ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৬/০৮/২০২৬ ৫:৩১ পিএম

দুস্থ, অসহায় ব্যক্তিদের আশ্রয় ও সাহায্যের মতো মানবিক কাজের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মিল্টন সমাদ্দার আবারও আলোচনায়। এবার এক বৃদ্ধ নারীকে তার প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দিতে নিয়ে যাওয়া এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম নাহিদ হাসান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম উজান টিভিতে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করে আলোচিত।

ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর জানান, বৃদ্ধ এক নারীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানে এনে মারধরের শিকার হন তিনি। এমনকি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি এমন স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।

নানা অন্যায়-অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মিল্টন সমাদ্দার। তার বিরুদ্ধে ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতি, মানবপাচার, আশ্রয় দেয়া অসহায়, দুস্থ ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তাদের কিডনি বিক্রি, জমি দখলসহ নানা অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা মিল্টন সমাদ্দার এবার কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করে ফের আলোচনায়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ হাসান এসব অভিযোগ করেন। তিনি জানান, ওই বৃদ্ধার চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে টানা তিন-চার দিন কাজ করেছেন। মানুষের কাছ থেকে অর্থ সহযোগিতা নিয়ে বৃদ্ধাকে ঢাকায় এনে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানে রাখার উদ্যোগ নেন।

নাহিদের দাবি, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি বৃদ্ধাকে রাখার জন্য মাসে ১৮ হাজার টাকা দাবি করে। তারা সেই অর্থ দিতে রাজিও হন। পরে প্রতিষ্ঠানটি ওই নারীকে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ফেসবুকে অর্থ সহযোগিতা চেয়ে একটি পোস্ট করেন। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মিল্টন সমাদ্দার তাকে জিডি নিয়ে আসতে বলেন এবং বৃদ্ধাকে রাখার আশ্বাস দেন।

নাহিদ বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি মিল্টন সমাদ্দারকে বিষয়টি জানান। পরে বুধবার রাত ২টা ৩৩ মিনিটে তারা ওই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান। সেখানে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। কিছুক্ষণ পর মিল্টন সমাদ্দার সেখানে আসেন।

নাহিদের অভিযোগ, কথা বলার শুরুতেই মিল্টন সমাদ্দার তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ফেসবুক পোস্টের কারণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে তাকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তার গায়ে হাত তোলেন এবং চোখে আঘাত করেন বলে দাবি করেন নাহিদ। তার গেঞ্জি ধরে চড় মারা হয় এবং এতে বুকে ক্ষত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বুকে ক্ষত চিহ্নের একটি ছবিও তিনি পোস্টে সংযুক্ত করে দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ছাড়াতে এগিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানের কর্মী দেবাশীষও তার গলা চেপে ধরেন। এতে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা ইলিয়াস নামের আরেক ব্যক্তিকেও মারধর করা হয় বলে জানান তিনি।

নাহিদের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন লোক থাকলেও তারা ছিলেন মাত্র তিনজন। মারধরের সময় প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি নির্জন এলাকায় হওয়ায় এবং যাতায়াতের রাস্তা একটিই হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে বের হতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

নাহিদ জানান, সেখানে যাওয়ার রাস্তা ও পরিবেশ দেখে আশঙ্কা হওয়ায় তিনি কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে রাখেন এবং মোবাইলে অডিও রেকর্ড চালু করেন। পুরো ঘটনার অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। ওই স্বীকারোক্তি প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, বৃদ্ধা নারীকে প্রতিষ্ঠানটিতে রেখে তারা কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। সেখানে চোখ পরীক্ষা ও এক্সরে করানো হয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়েছেন।

পোস্টে নাহিদ লেখেন, এ ঘটনায় কারও কাছে বিচার চান না। তিনি মনে করেন এ ঘটনায় উল্টো তাদেরই হয়রানি বা বিচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

তবে, দুপুরে এ ব্যাপারে কালবেলার সঙ্গে যখন কথা হয় নাহিদের, তিনি জানান, তিনি আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন। আজ বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরবেন তিনি।

স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানটি সাভার আশুলিয়ার মাঝে নির্জন এলাকায়। আমাদের ডাক-চিৎকার শোনার মতো আশপাশে কোনো মানুষ নেই। প্রাণ বাঁচানোর ভয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছি যে, তার প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি।’

মিল্টন সমাদ্দার ২০২৪ সালে যখন আলোচনায় আসেন, তখন নানা মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও করে নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করতেন তিনি। ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে এসব অসহায় মানুষকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন সময়ে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যও চান তিনি।

তবে, সেসময়ই মানবিক কাজের আড়ালে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া সাভারে জমি দখল, আর্থিক হিসাবে অস্বচ্ছতা, আশ্রিতদের হিসাবে গরমিল, বরিশালে চার্চ দখলের চেষ্টা, বৃদ্ধদের চিকিৎসা না দেওয়া, ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতি, নিজের বাবা-মাকে মারধরের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রাজধানীর মিরপুর থানায় করা মানবপাচার আইনের মামলায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই জামিন পান তিনি।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের ৪ সদস্যকে নিয়ে নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১

কক্সবাজার সদরের নাজিরারটেক বঙ্গোপসাগরের মোহনায় নৌকা ডুবে নিউজিল্যান্ডের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের ...

পোস্টিং দোছড়ি বিটে, থাকছেন থাইংখালী বিটেটাকা না দিলে বাড়ির হাঁস-মুরগি নিয়ে যান, ঘর ভেঙে দেন বনরক্ষী কামাল হোসেন

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের বনরক্ষী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গরিব ও অসহায় মানুষের ...

‘দুনিয়াত্তু বিচার চাই’—নিজ দেশে ফেরার আকুল আকুতিতে মুখরিত উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প

“আমরা আর কতদিন শরণার্থী হিসেবে অন্যের আশ্রয়ে থাকব? আমরা বাংলাদেশে স্থায়ী হতে আসিনি, আমাদের একমাত্র ...
Single Page Footer