প্রকাশিত: ৩০/০৫/২০১৯ ১১:১৯ এএম

উখিয়া নিউজ ডটকম::
কৃষি অফিসার অসুস্থ । কৃষক মাঠে আছে তালিকায় নেই । কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে মাঠ কর্মীদের আত্মীয় স্বজনের প্রাধান্য দেয়া , কৃষক নয় এমন ব্যক্তিদের সুবিধাভােগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সহ নানা অনিয়মের অভিযােগ উঠেছে । এতে প্রকৃত কৃষকদের ঘরে অবিক্রিত পড়ে থাকছে শত শত মন ধান । অন্যদিকে ১৫ জনে চাল কল মালিক একজোট হয়ে নিম্নমানের চাল সরবরাহ নিতে খাদ্য কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়ােগ অব্যাহত রাখায় উখিয়া খাদ্য গুদামে ধান , চাল ক্রয় ও সংগ্রহ কার্যক্রমে । বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিয়েছে । উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ধামন খালী এলাকার কৃষক আবদুল করিম ও মােজাহের আহমদ মঙ্গলবার বিকেলে ধান বিক্রির অবস্থা জানতে খাদ্য গুদামে এসেছিল । অফিসের লােকজন নাকি ঈদের পরে যােগাযােগ করতে বলেছে তাদের । রাজাপালং ইউনিয়নের মলিয়ার কুল গ্রামের বড় কৃষক ৰনিয়র রহমান , ডিগলিয়াপালং গ্রামের ছব্বির আহমদ ও নুরু মিয়া , শৈলার ঢেবা গ্রামের দিপু বড়ুয়া সহ অনেকে কয়েক দিন ধরে উপজেলা কৃষি অফিস ও খাদ্য গুদামে আসা যাওয়া করছে ধান বিক্রি করতে । কিন্তু খাদ্য গুদামে তাদের নামের তালিকা কৃষি অফিস থেকে না পাঠানাের ফলে কৃষি কার্ড থাকার পরও ধান বিক্রি করতে পারছে না । এসব ভুক্তভােগী কৃষকরা অভিযােগ করেন , আমাদের কারাে কারাে কাছে ৫ / ৭ টন ধান পড়ে থাকলেও কৃষি অফিস তালিকায় তাদের নাম দেয় না । অথচ এক শতক জমিতে চায় না করেও কতিপয় কসি ব্লক । সুপারভাইজার আত্মীয় স্বজন সহ বিভিন্ন জনের নিকট থেকে পঁয় কৃষকের নামে ধান নেয়া হচ্ছে । সিকদার বিল ও মালভিটা দুই থাম মিলে তালিকায় নাম উঠেছে মাত্র ৫ জনের । পক্ষান্তরে অনিয়ম ও স্বজাতি করে শুধুমাত্র পাশাপাশি টাইপালং ও পশ্চিম দরগাহ বিলের দুটো পাড়া থেকে অন্তত ৫৫ জনের নাম দেয়া হয়েছে তালিকায় । তালিকাভুক্তদের প্রায় সবাই ঘুরেফিরে একই পরিবারের । উখিয়া সহকারী কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম জানান , কৃষি অফিসার জঠিল রােগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন । প্রেরিত কৃষকের তালিকায় করা স্বাক্ষর কে করেছে তিনি জানাতে পারেনি । টাইপালং , দরগাহ বিল এলাকার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের জানান , আমার ব্লক এলাকায় কারা প্রকৃত কৃষক ও কাদের কাছে কি পরিমাণ খাদ্য শষ্য রয়েছে তা তিনি ভাল জানার কথা । কিন্তু তার ব্লকের কৃষকের নামের তালিকা তাকে বাদ দিয়ে কারা তৈরী করে তা তদন্তের দাবী অন্যান্য উপ সহকারী কৃষি অফিসারদের । উখিয়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মােরশেদুল করিম সবুজ জানান , চলতি বােরাে মওসুমে সরকারি ভাবে উখিয়ায় ১৮০ মেট্রিক টন ধান ও ১৫৬৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও স্থানীয়ভাবে ধান ক্রয় করা যাচ্ছে না । ৫ শ ও ১ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি গুদামে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের , রােহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর নানা সহায়তার খাদ্যে গুদাম ভর্তি । বুধবার পর্যন্ত প্রায় ২ শ মেট্রিক টন চাল নেয়া | হয়েছে বলে জানা গেছে । খাদ্য কর্মকর্তা জানান , উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দুই শ জনের মত কৃষকের তালিকা দেয়া হয়েছে । । | সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের সুযােগ রয়েছে । গত ২২ মে থেকে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় শুরু হয় । বুধবার পর্যন্ত ৭১ মেটিক ক্রয় করা হয়েছে । গুদামে রাখার জায়গা না থাকায় আরও ৫০ টনের মত ধান কৃষকেরা বাইরে রেখে চলে গেছেন । আরাে কয়েক শত টন ধান নিয়ে অপেক্ষা কর কৃষকেরা । বুধবার পর্যন্ত ২ শ টনের মত চাল নেয়া হয়েছে । চালের মান খারাপ হওয়ায় এসকে অটো রাইচমিল , ছয় তারা অটো রাই মিলের বেশ কিছু চাল ফেরত দেয়ার কথা জানান এ খাদ্য কর্মকর্তা । কৃষক লীগ নেতা মােসলেহ উদ্দিন সরকারের ধান ক্রয়ে প্রকৃত কৃষকদের স্থলে কৃষি অফিসের যােগসাজশে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের আত্মীয় স্বজনের নামে কৃষি কাড বানিয় ফায়দা লুঠার অভিযােগ তদন্তের দাবী জানান । সরকারের এ উদ্যেগে যাতে প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হয় সেজন্যে প্রয়ােজনে ধানের পরিমাণ বৃদ্ধি করারও দাবী করেন তিনি ।

পাঠকের মতামত

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...
Single Page Footer