
রফিকুল ইসলাম 
কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে রোহিঙ্গাদের মানবিক সেবায় স্থাপিত মালয়েশিয়ান ফিল্ড হাসপাতাল। করোনায় ভয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অনান্য কর্মচারীরা ১০ মাস আগে মালয়েশিয়া চলে গেলেও আর ফিরে আসেননি। এতে দূর্ভোগে পড়েছে অসংখ্য স্হানীয় ও রোহিঙ্গা সেবা প্রত্যাশী রোগী। হাসপাতালটির কার্যক্রম ভাসানচরে চালু করা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর মিয়ানমার থেকে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটলে তাদের মানবিক সহায়তায় দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সংগঠন কক্সবাজারে ছুটে আসে। একইভাবে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উখিয়ায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে এগিয়ে আসে। উখিয়া কলেজ সংলগ্ন সরকারী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছিল মালয়েশিয়া ফিল্ড হাসপাতাল।
২০১৮ সালের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ান সেনাপ্রধান, একাধিক মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্থ সামরিক -বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উখিয়ার ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করেন। হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্হানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেক অসুস্থ মানুষ বিনামূল্যে ভাল সেবাও পেয়েছিলেন। এ হাসপাতালে আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংযুক্ত করা হয়েছিল। মোটামুটি চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে সেবা প্রাপ্তরা সন্তুষ্ট ছিল।
ফিল্ড হাসপাতালের পাশ্ববর্তী ছোট চা দোকানদার মৌলভী মোঃ ইউসুফ বলেন, প্রতিদিন আউটডোরে ১৫০-২০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হতো। ২০ বেডের ইনডোরে প্রায় সময় রোগী ভর্তি থাকত। অনেক অসুস্থ মানুষ সুচিকিৎসা পেয়ে সুস্থতা ফিরে পেয়েছিলেন। মালয়েশিয়ান ডাক্তার- নার্সরা রোগীদের সার্বক্ষনিক সেবা প্রদান করতেন।
পাশ্ববর্তী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ নুর বলেন, গত প্রায় ১০ মাস ধরে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে পড়ায় অসংখ্য দরিদ্র অসুস্থ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। কিন্তু করোনা মহামারীর শুরুতে মালয়েশিয়ার ডাক্তার ও নার্সরা এতগুলো অসুস্থ মানুষের কথা না ভেবে দেশে ফিরে যায়। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের অর্থায়নে মালয়েশিয়ার সশস্ত্রবাহিনীর পরিচালনায় বেশ ভালই চলছিল হাসপাতালটি। হাসপাতালের কার্যক্রম কেন হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হল তার সঠিক কিছু জানাতে পারেননি বাংলাদেশী কর্মরতরা।
কক্সবাজারস্হ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন অফিসের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ ত্বোহা হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রথম প্রথম যখন রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমন ঘটে তখন উখিয়া কলেজ সংলগ্ন এ ফিল্ড হাসপাতালটি ইমার্জেন্সি মূহুর্তে চালু করা হয়। এখন আর জরুরী মূহুর্ত নেই।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনায় এ হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলো। চিকিৎসা সেবার মানও ভাল ছিলো। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি অসংখ্য বাংলাদেশী চিকিৎসা সেবা নেন। মালয়েশিয়ান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে এ ব্যাপারে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।
আন্তঃ মন্ত্রণালয় তাদের সাথে করা এমওইউ অনুযায়ী হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু রাখতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, উখিয়ায় না হলেও অন্তত নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবার মালয়েশিয়ার ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে।
সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত