ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ৮:৫১ এএম

শিক্ষার পথে বয়স কোনো বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য মনোবল থাকলে জীবনের যেকোনো বয়সেই যে স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব, সেই দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার ৫৪ বছর বয়সী আলী আকবর। শৈশবে অভাবের কারণে থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। সংসারের হাল ধরতে নেমেছিলেন কর্মজীবনে। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পর জীবনের পড়ন্ত বেলায় আবার হাতে তুলে নেন বই। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৩৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

আলী আকবরের বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার পেড়াবাড়িয়া এলাকায়। তিনি রাজশাহীর নওহাটা সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুলের কারিগরি শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

আলী আকবরের পরিবার জানায় দরিদ্র পরিবারে জন্ম আলী আকবরের। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। অভাব-অনটনের কারণে ছোটবেলাতেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এরপর বাবার সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন। এভাবে কেটে যায় জীবনের দীর্ঘ সময়। একপর্যায়ে বিয়ে করেন। সংসারে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে।

সন্তানরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ। তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে কর্মচারী হিসেবে চাকরি নেন আলী আকবর। স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনের অর্থ দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যান। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ছেলেকে চিকিৎসক এবং মেয়েকে নার্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন তারা।

সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পর নতুন করে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আলী আকবরের। ছেলে-মেয়ের পরামর্শে নওহাটা সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুলের কারিগরি শাখায় ভর্তি হয়ে শুরু করেন পড়াশোনা। অবশেষে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

আলী আকবর বলেন, ‘আমার বড় মেয়েকে নার্স এবং ছোট ছেলেকে এমবিবিএস ডাক্তার তৈরি করেছি। আমার ছেলে সরকারি ডাক্তার। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেছি, তাদের বিয়েও দিয়েছি। এখন আমি ও আমার স্ত্রী বিগত দিনের দুঃখ-কষ্ট ভুলে সুখে সংসার করছি।’

তিনি বলেন, ‘পড়াশোনার কোনো বয়স নেই। ছেলে-মেয়েদের পরামর্শে পড়াশোনার আগ্রহ শুরু হয়। এরপর স্কুলে ভর্তি হই। পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। এ আনন্দ প্রকাশ করার নয়।’

আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বাবা ছোটবেলা থেকে অনেক পরিশ্রম করেছেন। অভাব অনটনের সংসারে পড়াশোনার সুযোগ হয়নি। এখন আমাদের সংসারে কোনো অভাব নেই। আমি চিকিৎসক, আমার বোন নার্স। পরিবারের সবাই আমরা শিক্ষিত। বাবা পড়াশোনা করে শিক্ষিত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্কুলে ভর্তি হন, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছেন। বাবা যতদূর পর্যন্ত পড়তে চান, তাকে পড়াব। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।

পাঠকের মতামত

৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ...

অভাবকে হার মানিয়ে কক্সবাজারের নীলার আমেরিকা যাত্রা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন কক্সবাজারের মেয়ে নীলা ওয়ান রাখাইন। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ...

অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান ২০২৬ সালের এইচএসসি ...

৪৭তম বিসিএসে উখিয়ার রেকর্ড: এক ইউনিয়ন থেকে চারজন বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের চার মেধাবী ...

আইসিটি স্পেশাল কেয়ারে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ইমরান আল মাহমুদ • দক্ষিণ কক্সবাজারের অন্যতম জনপ্রিয় কোচিং সেন্টার আইসিটি স্পেশাল কেয়ারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ...

৩৫ বছরের ঐতিহ্য, তবুও সরকারি নয়উখিয়া কলেজ জাতীয়করণের জোর দাবি

দক্ষিণ কক্সবাজারের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উখিয়া কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন উপজেলার সর্বস্তরের ...
Single Page Footer