প্রকাশিত: ১৬/১০/২০১৬ ৯:২০ এএম

উখিয়া নিউজ ডটকম::

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বা পিইডিপি-৩ এর আওতায় উখিয়ায় নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৪ বছরেও নিয়োজিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়সমূহের লেখাপড়া ব্যাহত করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুই-তিন জন করে শিক্ষক প্রেষনে নিয়োজিত করে কোন রকমে ৪টি বিদ্যালয় চালু করা হলেও একটি চালু করা যায়নি। সরকারের বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে এসব বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

উখিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের সর্বত্র বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১৫০০টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে উখিয়ায় ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। উখিয়া সদরের রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ফলিয়াপাড়া নুরুল ইসলাম চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাঙ্গর ঘোনায় অরবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ছালেহ বুলবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জালিয়াপালং ইউনিয়নে আবদুর রহমান বদি এমপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পালংখালী ইউনিয়নের উপজাতি তঞ্চঙ্গাঁ অধ্যুষিত মোছার খোলার হাজী গোরা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন আধুনিক নির্মাণ শৈলীর মিশ্রণে নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় বিহীন এসব এলাকায় নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় খুবই খুশি। তাদের মতে বিদ্যালয় হওয়ায় আশপাশের শিশুরা আর শিক্ষা বঞ্চিত থাকবে না।

সরজমিনে প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর কোলাহল থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় লেখা পড়া ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে চালুকৃত ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৬শ জন বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্য স্কুল থেকে ধারে অর্থাৎ প্রেষণে দুই/তিন জন করে শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে।

৪টি বিদ্যালয়ের দুইটিতে দুই জন করে ও অন্য দুইটিতে তিনজন করে প্রেষণ শিক্ষক দিয়ে কোন রকমে পাঠদান চালু রাখা হলেও পালংখালী ইউনিয়নে হাজী গোরা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের ৩ বছরেও শিক্ষক সংকটের কারণে চালু করা সম্ভব হয়নি।

এ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমি দাতার ছেলে আলী হোসেন বলেন, বিদ্যালয়বিহীন এলাকার একই সাথে প্রতিষ্ঠিত অন্য ৪টি বিদ্যালয় চালু করা হলেও আমাদের বিদ্যালয়টি চালু করা হয়নি। এতে স্কুল সংলগ্ন গ্রামগুলোর শত শত স্কুল গমনোপযোগী শিশু ও অভিভাবকদের প্রবল ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকা সত্বেও লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে।

তিনি সহ স্থানীয়রা জানান, আমাদের এলাকা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দুরে পালংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও পাহাড়ি, জঙ্গলাকীর্ণ গ্রাম থেকে নিরাপত্তা ও যাতায়াত সমস্যার কারনে এসব শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না।

এলজিইডি উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ বলেন, ৩ বছর পূর্বে টিকাদারের মাধ্যমে মোছারখোলায় হাজী গোরা মিয়া সরকারি প্রাথমিক ভবনটি নির্মাণ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি চালু না হয়ে অব্যবহৃত থাকায় এটির চতুর্দিকে জঙ্গল উঠে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উখিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শামীম ভূঞা বলেন, আগে যে কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োজিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন থাকায় বিদ্যালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা করছি আগামী জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়টি চালু করা সম্ভব হবে।

পাঠকের মতামত

সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক ১

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে উত্তীর্ণ হলেও মৌখিকে ধরা ...

গহীন পাহাড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, যা বললেন কুকি চিনের আকিম বম

বান্দরবানে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী শাখার বান্দরবান সদর ও ...