মেয়াদ শেষে হাসি, নাকি শুভংকরের ফাঁকি ???

“ঘুঘু তুমি বারে বারে খেয়ে যাও ধান, এইবার ঘুঘু তোমার বাঁধিবো পরান”

বারেবারে বাংলার জনগণ ধোঁকা খেয়ে এসেছে। ফাঁদে ফেলতে পারেনি কাউকে। এদেশের গণমানুষের মনটা সবচেয়ে সস্তায় পাওয়া যায়। মাথার উপর হাত বুলিয়ে দিলেই সব ভূলে থাকা যায়। কাঁধের উপর হাতটা রাখলেই মনটা মোমের মত গলে যায়। এ জাতি বড়ই আবেগী। যদিও এই আবেগকে প্রধান অস্ত্র বানিয়ে বারেবারে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে নেতারা। ভোটের আগে হলে যেমন তেমন, ভোটের পরে থাকি কেমন???

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। বলতে গেলে গোধূলি প্রায়। এক বছর সময় আছে। রাজনীতি অঙ্গনের আঙ্গিনাটা বড্ডবেশী প্রাচীরঘেরা হয়ে গেছে আজ। বাউন্ডারিতে থেকেই কেবল যার আঙ্গিনা, সেই যেমন খুশি, তেমন খেলে। দর্শকের গ্যালারি নাই। বাইরে থেকে কম বেশী অনেকে উকি ঝুঁকি মারে। অনেক সময় ভেসে আসে অট্টহাসির বিকট শব্দ। কখনোই বা হাততালির শব্দ। মাঝে মাঝে করুণ আর্তনাদের গুঞ্জন শুনা যায়। বাইরে থেকে যা বুঝার, তাই কেবল বুঝা সম্ভব। আর কত ইশারায় !!! কাজের কথা বলা যায়।

গতবারের জাতীয় নির্বাচনটা নিয়ে লোক-মুখে কিছুটা কৌতূহল পরিলক্ষিত হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির ধারে কাছে ঘেঁষিনি। এখনো না। (তার নিশ্চয়ই কারণ আছে)। তবে সবসময় যে ঘেঁষবনা, তা নয়। রাজনীতি যখন আমায় খুঁজবে? তখন? আমার দেখা রাজনীতির শিকড়-মূল কেবল বনসাই রাজনীতি। খোলাসা করে বলি। আমাদের এলাকা থেকে শুরু করে, আমার প্রতিবেশি এলাকা, এরপর প্রতিবেশি শহর। এমনকি গোটা দেশের রাজনীতি পরিবারতান্ত্রিক। বাবা রাজা ছিল বলেই ছেলে রাজা হবে, বিজ্ঞানী হলেই বিজ্ঞানী আর ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হবে। তবে ব্যতিক্রম হয় কেবল এক দূর্বল জায়গায়। কৃষকের ছেলে শিক্ষিত বেকার হয়। টাকাওয়ালার ছেলে হয় মস্ত বড় অফিসার। ঐ যে ইংলিশরা কথায় বলে- Money begets money.

 

তৃণমূল থেকে নেতা হবার খুব বিরল দৃষ্টান্ত আছে আমাদের দেশে। হয় মাঠে-ময়দানে। দৌঁড়াদৌঁড়িতে। মারামারি আর হানাহানিতে। কাজের কাজ করে যে জন, ভূক্তভোগী হয় আরেক জন।

বিগত ২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ইশতেহারের মধ্যে অন্যতম ছিল- ঘরে ঘরে চাকুরি দিবে। আহা!!! সারা দেশের মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। ভেবেছিল, এই বুঝি সরকার গঠন করলেই আমার ছেলে-মেয়ের একটা চাকুরি হবে। কোন রকম একটা গতি হবে। দু’বেলা ভাল তরকারি দিয়ে পেঠ পুরে খেতে পারব। যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নই রয়ে গেল।

 

দেশের শিক্ষিত লোকের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে লাগল। বাড়তে লাগল অদম্য যুবক মনে হতাশা। আশা-নিরাশার দোলাচলে কাটতে লাগল বিভীষিকাময় জীবন। দিন গড়াতে লাগল। বছর যাচ্ছে। এক দশক যাচ্ছে। তবু হাল দুনিয়ার সুওরত বদলালোনা। চাকুরি যে হচ্ছেনা তা নয়। হচ্ছে। হাতে গুনা কিছু বিশেষ লোকের। যেমন- মুক্তিযোদ্ধা কোটা, উপজাতি কোটা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি কোটা, নারী কোটা, লবিং কোটা, রাজনীতির সুপারিশ কোটা (অলিখিত), মেধা কোটা। ধরে নিলাম, আমার মেধা নাই। কথা হচ্ছে-দেশের সবাই যদি সমান মেধাবী হত, তাহলে কার কাজ কে করত????? তখন তো মাতব্বরি চলতনা। সেজন্যই আল্লাহ পাক এভাবে স্তরে স্তরে বানিয়েছেন। এখন রাষ্ট্র যদি বিমাতাসূলভ আচরণ দেখায়, তাহলে আমজনতার কি উপায় হবে??? (এখানে রাষ্ট্র বলতে নেতৃস্থানীয়দের বুঝিয়েছি)।

তাহলে এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভাল হয়না যে, ভাল মানের মেধাবিদের নিয়ে “ক শাখা”, মধ্যম মানের নিয়ে “খ শাখা” অন্যান্যদেরও এভাবে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করা যেতে পারে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। তাহলে আর আফসোস থাকতনা।

 

এখন সময় গড়িয়েছে। জনগণ বাড়ছে। শিক্ষিত লোক বাড়ছে, বেকার বাড়ছে, ছাত্র-ছাত্রী বাড়ছে। হতাশা বাড়ছে। বেকারদের আত্বহত্যা বাড়ছে। শুধুই চাহিদামত কর্ম বাড়ছেনা। (তবে মাঝে মাঝে ভিন্ন কিছু বিষয় নজরে আসে যেমন- আত্বহত্যার পর নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট আসে, নিয়োগপত্র আসে………)।

 

ঘরে ঘরে চাকুরির আধুনিক সংস্করণ আসছে এবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি এন পি) ‘র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ম্যাডাম ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামি জাতীয় নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে “শিক্ষা শেষ করে এক বছরের বেশি সময় বেকার থাকলে তিনি বেকার ভাতা দিবেন”। আমি মনে করি, এই ঘোষণাটি আগামি নির্বাচনের তুরুপের তাস। নিঃসন্দেহে এই ঘোষণা বর্তমান শিক্ষিত বেকারদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। রাজনীতির আধুনিক সংস্করণের এক অভিনব কৌশল। এই ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর করা অনেকটা চ্যালেঞ্জ হবে বি এন পি’র জন্য। তবে আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করলে আমরা পুরোপুরি আশাবাদী।

 

দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমসুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রতো জনগণের জন্য। যেখানে জনগণের অস্তিত্ব নেই, সেখানে রাষ্ট্রের কল্পনা করা যায়না।

 

তাই সময় এসেছে ভাবার, হে রাষ্ট্রের অভিভাবকমণ্ডলী। When there is will, there is a way.

 

 

এম জসিম উদ্দিন

বি.এ (সম্মান), এম.এ

সাবেক সভাপতি

উখিয়া স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব উখিয়া নিউজ- এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য উখিয়া নিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।