প্রকাশিত: ০১/০৮/২০১৬ ৮:২১ এএম

নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের টেকনাফে গোপন বৈঠককালে উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া থেকে আটক আরএসও নেতা হাফেজ সালাউল ইসলাম সহ ৩ জনকে রবিবার রাত ১২টার দিকে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।তবে সৌদি নাগরিক আহমদ আল সালেহ আল বাদি এখনও বিজিবি হেফাজতে রয়েছে।

বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল বিজিবি সদস্য রবিবার রাত ১২টার দিকে ঐ তিনজনকে থানায় নিয়ে এসে সোপর্দ করেন। এসময় তাদের গ্রহণ করেন টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত কবির হোসেন। তবে তাদেও বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আনা হয়েছে তা জানায়নি পুলিশ। গত শনিবার দুপুরে তাদেরকে আটকের পর থেকে বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে রাখা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আব্দুল মজিদ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের মধ্যে হাফেজ ছালাহুল সহ তিনজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিজিবি হেফাজতে আটককৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রথমে তাদেরকে আলাদা আলাদা ভাবে,আবার পরে ৪ জনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রবিবার সকাল থেকে টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল মজিদ সহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আসা যাওয়া করতে দেখা গেছে। দুপুরে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে গেলেও ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

অপরদিকে বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল আবুজার আল জাহিদের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে এব্যাপারে পরে সাংবাদিকদের জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় এমপি বদির সংশ্লিষ্টতা এবং বিজিবিকে আটকে বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি ছিল টেকনাফে টক অব দ্য টাউন।

কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় এমপি বদি বিজিবি সদস্যদের উক্ত ৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতারে বাঁধা দেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর এ ব্যাপারে বিজিবির বক্তব্য জানতে অসংখ্যবার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু বিজিবির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।tttttt222

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)জাহেদ ইকবালের সাথে সেদিনের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও বিজিবি অধিনায়ক সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে শনিবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থলে যান।এর কিছুক্ষন পর উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও এমপি বদি ঘটনাস্থলে পৌছেন বলে জানান তিনি। তবে এমপি বদির বাঁধা দেওয়ার মতো কোন ঘটনা উনার সামনে ঘটেনি বলে জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলমের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ও একই কথা বলেন। বাঁধা দেওয়ার কোন ঘটনা তিনি শুনেননি বলে জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি বদির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর শুনে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি সৌদি নাগরিকের পার্সপোর্ট ভিসা পরখ করে দেখেন। একপর্যায়ে শত শত লোকজন ঘটনাস্থল টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় মৌলভী সৈয়দ করিমের বাড়ির সামনে জড়ো হতে দেখে তিনি ধৃতদের থানা পুলিশে সোপর্দ্য করতে বিজিবিকে বলেন। বিজিবি অধিনায়ক তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলার পর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য শনিবার টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় মৌলভী সৈয়দ করিমের বাড়িতে বিদেশী নাগরিক সহ গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ।  এসময় এক সৌদি নাগরিকসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে সৌদি নাগরিক আহমদ আল সালেহ আল বাদি, আলোচিত আরএসও নেতা সালাউল ইসলাম, ঢাকার মৌলভী ইব্রাহিম ও টেকনাফ শামলাপুর দার”ল ইসলাম মাদ্রাসার সভাপতি মৌলভী সৈয়দ করিম রয়েছে।

এদের মধ্যে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) নেতা ছালাউল ২০১৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার এক পাকিস্তানিসহ পাঁচজনের মধ্যে ছিলেন। রামুতে বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার ঘটনায়ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এছারা ছালাহুল ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহযোগিতায় কক্সবাজার সরকারি কলেজের পেছনে পাঁচ একর পাহাড়ি জমিতে (দক্ষিণ মুহুরীপাড়া) একটি ইমাম মুসলিম সেন্টার নামে ব্যয়বহুল মাদ্রাসা তৈরি করেন। তিনি ওই মাদ্রাসার পরিচালকও।

এদিকে বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে জনৈক সৌদি দানবীর বাহারছড়া এলাকায় একটি হেফজখানা ও এক উন্নতমানের ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় দাতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক চলছিল। অনুমতি বিহীন এই বৈঠকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে উপরোক্তদের আটক করে।এসময় এক তুর্কী নাগরিকসহ ৪/৫জন লোক পালিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি জঙ্গি আটকের খবর হিসেবে ভাইরাল হয়ে সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশ ব্যাপী হৈ ছৈ পড়ে যায়।t1

পাঠকের মতামত