প্রকাশিত: ২৩/১০/২০১৯ ৬:৩৩ পিএম

নতুন করে ২৯ জন রোহিঙ্গা দেশটিতে ফিরে গেছেন বলে দাবি করে এই ছবিটি প্রকাশ করে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস। মিয়ানমার দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে
মিয়ানমারের এমন দাবি মিথ্যা প্রচারণা বলে জানিয়েছেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২৯ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে গেছেন বলে দাবি করেছে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস। তবে মিয়ানমারের এমন দাবি অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয় বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত বাংলাদেশ সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ২৯ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ থেকে তাং পিয়ো লিটো রিসেপশন সেন্টারের মাধ্যমে মিয়ানমারে ফিরে গেছেন।

তবে মিয়ানমারের এমন দাবি মিথ্যা প্রচারণা বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যদি একজন ব্যক্তিও ফিরে গিয়ে থাকে তবে সেটা হবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মাধ্যমে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।”

কমিশনার আরও বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন নিবন্ধিত ব্যক্তিও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি। কিন্তু মিয়ানমার তাদের অভ্যাসবশতঃ অপপ্রচারের অংশ হিসেবেই এ দাবি করছে।

মিয়ানমার দূতাবাস আরও দাবি করে, এ পর্যন্ত ৩৫১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে গেছেন। এ ছাড়া আরো অনেকেই সেখানে ফিরে যেতে চান বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।

ওই ফেসবুক পোস্টে আরো দাবি করা হয়, “মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিরাপদ, মসৃণ ও স্থায়ী করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে, যা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হবে।”

যদিও কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাবার জন্য এ পর্যন্ত দুইবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফিরে যেতে অনীহার কারণেই এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের ৩০টি ক্যাম্পে কমপক্ষে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছেন যাদের সাত লাখেরও বেশি এসেছেন ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত বছরের জানুয়ারি মাসে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

ওই চুক্তির সূত্র ধরে গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোনো রোহিঙ্গাই মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহ দেখাননি। রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, মিয়ানমার তাদেরকে সম্মানজনকভাবে ফিরিয়ে নেবে এবং নাগরিকত্ব সে বিষয়ে কোনো গ্যারান্টি নেই।

পরে চলতি বছরের আগস্ট মাসে দ্বিতীয় বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। কিন্তু একই কারণে এ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
সুত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

পাঠকের মতামত

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

পালংখালীর ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন কামনা

কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং (কাস্টমস) ওয়ার্ড থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ...

অষ্টাদশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ হলেন উখিয়ার রিদুয়ান

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ...