প্রকাশিত: ২৭/১০/২০১৬ ৭:৪২ এএম , আপডেট: ২৭/১০/২০১৬ ৯:৩৪ এএম
sharif-2-6-674x525ঊর্মি বড়ুয়া::
 জোহরা ফেন্সী মাহ্মুদা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডাইরেক্টর। দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকলেও রান্নার প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ ভালোবাসা। ভীষণ খাদ্যরসিকও তিনি। তবে কাজের ব্যস্ততায় সবসময় খাবার তৈরির সুযোগ হয় না। আবার সময় করে রেস্টুরেন্টে যাওয়ার সুযোগও মেলে না তাঁর। তাই ঘরে বসে পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে সুস্বাদু খাবার গ্রহণের বিকল্প হিসেবে বেছে নিলেন ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের। ব্যস্ততার মাঝে ঘরে বসেই নিত্যনতুন, রেস্টুরেন্টে তৈরি খাবারের স্বাদ পেতে ফুড সার্ভিসের বিকল্প নেই বলে জানালেন তিনি। বললেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করেই পছন্দের খাবার পেতে পারেন সবসময়।

গত তিন বছরে নগরে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের সংস্কৃতি। যা নাগরিক জীবনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ব্যস্ত জীবনে ভিন্ন স্বাদের খাবার পেতে নির্ভরতা বাড়ছে ফুড ডেলিভারির উপরে। ‘ফুডপান্ডা’ নামের একটি বহুজাতিক ও ‘হাংগ্রিনাকি’ নামে দেশীয় ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের শাখা গড়ে উঠেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় এই ফুড ডেলিভারি সেবা।
নগরের কর্মব্যস্ত বাসিন্দাদের মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে ঘরের দরজায় পছন্দের খাবার পৌঁছে দেওয়াই ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের কাজ। অনলাইনে অথবা মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে খাবারটির ফরমায়েশ দিতে হবে। এক ঘণ্টার মধ্যেই পেয়ে যাবেন পছন্দের খাবার। সময় বাঁচিয়ে ভালো খাবার পেতে প্রযুক্তির এই ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই নিচ্ছেন এই সেবা। তেমনি একজন প্রিমিয়ার ভার্সিটির শিক্ষার্থী পৌলমী দাশগুপ্ত। পরিবার ছেড়ে নগরীর এক হোস্টেলেই থাকেন বান্ধবীদের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ব্যস্ততার দরুণ অনেক সময় খাবার রান্না করা হয়ে ওঠে না। তাই অনেকদিন ধরেই ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার সংগ্রহ করছি। অর্ডার করার ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই খাবার চলে আসে।
অনেকদিন ধরেই ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের সেবা নিয়ে আসছেন কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা শেখর দেব। তিনি বলেন, সুবিধামতো খাবার নিতে পারি বলেই ফুড ডেলিভারি সার্ভিস ব্যবহার করি। আপনার এখন পিৎজা খেতে ইচ্ছে করছে, অর্ডার করুন চলে আসবে। এমনকি বাসায় কোন অতিথি এলেও কোন সমস্যা নেই। অতিথির সাথে গল্প করতে করতেই খাবার চলে আসবে বাসায়।
ফুডপান্ডা : ২০১৩ সালে নভেম্বরে ঢাকায় যাত্রা শুরু করে ‘ফুডপান্ডা’। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, সিলেটে শাখা খোলা হয়। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে শাখা খোলে ‘ফুডপান্ডা’। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে ফুডপান্ডার মাধ্যমে ফুড ডেলিভারি করে প্রায় ৫শ টি রেস্টুরেন্ট। ফুড ডেলিভারির কার্যক্রম চলে সকাল ১১ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত। অর্ডার পাওয়ার পর ৬০ থেকে ৭০ মিনিটের মধ্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। সেইক্ষেত্রে খাবারের দামের পাশাপাশি ৬০ থেকে ১০০ টাকা ডেলিভারি চার্জ নেওয়া হয়। ফুডপান্ডার হেড অব মার্কেটিং সাকেরিন খালেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘শহরের ব্যস্ত নাগরিক যাতে ঘরে বসে সময় বাঁচিয়ে খাবার পেতে পারেন এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ এই সময় তিনি জানালেন গত ২২ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ‘অনলাইন ফুড ফেস্টিবল’ সম্পর্কে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের ১০০ টি রেস্টুরেন্টের স্পেশাল খাবারের আইটেম নিয়ে সাজানো হয়েছে এই ফেস্টিবল। ফেস্টিবল উপলক্ষে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় রয়েছে খাবারগুলোতে। এছাড়া একটি খাবার কিনলে সাথে আরেকটি খাবার পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এই ফেস্টিবলের খাবারগুলো পাওয়া যাবে শুধুমাত্র ‘ফুডপান্ডা’র মাধ্যমে। এই ফুড ফেস্টিবল চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। বহুজাতিক ফুড ডেলিভারির সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘ফুডপান্ডা’র শাখা রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়াসহ বিশ্বের ৩৯টি দেশে।
হাংগ্রিনাকি : হাংগ্রিনাকি সম্পূর্ণ দেশীয় ফুড ডেলিভারি কোম্পানি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে রয়েছে তাদের শাখা। তিন জেলার প্রায় ৭শ রেস্টুরেন্ট ‘হাংগ্রিনাকি’র ম্যাধমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় তাদের খাবার পৌঁছে দেয়। চট্টগ্রামে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। নগরীর ১শটি রেস্টুরেন্ট ‘হাংগ্রিনাকি’র আওতাধীন। সকাল ১০ টা থেকে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত খাবার ডেলিভারির কাজ পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম শাখার নির্বাহী ম্যানেজার তুষার আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের সাড়া পাচ্ছি আমরা। প্রায় প্রতিদিন ১শ থেকে দেড়শ খাবারের ডেলিভারি করি আমরা। আবার ক্ষেত্র বিশেষে ২শ, আড়াইশ খাবারেরও ডেলিভারি হয়। তিনি আরো জানালেন, রমজান উপলক্ষেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। তখন দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, আবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত খাবার ডেলিভারি দেওয়া হয়।
কর্মসংস্থান : ফুড ডেলিভারি এই সার্ভিসের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অনেক তরুণের। জানা যায়, প্রায় ২০ হাজার তরুণ যুক্ত আছেন এই কাজে। অনেকে আবার পার্টটাইম হিসেবে কাজ করছেন এখানে। প্রায় ১ বছর ধরে পার্টটাইমার হিসেবে কাজ করছেন মো. সাইফ। বলেন, পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্যই পড়ালেখার পাশাপাশি এই কাজে যুক্ত হয়েছেন তিনি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি’র শিক্ষার্থী তিনি।
যেভাবে পাবেন : পছন্দের খাবার অর্ডার করতে প্রথমেই ঢুকতে হবে ইন্টারনেটে। মোবাইল গুগল প্লে স্টোর, গুগল স্টোর বা উইন্ডেজ স্টোর থেকে ফুডপান্ডা বা হাংগ্রিনাকি’র অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। অথবা যেতে হবে ফুডপান্ডা বা হাংগ্রিনাকি’র ওয়েবসাইটে। ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে নিজের নাম, বাসার ঠিকানা বা অফিসের ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্ট খুলতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের পর ইমেইল ও পাসওর্য়াড দিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন সেবাটি। এরপর পছন্দের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করতে পারবেন। অর্ডার নিশ্চিত করলে কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার থেকে যোগাযোগ করা হবে আপনার সাথে। খাবার পৌঁছে যাবে দোরগোড়ায়। চাইলে খাবার পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। অথবা অর্ডার দেওয়ার সময় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের বিকল্প বেছে নিতে পারেন।

পাঠকের মতামত

সীমান্তে পরিবর্তন হতে পারে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত উখিয়া উপজেলার নিকটবর্তী ...

ঘুমধুম সীমান্তে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের নোয়াপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় ...