প্রকাশিত: ০৭/০১/২০১৭ ৮:০৫ এএম

সরওয়ার আলম শাহীন::

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুলিশ ও রাখাইন সম্প্রদায়ের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা বিপুল পরিমান রোহিঙ্গাদের নিয়ে বানিজ্যের পর বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে উখিয়া উপজেলায় অনিয়ন্ত্রিত কুতুপালং বাজার গড়ে উঠেছে।বনবিভাগের বিশাল জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গা বস্তি। নিয়ন্ত্রনহীন লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্থানীয় জনগন সহ প্রসাশন বেকায়দায় রয়েছে। তার উপর নতুন করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বালুখালী এলাকায় রোহিঙ্গা বাজার ও বস্তি সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে স্থানীয় ইউপি মেম্বার নুরুল আবছার ও ইয়াবা নিয়ে আটক হওয়া ইউপি মেম্বার বখতিয়ারের ভাই জাহাঙ্গীর। এ লক্ষ্যে তারা মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আনার নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে।প্রলোভন দিচ্ছে বনবিভাগের জায়গায় ফ্রি বাড়ীঘর নির্মান করে দেওয়া সহ আর্থিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতার। ইতিমধ্যে বালুখালী এলাকার পানবাজারের অদুরে বনবিভাগের জায়গায় কয়েক,শ বাড়ী নির্মান করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ছলে বলে কৌশলে রোহিঙ্গাদের এদেশে নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ- মিযানমার সীমান্তে নিয়োগ করা হয়েছে দালাল।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার ইউপি মেম্বার নুরুল আবছারের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর,আবদুর রহিম,মনছুর আলী,কামাল,ইছমাইল সহ ২০/২৫ একটি সিন্ডিকেট বালুখালী পানবাজারের অদুরে বনবিভাগের বিশাল এলাকা জবর দখল করে তাতে ঝুপড়ি ঘর নির্মান করে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের বালুখালীতে পুনবাসনের লক্ষ্যে।তাদের উদ্দেশ্যে বালুখালীর অদুরে রোহিঙ্গা বস্তি ও বাজার সৃষ্টি করা। ইতিমধ্যে বনবিভাগের জায়গায় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বালুখালী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জাফর ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, ইউপি মেম্বার আবছার তার সহ তার সিন্ডিকেট বেশকিছু জায়গায় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ও এপারে দালাল নিয়োগ করে তারা অশুভ উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের এদেশে নিয়ে আসছে।পায়তারা চালাচ্ছে বালুখালী রোহিঙ্গা বাজার ও বস্তি করার।স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন বালুখালী এলাকায় অপরিচিত লোকজন ত্রাণ বিতরণের নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।প্রতিদিন রাতের আধাঁরে ও ভোররাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে টিম এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত ও নগদ টাকা বিতরণ করে যাচ্ছে বাধাঁহীনভাবে।এ কাজে সরকারের তথা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হচ্ছেনা বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।মানবিক দৃষ্টিকোন ছাড়াও রোহিঙ্গাদের অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের লক্ষ্যে একাধিক জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গাদের মাঝে নগদ টাকা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছে।এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা জঙ্গীরা কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সীমান্তবর্তী জনগনের মতে, বালুখালী এলাকায় নতুন বস্তি ও বাজার সৃষ্টির খবরে নতুন করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে।ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাতে এসব দালালদের সীমান্ত পয়েন্টগুলোর বিভিন্ন স্থানে নিয়োজিত রেখেছে আবছার সিন্ডিকেট। তাদের লক্ষ্য বালুখালীতে রোহিঙ্গা বস্তি ও বাজার দেখিয়ে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ এনে আত্মসাত এবং নতুন আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে দল ভারি করা। এ ব্যাপারে সুসাশনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি নুর মুহাম্মদ সিকদার বলেন, কুতুপালং বস্তি এমনিতেই নিয়ন্ত্রনহীন,তার উপর বালুখালীতে আর একটি বাজার সৃষ্টি হলে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি। বনবিভাগের জায়গায় ঝুপড়ি ঘর নির্মানের ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া রেজ্ঞ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, বালুখালীতে ঝুপড়ি উচ্ছেদ করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের হাতে বনকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের ইন্ধন ছাড়া রোহিঙ্গাদের সাহস নেই যে বনকর্মীদের উপর হামরা করার।তবুও আমি উপরি মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছি।

পাঠকের মতামত