পর্যটন ব্যবসায়িদের নিরব কান্না

এম. বেদারুল আলম :
দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়িদের চলছে চরম দূর্দিন। তাদের কান্না দেখারও যেন কেউ নেই। শেষ সম্বল বিক্রি করে এ ব্যবসায় নামা ২ হাজার ব্যবসায়ি এখন পথে বসার উপক্রম। করোনার চরম সংকটে তাদের পাশে নেই কেউ। কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায় বলতে গেলে ধ্বস নেমেছে। দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন ব্যবসায়িদের যোগান বলার মত হলেও তাদের কঠিন সময়ে কোন ধরণের সরকারি প্রণোদনা কিংবা সহায়তা এখনো পর্যন্ত কোন হোটেল মালিক পায়নি। কক্সবাজারের কলাতলিতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের মত গড়ে উঠেছে প্রায় ৭ শতাধিক হোটেল মোটেল এবং রেস্তোরা। বেশিরভাগ ব্যবসায়ি আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। অনেকে আবার ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বড় বড় আবাসিক প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। ফলে করোনার কঠিন সময়ে সরকারি নির্দেশ মেনে এ সব আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরা বন্ধ রাখায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

এদিকে ১৭ র্মাচ থেকে সারাদেশে করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন ঘোষনার পর বন্ধ হয়ে যায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা। এতে কক্সবাজর শহরের সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল, ৫শ এর অধিক রেস্তোরা, ২ শতাধিক ট্যুর অপারেটর অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ১০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রথম দিকে পকেটে থাকা পুঁজি দিয়ে কোনমতে মার্চ পর্যন্ত দিনাতিপাত করলেও বর্তমানে তাদের পরিবার অনেকটা অর্ধাহারে অনাহারে। অনেকে কোন কাজ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন যাপন করছেন। এসব শ্রমিক এবং বিভিন্নপদে কর্মরতরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও করোনার ক্রান্তিকালে কোন শ্রমিক-হোটেল মালিক অদ্যাবধি কোন সরকারি সহায়তা পাননি বলে দাবি তাদের।

কক্সবাজার রেস্তোরা মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক কলাতলির ফ্রেশ ইন রেস্তোরার মালিক মোহাম্মদ শফি জানান, কক্সবাজারে পর্যটন প্রসারের জন্য কলাতলিতে ৩শ রেস্তোরা গড়ে উঠেছে। করোনার মহামারীতে সরকারি নির্দেশনা মেনে আমরা সকল রেস্তোরা বন্ধ রেখেছি কিন্তু আমরা অদ্যাবধি সরকারি কোন ধরনের সহায়তা পাইনি। আমাদের অনেকের ব্যাংকে লোন রয়েছে। জানিনা কিভাবে এ লোন পরিশোধ করবো। হোটেল ভাড়া, কর্মচারিদের বেতন পড়ে রয়েছে ৩ মাসের। আমরা প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব দিয়ে আসছি তাই আমাদের বিপদের দিনে যেন সরকার পাশে দাড়ায় সে প্রত্যাশাই আমরা করছি। অন্যথায় আমাদের মাঠে মারা যাওয়া ছাড়া কোন পথ খোলা থাকবেনা।

কলাতলির বিশিষ্ট আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ি স্বপ্ন বিলাশ, টাইড ওয়াটার, গ্রীণ প্যারাডাইস হোটেলের মালিক মোঃ শহিদুল হক জানান, আমরা ব্যাংক থেকে চড়ামূল্যে ঋন নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। গত বছর ভালো ব্যবসা হয়েছিল কিন্তু গত মার্চ থেকে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম কষ্টে আছি। এখনো অনেক হোটেলের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারিদের বেতন সব বকেয়া আছে। প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু আজ আমাদের কঠিন আর্থিক সমস্যায় সরকারকে পাশে পাচ্ছিনা। আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও যেন সরকার কোন ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করেন।

কলাতলির আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ি সী হোমের নুরুল ইসলাম নয়ন, রাজিউনের ছালামত উল্লাহ , হাইপেরিয়নের জয়নাল আবেদীন বলেন ১৭ মার্চের পর থেকে সরকারি নির্দেশে আবাসিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি কিন্তু পেটেতো কিছু দিতে হবে। তিন মাসের অধিক সময়ধরে বন্ধের কারণে আমরা খেয়ে না খেয়ে কোনমতে জীবন চালিয়ে আসছি। কিন্তু এখন দেনাদারের চাপ, বিদ্যুৎ বিল, হোটেল মালিকদের ভাড়ার টাকার জন্য চাপ আমরা কোন দিকে যাব। সরকার যেন আমাদের চরম আর্থিক সংকটে পাশে থাকে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক হোটেল মোটেল মালিকদের জন্য কোন বরাদ্দ আসলে তাদের সাথে বৈঠক করে তা যথাযথভাবে বিতরণ করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের প্রণোদনা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য গত ১৭ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি সকল হোটেল মোটেল রেস্তোরা বন্ধ রয়েছে। পরে করোনা মহামারি কক্সবাজারে বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন ঘোষণার পাশাপাশি কক্সবাজার শহরকে রেডজোন ঘোষনা করা হয়। ফলে সব ধরনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে জেলা প্রশাসন। তা অদ্যাবধি বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের ৫শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম দূর্দিনে রয়েছে কর্মরত ১০ হাজার বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী। এ মূহুর্তে তাদের পরিবারে চলছে চরম অর্থকষ্ট। কঠিন সময়ে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন