
খানিকটা অবাক লাগলেও সত্যি যে, দুবাইয়ে হতে যাচ্ছে ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মহাসড়ক। তবে এই মহাসড়কে কেবল সাইকেল চলতে পারবে। পরিবেশবান্ধব এই মহাসড়ক হবে কার্বন ও জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত সড়ক।
ইউআরবি নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এই মহাসড়ক তৈরির কাজ করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাহারাশ বাঘারিয়ান জানান, শিগগিরই এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শুরু হবে। তারপর নির্ধারিত হবে এই উচ্চাভিলাষী ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পটি শুরু হবে কি না।
বাঘারিয়ান বলেন, পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই মহাসড়কের নকশা করা হবে। দুবাইয়ের চারপাশে বেষ্টনীর মতো করে তৈরি হবে এই মহাসড়ক। এর দুধারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নানা ধরনের গাছপালা লাগিয়ে তৈরি হবে সুন্দর উদ্যান। ফল ও সবজি বাগানে দর্শনার্থীরা ভ্রমণের পাশাপাশি টোকেনের মাধ্যমে তা সংগ্রহও করতে পারবেন। এমনকি সেখানে যে রেস্টুরেন্টগুলো থাকবে, তা ও সেই বাগানে উৎপাদিত তাজা সবজি দিয়ে তৈরি খাবার সরবরাহ করবে, যা দেশের কৃষি পর্যটনকে এগিয়ে নেবে। তা ছাড়া এখানে ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষজন সবুজের গুরুত্ব আরও বেশি করে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে। মোট কথা, দেশকে সবুজ অর্থনীতির দিকে পরিচালিত করতে ভূমিকা রাখবে এই মহাসড়ক।
বাঘারিয়ান বলেন, কৃষি অঞ্চলের কাঠামোটি ওপরে বিশালাকৃতির স্টিলের শামিয়ানার মতো হবে। আর বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে এখানকার রেস্টুরেন্ট, ক্যাফেগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
মরু এলাকা দুবাইতে যেহেতু পানি সংকট রয়েছে, তাই লবণাক্ত জল বা খরা সহিষ্ঞু গাছের প্রতি জোর দেয়া হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে পাখি ও পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাস।
বাঘারিয়ান জানান, আগামী বছরেই শুরু হতে পারে মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ। আর ২০৪০ সাল নাগাদ তা দুবাইয়ের সাইক্লিস্ট ও দৌড়বিদদের জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে।
সূত্র সিএনএন

পাঠকের মতামত