প্রকাশিত: ২৯/০৮/২০১৭ ৭:১৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:২৬ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতায় আহত আরও ১২ জন রোহিঙ্গাকে গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে পারভেজ (২২) ও নুরুল হাকিম (২৬) নামে দুজন অগ্নিদগ্ধ রোগীও রয়েছেন। তারা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
গুলিবিদ্ধরা হলেন জুনায়েদ (২৩), খালেদ হোসেন (১৯), জান্নাতুল (২৫), মামুনুর রশিদ (২৭), নুরুল আলম (১৬), সাদেক (২০), সাকের (২৭), জাহেদ (২২), আবুল কাসেম (২০) ও নুরুল আমিন (২৩)। এ নিয়ে গত ৩ দিনে মিয়ানমার থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালিয়ে আসা ১৯ জন রোহিঙ্গাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। এর মধ্যে মুছা নামে এক রোহিঙ্গা গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, আহতরা সবাই কক্সবাজার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
আহতরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মামুনুর রশিদ বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে নিরস্ত্র রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষদের গুলি করে হত্যা করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মংডু, বুথিডাউং ও রাথেডাউং এলাকায় সেনাবাহিনী সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালাচ্ছে।’
চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মংডুর বাসিন্দা সাকের জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রামে ঢুকে নিরীহ রোহিঙ্গাদের এলোপাতাড়ি গুলি করছে। তারা আমাদের গ্রামের অন্তত ১২ জনকে হত্যা করেছে। বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।
চিকিৎসাধীন জিয়াবুল বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে-‘তোমরা এ দেশ থেকে চলে যাও। এটা তোমাদের দেশ না। তোমরা বাঙালি সন্ত্রাসী। যেদিকে পার সেদিকে চলে যাও।’ তাদের নির্মম নির্যাতন থেকে নবজাতকও রক্ষা পায়নি।’
প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১১ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গার বসবাস। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার হন। কয়েক প্রজন্ম ধরে বাস করলেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে দাবি করে মিয়ানমার এবং তাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...