উখিয়া নিউজ এ ওয়ার্ল্ড ভিশন এর পরিচয় ব্যাজ বহনকারী একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী গ্রেপ্তার বিষয়ে ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ওয়ার্ল্ড ভিশন গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েছে, এবং নিশ্চিত করছে যে এটি নকল। এই প্রতিবেদনে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি ওয়ার্ল্ড ভিশন এর মোটেও পরিচিত নয়, তিনি যে ব্যাজটি বহন করেছিলেন সেটি নকল।
বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুসারে ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং অন্যান্য সকল সংস্থার দৈনিক কর্মীদের সনাক্তকরন ব্যাজ দেওয়া হয়ে থাকে। যদিও জালিয়াতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের উপর ওয়ার্ল্ড ভিশন এর কোনও নিয়ন্ত্রন নেই। এই ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম যা আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে তা সমাধানের জন্য আমরা সরকার ও পুলিশের উপর নির্ভর করি। পরিচয় ব্যাজের অপব্যবহার প্রতিরোধে আমরা অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছি, যেমন-ব্যাজ তুলে নিয়ে প্রতিদিন আবার ব্যাজ দেয়া হয়।
জিরো টলারেন্স নীতিমালা:
যে কেউ ওয়ার্ল্ড ভিশন এর কার্ড বা সম্পদের জালিয়াতি অথবা অপব্যবহার করে থাকলে তার প্রতি আমাদের অবস্থান শূণ্য সহনশীল। এধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধের জন্য আমাদের কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে এবং এই ধরণের বিশ^াসযোগ্য রিপোর্টগুলো আমরা তদন্ত করি। আমরা এমন প্রত্যক্ষদর্শীদর তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ার্ল্ড ভিশন এর সাথে যোগাযোগ অথবা গোপন গ্লোবাল হটলাইন (+১-৫০৩-৭২৬-৩৯৯০) নম্বরের মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য উৎসাহিত করি। রিপোর্টের বিশ^াসযোগ্যতা যাচাই করার মাধ্যমে পুঙ্খানুপঙ্খভাবে তদন্ত করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার:
ওয়ার্ল্ড ভিশন একটি খ্রিস্টান, ত্রাণ, উন্নয়ন এবং অ্যাডভোকেসি সংস্থা যা শিশু, তার পরিবার ও কমিউনিটির দারিদ্র্য বিমোচন ও সকল অন্যায্যতা দূরীকরণে নিরলস কাজ করতে বদ্ধপরিকর। ওয়ার্ল্ড ভিশন কক্সবাজার জেলায় ৩০ বছর, বাংলাদেশে প্রায় ৫০ বছর ধরে শিশু, তার পরিবার ও কমিউনিটির জন্য বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনার সকল নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
রোহিঙ্গাদের কাজে নিয়োগ:
বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোহিঙ্গাদের খাবার বাহক, প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং নির্মান শ্রমিক হিসাবে ক্যাম্পে কাজ করার অনুমতি প্রদান করে। এই কাজের জন্য তারা সামান্য পারিশ্রমিক পায় যা বাংলাদেশের ন্যুনতম মজুরির পরিমানেরও কম। তদুপরি, সকল এনজিও মিলে ১৭,০০০ বাংলাদেশীদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োগ দেয় যার অর্ধেকেরও বেশী কক্সবাজার এলাকার।
রোহিঙ্গাদের বহন করা/রোহিঙ্গাদের জন্য প্রেসক্রিপসন: ওয়ার্ল্ড ভিশন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পারাপার অথবা প্রেসক্রিপসন প্রদান করে কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। বিশেষ লিখিত অনুমতি ব্যতীত বাংলাদেশ সরকার সকল এনজিও সংস্থাকে ক্যাম্পের বাইরে কোনও রোহিঙ্গাকে বহন করতে নিষেধ করেছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন চিকিৎসা প্রদানকারী সংস্থা নয়, কাউকে ঔষধ প্রেসক্রিপশন করার সাথে ওয়ার্ল্ড ভিশন জড়িত নয়।
প্রত্যাবাসন:
এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য যে ওয়ার্ল্ড ভিশন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন এর বিপক্ষে কথা বলেছে। বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থীদের নিরাপদে, সম্মানের সাথে ও স্বেচ্ছায় মায়ানমারে-পরিস্থিতি অনুকূলে সাপেক্ষে- প্রত্যাবাসনের নীতির সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ভিশন একাত্বতা জানায়। আমরা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মানবিক প্রতিষ্ঠান যার শরাণার্থী প্রত্যাবাসন কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত হবার সুযোগ নেই। প্রত্যাবাসনের কাজ হল সরকার এবং ইউনিএইচআর-এর, এবং শরণার্থীদের মায়ানমারে ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
মানবিক সহায়তার নীতিমালা অনুসরন: স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরনার্থীদের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য। ওয়ার্ল্ড ভিশন আন্তর্জাতিক মানদন্ড মেনেই অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মানবিক উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে আমরা কোনভাবেই সংঘাত সৃষ্টিকারী কোন পক্ষ কিংবা কোন রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত ও বিশেষ আদর্শিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করি না। আমাদের সহায়তা জাতি, বর্ণ, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক আদর্শের উর্দ্ধে সবার প্রতি সমানভাবে প্রযোজ্য।

পাঠকের মতামত