকা এয়ারপোর্টে রওয়ানা দিলাম।স্টান্ডার্ড চার্টার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বিশেষ সুবিধার আওতায় মিট এন্ড গ্রীট সার্ভিস এর ২ জন লোক আগেই থেকে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য টার্মিনাল-২ এর সামনে আমার নেমপ্লেট উঁচিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।আমরা গাড়ি থেকে নামামাত্রই তারা আমাদের ব্যাগ বেগেজ নিয়ে নির্দিষ্ট কাউন্টারে নিয়ে গেলেন।বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করতে বেশ কিছুক্ষণ (প্রায় ১ ঘন্টা) সময় লাগলো।টিকাসনদ থেকে এয়ারসুবিধা-ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য অনলাইনে পূরণকৃত ভালোস্বাস্থ্যের ঘোষণা, এটি করোনা পরবর্তী সময়ে নতুন করে চালু করা হয়,প্রত্যেকটি ডকুমেন্টস চেক করে তারপর বোর্ডিং পাস ইস্য করা হচ্ছিল। এরপর ইমিগ্রেশন আরো কিছুটা সময় ব্যয় হলো।তবে আমাদের সবকিছু ঠিকঠাক মতই হয়েগেল। এয়ারপোর্টে প্রবেশ থেকে ইমিগ্রেশন পর্যন্ত মিট এন্ড গ্রীট এর লোক ২ জন সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে ছিলেন।ইমিগ্রেশন এর পর আর তাদের যাওয়ার অনুমতি নেই।বিমান ছাড়তে প্রায় এক ঘন্টা বাকি।এই সময়ে প্রায়োরিটি পাস-লাউন্জ ব্যবহারের বিশেষ সুবিধা,এরনআওতায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পরিচালিত এয়ার লাউঞ্জে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম এবং ছেলেকে ঐ পাসের আওতায় বিনামূল্যে লাঞ্চ করিয়ে নিলাম।বিমান ছাড়ল বিকাল প্রায় ৪ টায়।আমরা পাশাপাশি ৩ টা সিট পেলাম।দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ঃ৩০ মিনিট পরে বিমান অবতরণ করল।যেহেতু বাংলাদেশ টাইম ভারতের তুলনায় ৩০ মিনিট আগে সে হিসাবে ভারতে আকাশে তখন সূর্য অস্ত যায়নি।বড় এয়ারপোর্ট অনেকটা পথ হেটে ইমিগ্রেশনে পৌছালাম। তখন ইমিগ্রেশন অফিসারদের ডিউটি শিফটের সময় চলছিল ফলে কোন কোন কাউন্টারে অফিসার না আসাতে দীর্ঘ লাইন লেগে গেল।এর মধ্যে জানতে পারলাম বিদেশি হিসাবে আমাদের সকলের ইমিগ্রেশন ফরম হাতে পূরণ করে কাউন্টারে জমা দিতে হবে।এতে বাংলাদেশ বিমানের প্রতি অনেক যাত্রীকে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখলাম কারণ বিমানে থাকতে কেন এই ফরম আমাদের হাতে দেওয়া হলোনা।ফরম পূরণ করতে গিয়ে দেখি আমার সাথে কোন কলম নেই।আশেপাশে কোন দোকানও নেই এমনকি তাদের কাউন্টারে সুতো দিয়ে বাঁধা কোন কলমও নেই। ইফতারের সময় হয়ে গেছে আবার দীর্ঘ লাইন তার উপর আমার ছেলের এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি সব মিলিয়ে একধরনের অসহায় অবস্থা।পরক্ষণেই বাংলাদেশী এক যুবক যাত্রীকে পেলাম যার কাছে কলম ছিল কিন্তু ফরম কিভাবে পূরণ করতে হবে সে ধারণা না থাকাতে আমার সহযোগিতা নিল এবং বিনিময়ে আমি তার কলমটার সারাজীবনের জন্য মালিক হয়েগেলাম।আমরা বাংলাদেশ টাইম ৭ঃ২৫ মিনিটে বিমানে সরবরাহকৃত প্যাকেট নাস্তা দিয়ে ইমিগ্রেশনে ইফতার করি।আমার হিসাবে সেদিনের রোজাটি ছিল আমাদের সব থেকে দীর্ঘ রোজা কারণ সেহরি খেয়েছি ঢাকায় বাংলাদেশ টাইমে আর ইফতার করছি ভারতের টাইমে যা বাংলাদেশ টাইম থেকে ৩০ মিনিট পরে এবং তাদের ইফতার টাইম ঢাকার আরো ১৫-২০ মিনিট পরে।ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ করে এবার চললাম ৯ নং বেল্টে লাগেজ সংগ্রহ করার জন্য।প্রায় মিনিট পাঁচ এক হেটে বেল্টে পৌছালাম আমাদের লাগেজ দুটো একজায়গায় নামানো অবস্থায় তাদের সিকিউরিটি তত্ত্বাবধানে পেলাম।বোর্ডিং পাসে লাগানো লাগেজ ট্যাগ দেখিয়ে লাগেজ সংগ্রহ করলাম।এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে চারশত রুপিতে দিল্লি পুলিশের ভাড়ায় চালিত কারে করে পাহাড়গন্জে বুক করা হোটেলে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।কারে উঠতে না উঠতেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলো এয়ারপোর্ট এলাকায়।ড্রাইভারকে ইংরেজি হিন্দি মিশিয়ে বললাম গাড়ির এসি চালাতে সে কিছুক্ষণ না শোনার মত ভান করলো পরে হিন্দিতে জানালো তার গাড়ির এসি নস্ট!আমার মতে এই গাড়িগুলো ফ্যামিলি যাত্রীদের উপযোগী না বেশ লক্কর ঝক্কর টাইফের তার চেয়ে বরং উবার কিংবা মেট্রো রেলে যাওয়া অনেক ভালো। তখন ৩৮/৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা।ঘন্টা খানেক পর দেশবন্ধু রোডের হোটেলে এসে পৌছালাম।এসি রুম মুটামুটি ভালোই ছিল।রেল স্টেশন থেকে ৩/৪ মিনিটের হাটা দূরত্ব।পরদিন ভোরে আজমীর শরীফ যাওয়ার ট্রেন এর টিকেট সেই রাতে আর পাওয়া গেলনা।আমরা চলে গেলাম নিজামউদ্দিন আওলিয়া(র.) মাজারে।মাজার সংলগ্ন মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে এবং মাজার জিয়ারত করে রুমে চলে আসলাম।১৫ তারিখ সকাল ৯ টায় পরদিন ১৬ এপ্রিল এর আজমীর শতাব্দী এক্সপ্রেস এর টিকেট নিয়ে নিই।জন প্রতি ভাড়া এক হাজার একশত রুপি।পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকেট নিতে হয়না তবে টিকেট ফরমে শিশুর তথ্য আলাদাভাবে দিতে হয়।প্রাইভেট এজেন্টদের কাছে টিকেট পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে টিকেট প্রতি ৩০০/৪০০ রুপি হয়ত বেশি ভাড়া নিবেন।আমি সরাসরি টিকেট কাউন্টার থেে টিকেট নেওয়তে প্রকৃত ভাড়াতে পেয়েছি।দিল্লি রেল স্টেশন টিকেট বুকিং কাউন্টার আলাদা বিল্ডিং এ অবস্থিত।এখানে বিশটি কাউন্টার থেকে প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সারা দেশের যেকোন রুটের ট্রেনিং টিকেট বুকিং করা যায়।রবিবার সপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কাউন্টার খোলা থাকে। ভারতে বিদেশী পাসপোর্টধারীরা ১ বছর আগে থেকে এবং ভারতীয় নাগরিকরা ৪ মাস আগে থেকে ট্রেনের আগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। ঐ দিন দিল্লি শহর ঘুরে দেখি।২০১৯ সালেও যেহেতু দিল্লি শহর ঘুরা হয়েছিল সেহেতু এবারে নিজের ইচ্ছে মত সুপ্রিম কোর্ট এলাকা,কনইঘট প্লাজা(রাজিব মর্গ),পেলিকা বাজার এবং দিল্লি শাহী জামে মসজিদ বেড়ালাম।পেলিকা বাজারটা সম্পূর্ণ মাটির নিচে অবস্থিত এবং সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কমদামী পণ্যের মার্কেট।অন্যদিকে কনইঘট প্লেস বা রাজিব মর্গ বিশ্বের নবম তম ব্যয়বহুল অফিস ও মার্কেট এলাকা যেখানে বিশ্বের নামী দামী ব্রান্ডের সকল মালামাল পাওয়া যায়।ঐদিনের ইফতার করলাম কনইঘট প্লেস এর #MacDonald রেস্টুরেন্ট এ।MacDonald এর মহারাজা বার্গারটা আমাদের বেশ নজর কাড়ল।এর পর রওয়ানা দিলাম দিল্লি ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদে।মসজিদ এলাকায় গিয়ে দেখি হাজার হাজার মুসলিম নারী পুরুষ মসজিদ থেকে বের হচ্ছে। পরে মসজিদ প্রাঙ্গনে ডুকে জানতে পারলাম জুমার দিন হিসাবে মুসলিমদের অনেককে এখানে একসাথে ইফতার করার জন্য চলে আসেন।নিজেরাও ইফতারি নিয়ে আসেন আবার অনেকে ডোনেটও করে থাকেন।এটি ছিল ভারতবর্ষে আমার দেখা মুসলমানদের বড় মিলনমেলা।রমজান মাসে না গেলে হয়ত এই দৃশ্য চোখে পড়তনা।মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে রুমে চলে আসলাম।আসার পথে আমি আর ছেলে উটের পিঠে সওয়ার হওয়ার সৌভাগ্য হলো জামে মসজিদ এলাকাতেই।পরদিন(,১৬ এপ্রিল) ভোর ৪ঃ৩০ এ রুম ছেড়ে দিয়ে রেল স্টেশনে চলে গেলাম।আমাদের ট্রেন ঠিক ভোর ৬ঃ১০ মিনিটে নিউ দিল্লি রেল স্টেশন থেকে ছাড়বে আজমীর জংশনের উদ্দেশ্যে।ভারতে প্রথম ট্রেন জার্নি হিসাবে আমাদের মাঝে বেশ উত্তেজনা কাজ করছিল ফলে রাতে তেমন ভালো ঘুমও হয়নি।২নং প্লাটফর্মে আমাদের ট্রেন আসার কথা সে অনুযায়ী আমরা প্রায় একঘন্টা আগে থেকে ঐস্থানে গিয়ে হাজির হই।নিউ দিল্লি রেল স্টেশনে মোট ১৬ টি প্লাটফর্ম থেকে একযোগে সারাদেশে ট্রেন যাতায়াত করায় বেশ লোকজনের আনাগোনা সারাক্ষণ থাকে। ভোর ৫ঃ৪৫ এর দিকে গাড়ি নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে চলে আসল।আমরা নির্দিষ্ট আসনে গিয়ে বসলাম।ট্রেনটি ঠিক ৬ঃ১০ মিনিটে নিউ দিল্লি স্টেশন ছাড়ে।আজমীর শতাব্দী (১২০১৫ নং গাড়ি) ভারত রেল এর ভালো মানের ট্রেনের অন্তর্ভুক্ত। পুরো গাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।আসন সংখ্যাও পূর্ব নির্ধারিত।হকার কিংবা অন্যকোন বাড়তি লোকের গাড়িতে উঠার সুযোগ নেই।ফলে নির্বিঘ্নে দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া যায় কোনরূপ ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই।প্রাতঃরাশ থেকে মধ্যাহ্ন ভোজ সবই টিকেটের আওতায় পরিবেশন করা হয়।টিকেট বুকিং এর সময়ই জানিয়ে দিতে আমিষ অথবা নিরামিষ মেন্যু। নিউ দিল্লি থেকে ক্যান্টনমেন্ট ধরে আরো ৮ টি স্টেশন ধরে গাড়িটি জয়পুর হয়ে আজমীর স্টেশনে পৌছায়।যাত্রাপথে প্রতিটি স্টেশনে ২ মিনিট করে যাত্রী উঠানো/নামানোর জন্য থামে।কেবল জয়পুর-,রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী,স্টেশনে ০৫ মিনিট থামে।মজার ব্যাপার হলো গাড়িটি যেই স্টেশনে যেই সময়ে পৌছাবার কথা ঠিক ঐ সময়েই হাজির হয়।পরপর ১০ স্টেশন আমি লক্ষ্য করলাম ব্যাপারটি।আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছিনা প্রতিটা স্টেশনে গাড়িটি তার পূর্বঘোষিত সময়েই পৌছাল এবং আমার আজমীর জংশনেও নির্ধারিত সময় দুপুর ঠিক ১২ঃ৫৫ মিনিট পৌছাই।
আজমীর শরীফের খাদেম নাদিম চিশতি (র.) এর মেহমান হিসাবে আমাদেরকে রিসিভ করার জন্য আজমীর জংশনে রুস্তম ভাইকে পাঠানো হয়েছিল।উনি আমাদের রিসিভ করে জংশনের কুলি ও টুকটুক(টমটম) যোগে খাদেমের মেহমান খানায় নিয়ে যান।সেখানে আমাদের থাকার বন্দোবস্ত করা হল।২ খাটের বড় এসি রুম।আমাদের তিন জনের থাকার জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হলো।কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে খাদেমের সাথে সাক্ষাৎ করি।সাক্ষাৎ পরবর্তী খাদেমের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরই সহযোগিতায় গরীবে নেওয়াজ খাজা মঈনউদ্দীন চিশতি(র.) এর মাজার শরীফ জিরারত করি।জিরারতের পর উনি আমাদের নিয়ে খোদার কাছে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।ঐদিন আসর ও মাগরিব নামাজ মাজার সংলগ্ন মসজিদে আদায় করি এবং মাজারে আগত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের সাথে গণ ইফতার শামিল হই।আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে মাজারে বিভিন্ন নিদর্শন যেমন খাজা বাবার ডেক,মোঘল সম্রাটদের দেওয়া নানারকম উপহার সামগ্রিক ইত্যাদি পরিদর্শন করি।
চলবে….

উখিয়া নিউজ ডটকমের   সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

লেখক,
জিয়াউর রহমান মুকুল,
উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য ও পুষ্টি)
শেড,কক্সবাজার।
ইমেইলঃ[email protected]

পাঠকের মতামত