প্রকাশিত: ১০/১০/২০১৬ ১১:০৬ এএম

আরটিভি::ভয়ঙ্কর মরণ নেশা ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে স্রোতের মতো। মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার ৩৭টি কারখানায় তৈরির হয় এসব ইয়াবা। কক্সবাজার ও বান্দরবানের ২৭২ কিলোমিটার সীমান্ত পথের ২০টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে ঢুকছে সেগুলো। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের নেশায় এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন রাঘব বোয়ালরা। তবে অজানা কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে তারা।

কখনো ভেলায় ভাসিয়ে, গাড়িতে সংবাদপত্রের স্টিকার লাগিয়ে, কখনো বা ল্যাপটপ ও মোবাইলের বক্স করে, দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি বা গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর ঢুকিয়ে পাচার হয় এসব ইয়াবা। নারী মাদক পাচারকারীরাও বিশেষ পদ্ধতিতে এ মাদকদ্রব্য পাচার করে। কিছু চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করলেও বেশিরভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবাধে এ মরণ নেশার বিস্তার ঘটিয়ে কোটিপতি বনে যাচ্ছেন চোরাকারবারী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থলপথে শাহপরীর দ্বীপ, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, জালিয়াপাড়া, হেচ্ছারখাল, নাইট্যাংপাড়া, বড়ইতলী, জাদিমোরা হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে মিয়ানমারের ইয়াবা। আর সমুদ্রপথে হাড়িয়াখালিভাঙ্গা, কাঁকাবুনিয়া, খুরেরমুখ, আলুর ডেইল, মুড়ার ডেইল, বাহারছড়া ঘাট দিয়ে চালান আসে। সীমান্তপথে আসা এসব ইয়াবা বড় বড় রাঘব বোয়াল ছড়িয়ে দেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম আরটিভিকে বললেন, মিয়ানমারের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। তারা কক্সবাজার, টেকনাফ, বান্দরবান, টেকনাফের স্থানীয় লোকদের সঙ্গে যোগসাজশে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।

সাগর ও নদীপথে আসা ইয়াবার একটি অংশ পাচার হয় টেকনাফ, হ্নিলা ও উখিয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। কড়া নজরদারীর কারণে সড়কপথে ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি সমুদ্র ও নদী পথকেই বেছে নিয়েছে চোরাচালানীরা।

টেকনাফ বিজিবি-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু জার আল জাহিদ আরটিভিকে বললেন, ইয়াবা পাচারের মূল রুট হিসেবে এতোদিন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা বেশি ব্যবহার হয়েছে। যা বর্তমানে অনেকটা কম। এখন চোরাচালানীরা নতুন কিছু রুট ব্যবহার করছে।

বর্তমানে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূর দক্ষিণের সীতাপাহাড়ে মিয়ানমারের ট্রলারের মাধ্যমে আসে ইয়াবার বড় বড় চালান। সাগরপথে মাছ ধরার বড় ট্রলারে করে এসব চালান সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম হয়ে নারায়ণগঞ্জে আসে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশের খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে রয়েছে তালিকাভুক্ত ৭শ’ ইয়াবা পাচারকারী। তারমধ্যে মহেশখালীর ৭, বান্দরবানের ১৫ জন ছাড়া বাকি পাচারকারী সবাই টেকনাফের বাসিন্দা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম আরটিভিকে বললেন, কিছু বড় ব্যবসায়ী আছে, যাদের নাম রয়েছে ইয়াবা পাচারকারী তালিকায়। কিন্তু কখনো তাদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা যায় না। যাদের থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়, তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও বড় বড় ব্যবসায়ীর নাম থেকে যায় আড়ালে। তাই এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

দেশে প্রায় ২৫ লাখ ইয়াবাসেবী রয়েছে। সে হিসাবে দিনে প্রায় ৫০ লাখ ইয়াবার বাজার তৈরি হয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৫টি সংস্থা। তবে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত রাঘব বোয়ালদের ধরতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহায়তা চায় সাধারণ মানুষ।

 

পাঠকের মতামত

উখিয়ার নিদানিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব: ‘ডাকাত ভুট্টো’র দাপটে আতঙ্কিত জনপদ

উখিয়া উপজেলার উপকূলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের মধ্যম নিদানিয়া গ্রামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ...

জামায়াত নেতাকে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে জামাল উদ্দিন নামে জামায়াতের এক নেতাকে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ...

বিরোধী নেতাকে ‘রোহিঙ্গা’ প্রার্থী বলে ইঙ্গিত করলেন রুমিন ফারহানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক প্রার্থীকে ‘রোহিঙ্গা’ বলে ইঙ্গিত করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (৮ ...

বিয়ের দুদিন আগেই বরের দাফন

আগামী শুক্রবার বিয়ে। এ উপলক্ষে বর-কনের পরিবারে চলছিল জোর প্রস্তুতি। এদিকে বিয়ের পিড়িতে বসার উদ্দেশেই ...

নাইক্ষ্যংছড়িতে মায়ানমারের নাগরিকসহ আটক দুই

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম এলাকায় বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রকার মালামালসহ দুইজন চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার ...