
উখিয়ায় একটি ধর্ষণ মামলায় সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপির) এক স্বেচ্ছাসেবককে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে।
গ্রেপ্তারকৃত জসিম উদ্দিন (২৮) উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের খেওয়াছড়ি এলাকার নজু মিয়ার পুত্র। তিনি সিপিপির একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জানা যায়, সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই জসিম বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অফিসের প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা কাজের সুযোগ নিয়ে তিনি অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ক্যাম্প ফোকালের দায়িত্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও প্রকাশ পায়, তৎকালীন কক্সবাজার জোনের উপ পরিচালক হাফিজের প্রশ্রয়ে অফিসের কেনাকাটাসহ নানা কার্যক্রমে তার একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের হয়রানি করতেন তিনি।
গত তিন মাস আগে দুর্যোগ সাড়াদান মহড়ায় অংশ নেওয়ার নাম করে একই এলাকার এক নারী স্বেচ্ছাসেবককে (ছদ্মনাম রহিমা) কক্সবাজারে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন জসিম। বর্তমানে ওই নারী চার মাসের গর্ভবতী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, অপরাধের অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) কিছু অসাধু ও প্রতারক শ্রেণির স্বেচ্ছাসেবক নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নারী স্বেচ্ছাসেবকদের হয়রানি করাসহ অনেক পরিবারে অশান্তি ও সংসার ভাঙার মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, এ ধরনের অপকর্মকারীদের কারণে পুরো সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাই এদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাঠকের মতামত