রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশী নকল এনআইডি কার্ড

আবদুল্লাহ আল আজিজ::

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশী নকল এনআইডি কার্ড
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা এদেশের জন্য অনেক সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং করেই চলেছে। তারা মাদক ও অস্ত্রের বিস্তার, হত্যাকান্ড, অপহরণ, ধর্ষণ, স্বর্ণের চোরাচালান, অবৈধ সিগারেট পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানেও তাদের দমানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারা এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করছে অবৈধ উপায়ে। ক্যাম্পে একটি চক্র রোহিঙ্গাদের মাঝে এসব টাকার বিনিময়ে করে দিচ্ছে। আর তাদের ধরতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

তারই ধারাবাহিকতায় ভুয়া বাংলাদেশী এনআইডি প্রস্তুত করে রোহিঙ্গাদের নিকট সরবরাহ করায় ভুয়া এনআইডি ও এনআইডি তৈরির সরঞ্জামসহ এক রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড একশ্যান ব্যাটালিয়ন র‍্যাব -১৫।

গতকাল ১লা আগষ্ট (সোমবার) উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাব-১৫ সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল এন্ড মিডিয়া) মোঃ বিল্লাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে র‍্যাবের নজরে আসে একটি চক্র অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে এনআইডি কার্ড প্রস্তুত করতঃ তা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিকট বিক্রি করছে। যার ফলে ওইসব এনআইডি ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া করে থাকছে এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করছে।
যা নিয়ে র‍্যাব চক্রটি সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করলে র‍্যাবের কাছে খবর আসে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ টাকার বিনিময়ে ভুয়া এনআইডি কার্ড প্রস্তুত করে তা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিকট সরবরাহ করে আসছে।

সে তথ্য অনুযায়ী র‍্যাবের চৌকস আভিযানিক দল কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালায় এবং ক্যাম্প-৫ এর অ-৯ ব্লকের নুরে আলমের পুত্র জহুর আলমকে গ্রেপ্তার করে এবং ধৃত ব্যক্তির বসতঘর তল্লাশী করে ৫ টি ভুয়া এনআইডি,১ টি ল্যাপটপ,১ টি কিবোর্ড,১ টি মাউস,৩ টি ল্যাপটপের চার্জার, ৭ টি পাওয়ার ক্যাবল,৪ টি পাওয়ার ইনভার্টার, ১ টি পেনড্রাইভ, ২ টি ব্যাটারি,২ টি মাল্টিপ্লাগ,২ বক্স লেমোনেটিং পেপার,২ টি রঙ্গিন প্রিন্টার এবং ২ টি রঙ্গিন প্রিন্টারের কালি উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন যাবৎ ভুয়া বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করে তা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিকট সরবরাহ করে বিপুল পরিমানে অর্থ আদায় করছে বলে স্বীকার করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে রামু থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন জাল সনদপত্র এবং এসব তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে ৮ আমর্ড পুলিশ-এপিবিএন।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন