

কক্সবাজারের টেকনাফে পাশের হারের দিক দিয়ে মাদরাসা এগিয়ে রয়েছে। মাদরাসায় পাশের হার ৮৩.৮৯%। অন্যদিকে স্কুলের পাশের হার ৪৭.৩২%।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, ২০২৬সালে টেকনাফ উপজেলায় এস.এস.সি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৭২৪জন ছাত্র/ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। ১৬১৬জন ছাত্র/ছাত্রী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। অন্যদিকে ১১০৮জন ছাত্র/ছাত্রী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে জানাগেছে। কৃতকার্যদের মধ্যে ৫৭জন ছাত্র/ছাত্রী এ প্লাস পেয়েছেন।
তথ্যসুত্রে দেখা গেছে, উপজেলার ১৭টি স্কুলের ১৭৭৫জন ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে ৮৪০জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। ১৭টি মাদরাসার ৮৩৮জন ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যে ৭০৩জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। ভোকেশনালে ২টি স্কুলের ১১১জন ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যে ৭৩জন পাশ করেছেন।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখাযায়, স্কুল পর্যায়ে সবচেয়ে ভাল করেছেন টেকনাফ বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল। স্কুলটির পাশের হার ৭৭.২৭%। সবচেয়ে খারাপ করেছেন নাইক্ষ্যংখালী নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পাশের হার ২১.৭৪%। মাদরাসা পর্যায়ে নয়াপাড়া সিরাজুল উলুম দাখিল মাদরাসা। ওই মাদরাসার পাশের হার ৯৭.৯২%। মাদরাসা পর্যায়ে ফলাফলের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ করেছেন শামলাপুর দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা। পাশের হার ৭৪.৪২%। সবচেয়ে বেশী ৮জন ছাত্র/ছাত্রী এ প্লাস পেয়েছেন হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে কোন এ প্লাস পাননি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হোয়াইক্যংয়ের আলহাজ¦ আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শাহপরীর দ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, টেকনাফ বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল, মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট মার্টিন বিএন উচ্চ বিদ্যালয়, কাঞ্জরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, নাইক্ষ্যংখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়া তাফহীমুল কোরআন দাখিল মাদরাসা, মহেশখালীয়াপাড়া বাহারুল উলুম দাখিল মাদরাসা, মুহাম্মদীয়া রিয়াজুল জন্নাহ দাখিল মাদরাসা। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বারের চেয়ে এবারকার পরীক্ষার রেজাল্ট সন্তোষজনক নয়। তারা স্কুল মাদরাসার এমন ফলাফলের জন্য শিক্ষকের পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির উপর দোষ দিয়েছেন। অদক্ষ অপেক্ষাকৃত অযোগ্য এবং রাজনৈতিক দল নির্ভর লোকদের দিয়ে বেশীর ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্টানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন হওয়ার কারণেই এমন ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে তাদের অভিমত। সচেতন অভিভাবকরা মনে করেন, নকলমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে কেন্দ্রে আরো বেশী বেশী সিসি ক্যামরা স্থাপন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক হবে। দেশ গঠনে ভুমিকা রাখবে। আগামীতে দেশের কল্যাণে তারা কাজ করবে। তাই ছাত্র/ছাত্রীদের নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি আরো সুনিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-অভিভাবকের পাশাপাশি স্কুল ও মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা লোকজন অধিকতর সচেতন এবং যত্মবান হলেই ছাত্র/ছাত্রীরা আরো বেশী ভাল এবং সুন্দর ফলাফল লাভ করবেন। আগামীতে ওই বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে। জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. অনীক চৌধুরী বলেন, আগামী বছর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আরো বেশী ভাল এবং সুন্দর ফল লাভে এখন থেকে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। তিনি ভাল ফলাফল অর্জনে ছাত্র/ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের ভুমিকা রয়েছে জানিয়ে পরবর্তী সন থেকে পাশের হার এবং বেশী বেশী এ প্লাস অর্জনে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানিক পরিকল্পনার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।##

পাঠকের মতামত