ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৭/১২/২০২৩ ৭:৩৭ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যভর্তি ট্রাক ডাকাতির সঙ্গে খোদ সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) যোগসাজশের অভিযোগ ওঠেছে। ওসি তার নিজস্ব সিভিল সোর্সের মাধ্যমে ডাকাতি করার পর, চাপে পড়ে ফেরত দেন লুট হওয়া পণ্যের চেয়েও ৫ টন বেশি। পুলিশ সদরদপ্তরের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিন অনুসন্ধানেও সীতাকুণ্ড পুলিশের চাঁদাবাজি ও হয়রানির সত্যতা মিলেছে। ওসি অভিযোগ অস্বীকার করলেও জেলার এসপি বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সীতাকুন্ডের জলিল গেট এলাকায় গত ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টায় ডাকাতি হয় ৩৫ টন পিগ আয়রনভর্তি ড্রাম ট্রাক। লোহার রড তৈরির এই কাঁচামালের দাম প্রায় ২০ লাখ টাকা। সামনে পুলিশের পিকআপের র‍্যারিকেড দিয়ে ট্রাক আটকে মালামাল লুট হয়, যার মালিক আবুল খায়ের গ্রুপ।

ad
অভিযোগ আছে, সীতাকুন্ড থানার কনস্টেবল কৃষ্ণ দাশ চাকমা ও হামিদ হোসাইনের সহযোগিতায় ওসি’র পাবলিক সোর্স জহির ও ফারুক ড্রাম ট্রাকটি আটক করে এবং অন্য একটি ট্রাকের করে তা নিয়ে যায় অজ্ঞাতস্থানে।

পিগ আয়রণ বিক্রির ট্রাকার অর্ধেক টাকা ওসি নিজে এবং বাকি টাকা দুই পুলিশ এবং ওসির দুই সিভিল সোর্সরা ভাগাভাগি করে নেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগিরা মামলা করলে উপরের কর্মকর্তাদের চাপে পুরো মাল উদ্ধায় দেখায় পুলিশ। এমনকি ৩৫ টন চুরি হলেও বাদি ৩৮ টন মালামাল ফেরত পায় মালিক। অবশ্য থানার ওসি বলেন, ফেরত দেয়া হয় ৪০টন পণ্য।

সীতাকুন্ড থানার ওসি তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ‘বেশি বলতে কি এটা অনুমানের ওপর নির্ভর করছে ৩৩ থেকে ৩৫ টন। এখানে দেখেন অনুমান লেখা আছে। আমরা এখান থেকে আর ওখান থেকে মিলে ওটা উদ্ধার করেছি। এটা ৪০ টনের কাছাকাছি।’

আর মামলার বাদি বলছে, নিজের টাকাতেই তারা বগুড়া থেকে ট্রাকভাড়া করেই এনেছেন। পণ্য ফেরত পেতে সহায়তা ছিল পুলিশের।

বিসমিল্লাহ ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘এটার সাথে চোর যারা সিন্ডিকেট সীতাকুণ্ডের আশে পাশে বিভিন্ন স্টাফের যারা চোর সিন্ডিকেট তারাই মুলত এটার সাথে জড়িত বলে আমাদের কাছে খবর আছে।’

অন্যদিকে ডাকাতি মামলায় মালামাল উদ্ধার হলেও আদালতের অনুমতি না নিয়ে বাদিকে ড্রাম ট্রাকমহ মালামাল বুঝিয়ে দেন থানার ওসি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনি যে বিষয়টির কথা বললেন, এটা আমাদের নজরে এসেছে। মামলাটি এখন তদন্তাধীন অবস্থায় আছে। এটা আমরা ইনকোয়েলি করে দেখছি। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশেই ডাকাতির ঘটনা ঘটে বেশি। ডাকাতিতে খোদ পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে তাদের। সুত্র: আইটিভি

পাঠকের মতামত

যেভাবে ভুয়া জন্মসনদ এনআইডি ও পাসপোর্ট পাচ্ছে রোহিঙ্গা ও দাগি আসামিরা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সাদিয়া সুলতানা সাথি। পেশায় গৃহিণী। বিদেশ যাওয়ার কোনো স্বপ্ন নেই। নেই পাসপোর্টও। গৃহিণী ...

রাঙ্গামাটিতে স্পিডবোটে সন্তান প্রসব, ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ও আজীবন যাতায়াত ফ্রি

গত রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোটে এক শিশুর জন্ম হয়েছে। এঘটনায় ওই মা-শিশুর আজীবন ...