প্রকাশিত: ২৫/০৩/২০২০ ৪:৪৩ পিএম

কারামুক্ত হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর বুধবার খোলা আকাশের নিচে এলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে তার এই কারামুক্তি শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য।

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে প্রশাসনিক আদেশে তাকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। সাজা স্থগিত হওয়া এই ছয় মাস খালেদা জিয়া তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের জিম্মায় থাকবেন।

করোনার সংক্রমণ যাতে না হয় এজন্য সব ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে বের করা হয় খালেদা জিয়াকে
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৪টার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের নেতাকর্মীদের ভিড়
এ সময় খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করতে তার ছোট ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালের গেটে বুধবার দুপুর থেকে সমবেত হন।

কারামুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসনকে তার গুলশানের বাসা ফিরোজায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানের বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে দুই শর্তে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে তার পরিবার সরকারের কাছে নির্বাহী আদেশে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিল। এরপর খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম এবং তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলামও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে আবেদন জানিয়েছিলেন।

এ প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নেয় বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। সেদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। তখন থেকেই খালেদা জিয়া কারাবন্দী ছিলেন।

এ মামলায় হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর এক রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া, যা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেন খালেদা জিয়া, সেই আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

পাঠকের মতামত

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াটাও কঠিন হয়ে যাবে একদিন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ...

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সুইডিশ সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ...

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনবিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে ...

হঠাৎ ঢাকায় ভারতের ‘র’ প্রধান

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা ...

কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে, চেহারা কেউ দেখেছে: প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশের মানুষ কখনও গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...
Single Page Footer