
ডেস্ক রিপোর্ট
খোকন রুদ্র পিতা অমূল্য রুদ্র মাতা পারুল রুদ্র টেকনাফ কলেজ পাড়া ঠিকানা দেখিয়ে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরীর আবেদন করেছেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে খোকন রুদ্রর স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলাতে মূলত তারা মামা টেকনাফের লেঙ্গুর বিল সড়কের ফাইভস্টার মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসী ব্যবসা করেন এবং সেখানে ডাঃ বিকে নামে পরিচিত। সেই সূত্রে ভাগ্নে খোকন চন্দ্র টেকনাফে থাকতো এবং টেকনাফ কলেজে লেখাপড়া করেছে। জানতে চাইলে খোকন চন্দ্র নিজেই স্বীকার করেন তার স্থায়ী ঠিকানা বাঁশখালীতে। মূলত ২০০৭ সাল থেকে টেকনাফে থাকে সে হিসাবে টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে আবেদন করেছেন।
একই ভাবে টেকনাফ উপজেলার এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লক্ষী পদ দাশ উনার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার সদর উপজেলায়, তবে দীর্ঘ বছর টেকনাফে শিক্ষকতা করে আসছেন সে সুবাদে নিজের মেয়েকে টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরীর সুযোগ করে দিয়েছেন। ২১ অক্টোবর কক্সবাজারে মৌখিক পরীক্ষা দিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মেয়েকে দেখা গেছে। একই সাথে সুমি পাল পিতা প্রিয়তোষ পাল তার স্থায়ী ঠিকানা রামু গর্জনিয়া হলেও চাকরীতে আবেদন করেছেন টেকনাফ উপজেলার ঠিকানা দিয়ে। এভাবে টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়া সত্বেও টেকনাফের উপজেলা কোটা থেকে আবেদন করে সরকারি চাকরি ভাগিয়ে নিয়েছে অনেকে। এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ শাহজাহান বলেন, টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া মানে টেকনাফের স্থায়ী ছেলে মেয়েরা বঞ্চিত হওয়া, যদি পদ খালী থাকে তাহলে কোন না কোন সময় টেকনাফের স্থানীয়রা চাকরি পেত। এখন বহিরাগতরা চাকরি নেওয়ার পর দিন থেকে তদবির করতে থাকে বদলি হয়ে নিজ গ্রামে চলে যাওয়ার জন্য ফলে পড়াশুনাতে মনযোগ দিতে পারেনা। আর এটা সম্পূর্ন বেআইনী স্থায়ী ঠিকানার মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এর আগেও বহু শিক্ষক টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছে যাদের অনেকেই এখন নিজ এলাকায় বদলী হয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম নাছিমা আক্তার স্বামী মশিউর রহমান তার স্থায়ী বাড়ি রংপুর জেলায় হলেও তার স্বামী টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে চাকরি করতো সেই সুবাধে টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন সরকারি চাকরী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোব্ধ হয়ে নাছিমা আক্তার বলেন, কোন সাংবাদিককে আমি কিছু বলতে রাজি না কোন কিছু জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসে যান। কহিনুর আজম,তার নিজ বাড়ি কুতুবদিয়া হলেও টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন, তিনি আগে টেকনাফে থাকলেও বর্তমানে রামু উপজেলার ধেছুয়া পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়নাল আবেদীন তার স্থায়ী ঠিকানা চকরিয়া উপজেলায় হলেও তার স্ত্রী আজিজুন নাহার বর্তমানে টেকনাফের স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। আশীষ মল্লিক পিতা দুলাল কান্তি মল্লিক স্কুল কলেজের সব সার্টিফিকেট তার স্থায়ী ঠিকানা সাতকানিয়া উপজেলাতে কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরী নিতে স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন টেকনাফ অলিয়াবাদ,নুরুল আবছার বাড়ি চকরিয়া উপজেলাতে কিন্তু বর্তমানে চাকরি করছেন টেকনাফ পল্লানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সোনিয়া বড়–য়া সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছিল টেকনাফ বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার স্বামী এবং বাবার বাড়ি রামু হওয়াতে সম্প্রতি বদলি হয়ে রামু চলে গেছেন। তবে তারও চাকরির আবেদনে স্থায়ী ঠিকানা টেকনাফ উপজেলা। টেকনাফ পল্লানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্জুন দাশের বাড়িও টেকনাফে নয় বলে জানান স্থানীয়রা। রামুর বাসিন্দা অজিত শর্মা টেকনাফে ওয়ার্কশপ দোকান করে সেই সুবাদে মেয়ে প্রিয়াংকা শর্মাকে টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ করে দেন বলে জানান স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে টেকনাফ নাগরিক ফোরামের সভাপতি সাজেদুল আমিন বলেন, টেকনাফের ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি হাতিয়ে নিচ্ছে অনেক বহিরগত। এতে এক দিকে চাকরি কোটা শুন্য হয়ে পড়ছে অন্য দিকে চাকরি পাওয়া প্রার্থীরা তদবির করে আবার নিজ এলাকায় চলে গেলে পদ শূন্য হয়ে পড়ে।বিষয়টি কতৃপক্ষের নজরে আনলেও কোন কাজ হচ্ছেনা। বরং শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা গোপনে তাদের সাথে আতাঁত করে চাকরি দিচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারক লিপিও দিয়েছি তাতেও কোন সাড়া মিলছে না।
এব্যপারে এডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়িও টেকনাফে মূলত টেকনাফে বহু বছর ধরে বেশ কিছু সরকারি চাকরীর কোটা খালী থাকে সে কারণে অনেকে এই অবৈধ সুবিধাটি নেয়। আবার অনেকে সেখানে টাকা পয়সা দিয়ে চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নেয় আবার অনেকে জাতীয় পরিচয় পত্র ও করেছে। তবে আইন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয় পত্র যদি টেকনাফেরও হয় তার যদি স্থায়ী ঠিকানা টেকনাফ না হলে সে টেকনাফের উপজেলা কোটাকে আবেদন করতে পারবে না। ভোটার যে যেখানে থাকে সেখানে হতে পারে তার মানে এই নয়যে তিনি সে এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এ বিষয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রীট করার চিন্তা করছি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম বলেন,স্থায়ী ঠিকানার তথ্য ভুল দিয়ে চাকরী হলেও পরে তা প্রমানিত হলে চাকরি থাকবে না।

পাঠকের মতামত