প্রকাশিত: ১৬/১১/২০২০ ৫:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি

হুমায়ুন কবির জুশান,উখিয়া ::

ফাইল ছবি

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ায় থামছে না প্রাণহানি। একের পর এক ঘাতক কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক বিএ এবং বিএনপি নেতা সিরাজুল হক ডালিম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। বেপরোয়া চালকের কারণে দুই নেতা নিহতের ঘটনায় কক্সবাজার জেলাজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরই আগে টমটম গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয় রাজা পালং শেখ পরিবারের শেখ রাকিবের পিতা। সর্বশেষ গত ১৪ নভেম্বর উখিয়া দক্ষিণ ষ্টেশন কেন্দ্রীয় কবর স্থানের সামনে ডাম্পারচাপায় লোকমান হাকিম (৭৮) নামে এক ব্যক্তি রাস্তা পার হওয়ার সময় নিহত হয়েছেন। উখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, লোকমান হাকিম একজন সাদা মনের মাটির মানুষ ছিলেন। কেউ তার কাছ থেকে এক টাকাও পাবে না। প্রয়োজনে না খেয়ে থেকেছেন এর পরও কারো নিকট থেকে ধার-দেনা করেননি তিনি। মাওলানা রফিক আহমদ হাসেমি বলেন, লোকমান হাকিম অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। কেউ মারা যাওয়ার খবর শুনলেই সাথে সাথে কবর খনন করতে চলে যেতেন তিনি। এমনি করে সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্র অভিভাবক পথচারি এবং কতজন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।বেপরোয়া ও অদক্ষ চালকের কারণে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সিএনজি চালক ভালুকিয়ার জাফর আলম আজ দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চট্রগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ডাক্তাররা তার একটি পা কেটে ফেলতে বলেছেন। সম্প্রতি সময়ে বালুখালি কাস্টমস এলাকায় পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছেন। তিনি বলেন, সেদিন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাইক নিয়ে বালুখালি কাস্টমস এলাকায় পৌঁছলে অদক্ষ টমটম চালক ওভারটেক করে আমাকে ধাক্কা দেয়। এতে আমি পড়ে গিয়ে হাটুতে আঘাত পায়। আমার হাটুর জয়েন্ট খুলে যায়। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পড়ে আছি। এখনো ভালো করে হাটতে পারি না। দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মুখে পড়ে সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়, যা বর্তমানে অনেকটা কার্যকর।কিন্তু মানবতার শহরে আমরা অমানবিক চালকের কারণে অসহায়। দেখার যেন কেউ নেই। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মান বাড়লেও বাড়েনি যাত্রী বা পথচারির নিরাপত্তা। বরং প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। গাড়ি চালকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ না দিয়ে নতুন নতুন গাড়ির দিকে ঝোঁকার ফলে টাল সামলাতে পারছে না। রোহিঙ্গাদের কারণে শত শত এনজিও এখানে কাজ করছে। আমার মনে হয় প্রশাসন ও এনজিওর সমন্বয়ে গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে ট্রাফিক পুলিশ বাড়ানো দরকার।

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...
Single Page Footer