প্রকাশিত: ৩১/০১/২০২১ ৮:৪৮ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
কাশিমপুর-১ কারাগারে বন্দি তুষার আহমেদের সঙ্গে তার স্ত্রীর একান্তে সময় কাটানোর ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আসার পর তোলপাড় চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাবন্দি স্বামীর সঙ্গে তার স্ত্রীর একান্তে সাক্ষাতের সুযোগ থাকা উচিত। এ সংক্রান্তে প্রায় ১৪ বছর আগে একটি প্রস্তাবও তৈরি করেছিল কারা কর্তৃপক্ষ, তবে তা আর এগোয়নি। তবে এর বিপক্ষেও অনেকে বলছেন, এটা চালু হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সব বন্দিই চাইবেন তার স্ত্রীর সঙ্গে একান্তে সাক্ষাত করতে। এক্ষেত্রে স্ত্রী না বান্ধবী তা সনাক্ত করতেও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এটা পলিসি মেকিংয়ের বিষয়। আমাদের দেশের বিধি বিধানে যা আছে তা দেখে যদি সম্ভব হয় তবে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

কক্সবাজারের সিনিয়র জেল সুপার নেছার আলম বলেন, বিভিন্ন দেশে এই সুবিধা রয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশের (ভারত) একটি কারাগারেও নির্ধারিত পরিমান ফি দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে (সপ্তাহে একবার) সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। আমাদের দেশে কক্সবাজারের উখিয়ায় উন্মুক্ত কারাগার করতে সরকারের কাছ থেকে ইতিমধ্যে জায়গা বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। অন্যান্য দেশে উন্মুক্ত কাগারে বন্দিরা তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কোনো কারাগারে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ নেই। কারাগারের সকল কক্ষেই ব্যস্ত সময় পার করে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। তাছাড়া জেলকোড অনুযায়ি ভিআইপিদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা রয়েছে। কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সাবেক ডিআইজি প্রিজনস মেজর (অব.) শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বলেন, আমরা একবার ইরানে কারা ব্যবস্থা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখেছি, তিন মাস অন্তর বন্দির স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। সেখান থেকে এসে আমরাও একটা প্রস্তাব তৈরি করেছিলাম ২০০৭-৮ সালের দিকে। এরপর আর কাজটি এগোয়নি।

এক কারা কর্মকর্তা জানান, কারাগারে এত এত বন্দির মধ্যে সব বিষয় খেয়াল রাখা কঠিন। বলাৎকারের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য মশারি দেওয়া হয় না। সেলে কম আলোর বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে এসব ঘটনা যেন না ঘটে। কারাগারের সেলগুলোতে জোড় সংখ্যার কোনো বন্দি রাখা হয় না। যেখানে দুজনকে রাখার কথা সেখানে তিনজনকে রাখা হয়। তা না হলে ওই দুজনের সমকামী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্রিটিশ আমল থেকে এমন বিধান চালু রয়েছে।

আরেক কারা কর্মকর্তার মতে, কারাগারে বলাৎকারের সমস্যা সমাধানের উপায় হতে পারে বৈধভাবে নারীসঙ্গের ব্যবস্থা করা। সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে করতে পারলে বন্দিরা মানসিক প্রশান্তি পাবে এবং কারাগার সংশোধনাগার হিসেবে আরো কার্যকর হবে।

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...
Single Page Footer