ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৬/০৪/২০২৫ ১০:১৫ এএম

ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন
আমি কোর্টের মাধ্যমে স্বামীকে তালাক দিই। সে জন্য তিনটি নোটিশ পাঠাই তাকে। কিন্তু সে প্রবাসে থাকে বলে স্বাক্ষর নেই। এখন অনেক জায়গা থেকে শুনছি, এই তালাক নাকি হয়নি। আমার বিয়ের বয়স চার বছর। বিয়ের প্রথম সপ্তাহেই আমার স্বামী প্রবাসে চলে যায়। প্রথম এক বছর আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এর পর থেকে সে আমার খোঁজখবর নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তালাক দিয়েছি। এই তালাক সঠিক হয়েছে কি না জানতে চাই।

মনিরা, সুনামগঞ্জ

উত্তর: আপনার প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব জীবনের জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। আপনি কোর্টের মাধ্যমে তিনটি তালাক নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু আপনার স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি স্বাক্ষর করেননি বা গ্রহণ করেননি। যদি কিছু বিষয় ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে আপনার তালাক হয়েছে।

কোর্টের মাধ্যমে তালাক

১৯৬১ সালের বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী, তালাক দিতে হলে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের (বা তাঁর প্রতিনিধি) মাধ্যমে লিখিতভাবে তালাকের নোটিশ পাঠাতে হয়।

প্রথম নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন (৩ মাস) সময় গণনা হয়। যদি এই ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী বা স্ত্রী পুনরায় মিল হওয়ার পদক্ষেপ না নেন বা সালিস না হয়, তবে ৯০ দিন পরে তালাক কার্যকর হয়ে যায়, স্বামীর স্বাক্ষর না থাকলেও বা নোটিশ গ্রহণ না করলেও।

স্বামীর অনুপস্থিতি/প্রবাসে থাকা

আপনার স্বামী প্রবাসে। তিনি যদি নোটিশ না পান বা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেন, তবু তালাকের ৯০ দিন পূর্ণ হলে তালাক কার্যকর হয়। স্বামীর স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু নোটিশটি স্বামীর বাংলাদেশের বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে নিশ্চয়। এসব ক্ষেত্রে নোটিশটি ডাকযোগে পাঠানোর পাশাপাশি ই-মেইলেও পাঠানোর কথা আমরা বলে থাকি। এই আইন স্বামীর অনুপস্থিতিতেও প্রযোজ্য।

কাগজপত্র ও রেজিস্ট্রেশন

যদি আপনি তালাকের তিনটি নোটিশ যথাযথভাবে পাঠিয়ে থাকেন এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তালাক রেজিস্ট্রি করা হয়, তাহলে তালাক পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর। এখন আপনার করণীয় বিষয় হবে স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা মেয়রের কার্যালয়ে গিয়ে তালাক কার্যকর হওয়ার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা। সেই সার্টিফিকেটই প্রমাণ করবে, আপনি এখন তালাকপ্রাপ্ত এবং আইনগতভাবে মুক্ত। ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে এটি প্রয়োজন হতে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টকাগজপত্র ও রেজিস্ট্রেশন

যদি আপনি তালাকের তিনটি নোটিশ যথাযথভাবে পাঠিয়ে থাকেন এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান বা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তালাক রেজিস্ট্রি করা হয়, তাহলে তালাক পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর। এখন আপনার করণীয় বিষয় হবে স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা মেয়রের কার্যালয়ে গিয়ে তালাক কার্যকর হওয়ার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা। সেই সার্টিফিকেটই প্রমাণ করবে, আপনি এখন তালাকপ্রাপ্ত এবং আইনগতভাবে মুক্ত। ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে এটি প্রয়োজন হতে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

পাঠকের মতামত

“​মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকল ও নবম পে স্কেল: সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক চরম বাস্তবতা”

​সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ...

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে:মেয়াদ হবে চার বছর

​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সময়। একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ...

“বিগত প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নই হোক উখিয়া-টেকনাফের আগামী”

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত  উপজেলা—উখিয়া ও টেকনাফ। এই জনপদ আজ মাদক, ...
Single Page Footer