

কক্সবাজারের টেকনাফে এনজিও সংস্থা “টিডিএইচ” এর মেডিকেল সেবা নিয়ে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এনজিও সংস্থা “টিডিএইচ” রোগী দেখার নামে শুধু শুধু প্রেসক্রিপশন করেন। আর ঔষুধের নামে কেবল প্যারাসিটামল প্রদান করেন বলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের অভিযোগ। নামে মাত্র চিকিৎসা দিয়ে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে হয়রানী করছেন বলে এমন অভিযোগ তাদের। এদিকে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, টিডিএইচ হাসপাতালে সব ধরণের রোগী/আর সব ধরণের রোগে একই রকম ঔষধ দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। এছাড়া এনজিও “টিডিএইচ” ভুয়া মেডিকেল রিপোর্টের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরী করছেন বলে জানাগেছে। মনগড়া মেডিকেল রিপোর্টে রোগীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ইতালী ভিত্তিক আন্তজার্তিক সংস্থা টিডিএইচ টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মুচনী নয়াপাড়া ২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল সেবা দিয়ে আসছেন। হাসপাতালটির মেডিকেল সেবা খুবই নি¤œমানের দাবী করছেন ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী। জরুরী ভিত্তিতে এনজিও সংস্থা “টিডিএইচ”র মেডিকেল সেবা কার্যক্রমের উপর নজরদারী বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। টিডিএইচ একটি আন্তজার্তিক এনজিও সংস্থা। তাদের পরিচালিত হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত ভুয়া মেডিকেল রিপোর্টের বিষয়টি খুবই দু:খজনক জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যতায় তারা টিডিএইচ হাসপাতালের মনগড়া মেডিকেল রিপোর্টসহ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসুচীর হুশিয়ারী দেন। অনতিবিলম্বে এনজিও সংস্থা টিডিএইচের মেডিকেল সেবা কার্যক্রমের সক্ষমতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনসহ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস)’র সদস্য সচিব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুচনী নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী জানান, ২৩ আগষ্ট টিডিএইচ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গেলে সেখানে “সিরাম ক্রিয়েটিনিন” পরীক্ষা করা হয়। “টিডিএইচ” তাদের রিপোর্টে সিরাম ক্রিয়েটিনিন লেভেল দেখানো হয় ১০.০ এমজি/ডিএল। টিডিএইচ থেকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়েছে তাঁর কিডনিতে সমস্যা। বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংবাদটি শুনে রোগী ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী একেবারে ভেঙ্গে পড়েন। আতংকে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। টিডিএইচের ভয়ানক ও বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট শুনে বিষম টেনশনে পড়ে গেলে স্বজনরা একই দিন (২৩ আগষ্ট) স্থানীয় পাইওনিয়ার মর্ডাণ ল্যাবও পরের দিন (২৪ আগষ্ট) চট্টগ্রাম ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়ে সিরাম ক্রিয়েটিনিন লেভেল পরীক্ষা করান। ইবনে সিনা হাসপাতাল ও স্থানীয় ল্যাবে সিরাম ক্রিয়েটিনিন লেভেল রিপোর্টে সম্পুর্ণ ভিন্নতা পাওয়া যায়। ইবনে সিনাতে ক্রিয়েটিনিন লেভেল ১.০৮ এমজি/ডিএল আর অন্যদিকে জাদীমুরা পাইওনিয়ার মর্ডান ল্যাবেও ০.৯২ এমজি/ডিএল পাওয়া যায়। এতেই প্রতীয়মান হয়েছে যে, এনজিও “টিডিএইচ” হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত সিরাম ক্রিয়েটিনিন রিপোর্ট মনগড়া এবং বিভ্রান্তিমুলক। আল্লাহ রক্ষা করেছেন জানিয়ে, তাঁর মতো পরিস্থিতিতে পড়লে বা মনগড়া রিপোর্টের কথা শুনলে রোগী হার্টস্ট্রোক বা আরো জটিল কিছু হতে পারে। এমনকি রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক নেতা ছৈয়দুল আমিন চৌধুরী “টিডিএইচ” এনজিও বিরুদ্ধে মনগড়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। মুচনী এলাকার শামশুল আলম জানান, এনজিও “টিডিএইচ” মনগড়া চিকিৎসা করেন ও মনগড়া রিপোর্ট প্রদান করেন। কোন ঔষুধ পাতি দেন না। শুধু প্যারাসিটামল ও প্রেসক্রিপশন করেন তাড়িয়ে দেন। চলতি বছরের ১২জুন টিডিএইচ হাসপাতালে শামসুল আলমের ডেঙ্গু হয়েছে বলে মেডিকেল রিপোর্ট প্রদান করা হয়। ওই রিপোর্ট শুনে তিনি এবং তার পরিবার হতভম্ব হয়ে পড়েন। ডেঙ্গু হয়েছে শুনে হতাশায় ভেঙ্গে পড়লে ওই দিন বিকেলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কক্সবাজারে মডিকেল রিপোর্ট ডেঙ্গু নেগেটিভ পাওয়া যায়। মাত্র একদিনের মধ্যে এ কেমন পরীক্ষা। সকালে “টিডিএইচ” ডেঙ্গু পজিটিভ আর রাতে কক্সবাজারে ডেঙ্গু নেগেটিভ। “টিডিএইচ” এর চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই। তাদের মেডিকেল রিপোর্টে প্রায় সময় সাধারণ লোকজন আতংকিত এবং ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ছৈয়দুল আমিন ও শামসুল আলমের মতো অনেকে “টিডিএইচ” এনজিও’র মেডিকেল সেবার বিষয়টি দেখার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬ এর হেড মাঝি বদরুল ইসলাম জানান, টিডিএইচ হাসপাতালে জ¦র, কাশি, সর্দি ও ডায়বেটিসের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনের তুলনায় তারা রোগীকে মেডিসিন সরবরাহ করেন না। সব রোগীকে প্যারাসিটামল দিচ্ছেন “টিডিএইচ” এনজিও এমন অভিযোন এনে এই রোহিঙ্গা নেতা ক্যাম্পে সেবার মান বাড়াতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে এনজিও সংস্থা “টিডিএইচ” এর মেডিকেল ডক্টর সুপার ভাইজার ডাক্তার ইশমাম কালামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালে এসে সাক্ষাত করার পরামর্শ দিয়ে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মুহাম্মদ এনামুল হক জানান, জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাক্তার মুহাম্মদ ছাবের বলেন, এমন হলে বিষয়টি খুবই খারাপ। এতে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে যেমনে অসন্তুষ্টি তৈরী হয়। তেমনি রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে এক ধরণের ভীতি কাজ করে। তিনি উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল হান্নান জানান, বিষয়টি খুবই দু:খ জনক। “টিডিএইচ” সক্ষমতা না থাকলে তারা পরীক্ষা করবেন কেন? স্বভাবত: এমন রিপোর্টের কারণেই রোগী এবং তাদের স্বজনরা ভীতির মধ্যে থাকবেন। চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা জিরো টলারেন্স জানিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ হান্নান আরো বলেন, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।#

পাঠকের মতামত