প্রকাশিত: ৩১/০৩/২০২১ ৯:০৫ এএম

কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে নতুন করে শেল্টার নির্মাণ ও খাদ্যসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তায় অনেকগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্যাম্পের স্থানে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই শেল্টার নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগুনের ঘটনায় কোনও রোহিঙ্গা নাগরিক নিখোঁজের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি সরকারি সংস্থাগুলো। যেসব সংস্থা নিখোঁজের বিষয়টি সামনে এনেছে, তাদের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই রোহিঙ্গারা যে নিখোঁজ রয়েছেন, এমন কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত দিতে পারেনি। অপরদিকে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২২ মার্চ কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে ৯ হাজারের বেশি পরিবারের ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা নিঃস্ব হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে মারা যান ১১ জন। দগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এরইমধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালের সমমূল্য ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই মানবিক সহায়তার কাজ তত্ত্বাবধান করবেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। এছাড়া প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য একই ডিজাইনের ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের কক্ষসহ ২০০ ফুট লম্বা শেল্টার তৈরি করে দেওয়া হবে। সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছে আশ্রয় সরঞ্জামাদি ছাড়াও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।


আগুনের ঘটনার দুই দিন পর ২৪ মার্চ উখিয়া পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সহায়তা করা হবে। তাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওইদিনই তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকায় ফিরে আসেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ্ রেজওয়ান হায়াত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা অস্থায়ীভাবে তাবুসহ বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাদের জন্য শেল্টার বানানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। একই সাইজের একই ডিজাইনের হবে ঘরগুলো।’

আগুনের ঘটনায় কোনও নিখোঁজ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, ‘যেসব সংস্থা নিখোঁজের কথা বলেছিল, তাদের কাছে আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছি। কিন্তু তারা এখনও নিখোঁজের বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেনি। আমরা নিজেরাও এখনও কোনও নিখোঁজের তথ্য পাইনি। নিখোঁজের বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত না হওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বলা যাবে না নিখোঁজ রয়েছে। আগুন লাগার পর বিভিন্নজন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কিংবা অন্য শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আর নিহতের বিষয়েও ১১ জনের বাইরে আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: বাংলাট্রিবিউন

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...
Single Page Footer