প্রকাশিত: ১৮/০৩/২০২১ ৯:৫৩ এএম

সমুদ্র সম্পদ (ব্লু ইকোনমি) অর্থনীতি বদলে দিতে মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সমুদ্র উপকূল নিয়ে ফোর লেন মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) ও অস্ট্রেলিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইসি (স্মেক) যৌথ উদ্যোগে সড়কটির মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটি হবে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র উপকূলবর্তী সড়ক। দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের ব্যাপারে সার্ভে পরিচালনা করার জন্য গত বছরের ২৬ আগস্ট স্মেক ইন্টারন্যাশনালের সাথে চুক্তি হয়েছে।

এই চুক্তির আলোকে স্মেক ও সওজ যৌথ উদ্যোগে সড়কটি কোন পথে নিলে খরচ কম হবে সে ব্যাপারে সমীক্ষার কাজ করছে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, মিরসরাই-সীতাকুণ্ড থেকে শুরু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সমুদ্র উপকূলবর্তী মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে-মিরসরাই-সীতাকুণ্ড কক্সবাজার ফোর লেন মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। এর একটি অংশ হচ্ছে, সীতাকুণ্ড থেকে মুহুরী সেচ প্রকল্প হয়ে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও অপর অংশ হচ্ছে শাহ আমানত বিমান বন্দর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলবর্তী অঞ্চল দিয়ে মেরিনড্রাইভ নির্মাণ।

হাফিজুর রহমান বলেন, ব্লু-ইকোনোমি হচ্ছে সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সাগরের জলরাশি ও এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি। পৃথিবীর দেশগুলো তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে তাকিয়ে আছে সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত সম্পদের দিকে। সারাবিশ্বে ক্রমেই ব্লু- ইকোনমি জনপ্রিয় হচ্ছে। ক্রমাগত সম্পদ আহরণের ফলে স্থলভাগের সম্পদের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আমরা চট্টগ্রাম বিভাগের সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখছি। সীতাকু- থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিনড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হবে বঙ্গোপসাগরের ১০০ মিটারের মধ্যে। এতে সীতাকু- থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ বাড়বে। এ সড়কের সাথে উপকূলীয় এলাকা ছাড়া মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও মিরসরাই ইকোনোমিক জোনকে সম্পৃক্ত করা হবে। এ অঞ্চলের সমুদ্র থেকে আহরণ করা মাছ রপ্তানির নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।

এই মেরিন ড্রাইভ শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়; দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের জিডিপিতে এক শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে এই মেরিন ড্রাইভ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তা বলেন, এই সড়কটি উপকূলীয় অনুন্নত এলাকার জীবনযাত্রা পাল্টে দেবে। ব্যাপক শিল্পায়নের পাশাপাশি আবাসন এবং পর্যটনেও অকল্পনীয় ভূমিকা রাখবে।

সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, স্মেক ইন্টারন্যাশনালের সাথে মিরসরাই-কক্সবাজার ফোরলেন এক্সপ্রেসওয়ের যৌথ উদ্যোগে পৃথিবীর দীর্ঘতম এ মেরিন ড্রাইভের মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা চলছে। এতে একশ’ বছরের সর্বোচ্চ ফ্লাড লেভেল এবং বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাগুলো বিবেচনায় রাখা হবে। এটি ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময়ে উপকূলকে দেবে সুরক্ষা। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে উঁচু ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। মহাসড়কটি হবে সামগ্রিকভাবে পর্যটকবান্ধব। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প। পুরো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ২৫ হাজার কোটি টাকা। মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষার পর দাতা সংস্থার খোঁজ নেয়া হবে। দাতা সংস্থা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

প্রস্তাবিত মেরিন এক্সপ্রেসওয়ে কোন পথে যাবে তা চূড়ান্তভাবে এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে মিরসরাই মুহুরী সমুদ্র উপকূল থেকে সীতাকু- হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর নেভাল একাডেমি, বঙ্গবন্ধু টানেল, আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী, বাঁশখালী, পেকুয়া, চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল সমুদ্র উপকূল হয়ে কক্সবাজার শহরে কলাতলী মেরিন ড্রাইভ সড়কে সংযুক্ত করার বিষয়ে সমীক্ষা চলছে। এ মহাসড়কের গড় উচ্চতা হবে ১৫ ফুট। ২৩০ কিলোমিটারের মধ্যে চট্টগ্রাম অংশে ৮০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার অংশে পড়বে ১৫০ কি.মি.। এটি কক্সবাজার-টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত নির্মিত ৮০ কি.মি. মেরিন ড্রাইভওয়ের সাথে ফোর লেইনে উন্নীত হয়ে যুক্ত হবার কথা রয়েছে।

পাঠকের মতামত

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন ...