প্রকাশিত: ২৩/০২/২০১৭ ৯:৩৭ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার::

কারাগারের কথা শুনলেই চার দেয়ালে ঘেরা বন্দিজীবনের কথা মনে হয়। স্বজন, চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন এক জীবন। বন্দী কারাগার এবার ‘উন্মুক্ত’ হচ্ছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বড়বিল গ্রামে দেশের প্রথম ‘উন্মুক্ত কারাগার’ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কারাগার হবে মূলত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সংশোধন ও পুনর্বাসনকেন্দ্র। ৩২৫ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে এই কারাগার। আগামী জুন মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি কারাগার করার ব্যাপারে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন প্রকল্পটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। তবে আশা করছি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।’
‘উন্মুক্ত কারাগার’-এর বিষয়টি ব্যাখ্যা করে একজন কারা কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত সাজার অর্ধেকের বেশি সময় যেসব বন্দী পার করেছেন এবং যাঁরা কারাগারে ভালো আচরণ করেছেন, কেবল তাঁদেরই উন্মুক্ত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এই প্রশিক্ষণে যাঁরা ভালো করবেন, তাঁদের উন্মুক্ত কারাগারের বাইরেও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এসব বন্দী সকালে কাজের জন্য কারাগার থেকে বেরিয়ে যাবেন, সন্ধ্যায় কাজ শেষে আবার উন্মুক্ত কারাগারে ফিরে আসবেন। কেউ ফিরে না এলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে পরোয়ানা জারি করে গ্রেপ্তার করা হবে। পালানোর ঘটনার মামলায় তাঁকে নতুন করে সাজা ভোগ করতে হবে।
উখিয়ার বড়বিল গ্রামের ৩২৫ দশমিক ৫০ একর খাসজমিতে উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান কক্সবাজারের জেল সুপার বজলুর রশিদ।
১৭ ফেব্রুয়ারি উন্মুক্ত কারাগারের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শনে উখিয়ার বড়বিল গ্রামে যান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, ‘জেলখানায় থাকা বন্দীরা আমাদের কারও ভাই, বন্ধু বা স্বজন। তাদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে সরকার উন্মুক্ত কারাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে বন্দীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হবে।’
উন্মুক্ত কারাগারের জন্য যে জমি নির্বাচন করা হয়েছে, তা বন বিভাগের। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে অধিগ্রহণ করা জমি হস্তান্তরের পর কারাগারে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।
উন্মুক্ত কারাগারে স্বাধীনতা পেয়ে কোনো বন্দী পালিয়ে যাবে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক কারা উপমহাপরিদর্শক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, যে বন্দী ১০ বছরের মধ্যে ৮ থেকে ৯ বছর সাজা ভোগ করেছেন, তাঁকে প্রশিক্ষণ শেষে বাইরে কাজ করার সুযোগ দিলে পালানোর সম্ভাবনা কম। কারণ, পুনরায় গ্রেপ্তার হলে তাঁকে আরও বেশি সাজা ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, অর্ধেক সাজা ভোগ করা বন্দীদের এভাবে উন্মুক্ত কারাগারে নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে অন্য বন্দীরাও ভালোভাবে চলবে। কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হবে না। কারণ, রেকর্ড ভালো থাকলে উন্মুক্ত কারাগারে যেতে পারবে। এ ছাড়া কারাগারগুলোতে বাড়তি বন্দীও থাকবে না/ প্রথম আলো

পাঠকের মতামত