প্রকাশিত: ০৫/০৯/২০২০ ৮:১৩ পিএম

মাহাবুবুর রহমান ::
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওর শীর্ষ পদে স্থান পায়না স্থানীয় ছেলে মেয়েরা। সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভিন্ন জেলার ছেলেমেয়েরা শীর্ষ পদে থাকলেও কক্সবাজারের ছেলে মেয়েদের দেওয়া হয় নিম্নশ্রেণীর পদ। এতে কোন প্রতিষ্টানে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে পারেনা স্থানীয়রা।

ফলে কক্সবাজারের মানুষ এবং জেলার জন্য চাইলেও কথা বলতে বা কোন অবদান রাখতে পারেনা স্থানীয়রা। বরং সামান্য পানথেকে চুন খসলেও চাকরী কেড়ে নেওয়ার হুমকি ধমকিতে তটস্থ রাখে স্থানীয়ভাবে কর্মরত ছেলে মেয়েদের।

এ বিষয়ে অনেক সময় উচ্চ পর্যায়ে সহযোগিতা চাইলেও পাওয়া যায়নি উল্টো মিথ্যা অভিযোগ এনে চাকরী থেকে অব্যাহিত দেওয়া হয়েছে বলে জানান অনেকে।

কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার কামরুল ইসলাম জানান,আমি একটি এনজিওতে চাকরী করছি এখন ৮ মাস এর আগে আরেকটি এনজিওতে ছিলাম সেখানে চাকরী করেছি ৯ মাস।

তিনি বলেন,সমপরিমান শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও কোন স্থানীয় ছেলে মেয়ের চাকরী অফিসে বা এনজিও গুলোর শীর্ষপদে হয়না। এতে আমরা খোব অসহায় থাকি,উপর মহলের তদবির মেটাতেই আমাদের অবস্থা যায় যায়। অনার্স মাস্টার্স করার পরওআমাদের দেওয়া হয় ফিল্ডে বা এনজিও হিসাবে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর পদে এমনকি দ্বিতীয় শ্রেণীর পদেও দেওয়া হয়না। অথচ যারা শীর্ষ পদে আছে তারাও অনার্স মার্স্টাস করা তারা এসেছে ঢাকা সহ উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোথেকে। চাকরী জীবনে আমি এমনও পেয়েছি ডিগ্রি পরীক্ষা দিচ্ছে এমন মেয়ের আন্ডারে চাকরী করছে মাস্টার্স করা কক্সবাজারের স্থানীয় ছেলেমেয়েরা, কারন ঐ মেয়ে প্রজেক্ট ম্যানেজারের আত্বীয় সে বাইরের জেলা থেকে এসেছে তার আর কোন যোগ্যতা নাই।

ভারুয়াখালী সওদাগর পাড়া এলাকার নেজাম উদ্দিন নামের একজন বলেন,যখন কোন চাকরীতে ইন্টারভিউ দিতে যায় ঠিকানায় ভারুয়াখালী বা গ্রামে বাড়ি দেখলে তারা আগাম মন্তব্য করে আমরা কিছুই জানিনা। অথচ আমি ইংরেজীতে মার্স্টাস করেছি। আমার সামনে সেখানে কর্মরত অনেকে ভাল করে ইংরেজীও বলতে পারেনা। তবুও আমাদের চাকরী হয় কোন মতে ক্যাম্পের ফিল্ডে অথচ আমাদের প্রজেক্টে চাকরী করে অনেকে আছে বাংলাতে অনার্স করেছে তারা এখন আমাদের শীর্ষ অফিসার।

তিনি জানান বেশির ভাগ শীর্ষ পদে আছে বহিরাগতরা কারন তারা প্রজেক্ট ম্যানেজারের শশুরবাড়ি বা বাপের বাড়ির আত্বীয় স্বজন। আমাদের তাদের বেতনও আমাদের থেকে দ্বিগুন। ঘোনারপাড়া শ্রাবন্তি নামের একজন জানান,আমাদের কক্সবাজারের স্থানীয় কাউকে এনজিওতে শীর্ষ পদে চাকরী করতে দেখিনি। সবাই ছোটখাট কাজ গুলো করে। অথচ আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম নয়। তারা প্রায় সময় বলে আমাদের নাকি শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণে সমস্যা এটা নিয়ে অনেক বার আমার সাথে ঝগড়া হয়েছে। আমাদের চব্বিশঘন্টা তাদের আদেশ পালন করতেই হয় সামান্য কোন সমস্যা হলে চাকরীতে না আসার হুমকি দেয়। মনে দুঃখের কথা কাউকে বুঝানের মত কোন অফিসার বা কর্মকর্তা নাই।

এব্যপারে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র মোঃ ইসলাম বলেণ,এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। আসলেই সত্যি এনজিও গুলোর শীর্ষ পদে কোন স্থানীয়দের রাখেনা তারা।

আমরা জনপ্রতিনিধি অনেক সময় স্থানীয় ছেলেমেয়েরা আসে চাকরীর জন্য তদবির করতে।

আমরা যখন কোন এনজিওকে সুপারিশ করি তখন তারা বলে উপরের পদ গুলোআগে পূরন হয়ে গেছে সে গুলো স্যারদের নির্দেশে আগে থেকেই নেওয়া হয়ে গেছে। শুধু কিছু শিক্ষক আ চা নাস্তার নিয়ে আসা যাওয়া করার জন্য লোক স্থানীয় থেকে নেয়। আমি শুনেছি বেশির ভাগ সময় ক্যাম্প ইনচার্জরাও তাদের গ্রামের বাড়ি থেকে আত্বীয় স্বজন নিয়ে এসে যোগ্যতা না থাকা সত্বেও চাকরীতে ঢুকিয়ে দেয়। আর স্থানীয়দের দেওয়া হয় লেবারি কাজে।

উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন,ইতি মধ্যে অনেক স্থানীয় ছেলেমেয়েরাএসেছে তাদের চাকরী থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ দিতে। কোন কারন ছাড়াই সামান্য কারনে স্থানীয়দের চাকরীচূত করে শীর্ষ কর্মকর্তারা। মূলত আমাদের কোন অভিভাবক নেই কাকে বলবো দুঃখের কথা কেউ কারো কথা শুনেনা। এমন সময় গেছে একজন পিওন নিয়োগের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্যের চিঠিও অগ্রাজ্য করেছে এনজিওর শীর্ষ কর্মকর্তারা। কারন তার শালী বোনের জামাইকে নিয়ে এসে বসিয়ে দেওয়ার জন্য। এসব অনিয়মের একটা বিহিত ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...
Single Page Footer