প্রকাশিত: ২৯/০২/২০২০ ৮:৫৪ পিএম

শেষদিনের শেষ বেলায় উপনীত অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০। সব মানুষের কাছে বইমেলা হিসেবে পরিচিত এই সাংস্কৃতিক তীর্থের পর্দা নামবে আর কিছু সময় পর। শেষবেলায় তাই মেলা মাঠে ঢল নেমেছে পাঠকের।

মাসব্যাপী চলা বইমেলার শেষ দিনের দুপুর পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ ছিল শান্ত। পাঠক ছিলেন, তবে ভিড় ছিল কম। বেলা গড়িয়ে বিকাল হতে না হতেই রাজধানী ও আশেপাশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনস্রোত শুরু হয় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পথে। দোয়েল চত্বর কিংবা টিএসসি দুই পাশ থেকেই বাংলা একাডেমি পর্যন্ত রাস্তায় দেখা যায় মানুষের ঢল। এসময় মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেও লাইনে দাঁড়াতে হয় পাঠক-দর্শনার্থীদের।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থী পাঠকদের মধ্যে উৎসবমুখর আমেজ। যারা ঘুরতে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ শেষবারের মতো পছন্দের জায়গায় ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। আর বইপ্রেমীরা ঘুরছেন মেলার স্টলে স্টলে। মেলায় ঘোরাঘুরি করছেন লেখকরাও, কেউ কেউ বসেছেন তার বইয়ের প্রকাশকের স্টলে, কেউ জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন বন্ধুসহ চেনা-অচেনা পাঠকদের সঙ্গে। বিশিষ্ট লেখকরা আজও সই শিকারিদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন মন খুলে। তরুণ লেখকদের অনেকে লিটল ম্যাগ চত্বরসহ বাংলা একাডেমির বিভিন্নপ্রান্তে বসে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। অনেকে ভাব বিনিময় করছেন পাঠকদের সঙ্গে।

বইমেলার শেষ দিনে যখন গোধূলী নামে, বাড়ে পাঠকের আনাগোনা
বইমেলার শেষ দিনে যখন গোধূলী নামে, বাড়ে পাঠকের আনাগোনা

এছাড়া মেলায় দেখা গেছে লম্বা ফর্দ নিয়ে পছন্দের বই কিনতে স্টলে স্টলে যাচ্ছেন বইপ্রেমীরা। কারও হাতে, কারও ঝোলায় ঝুলছে পছন্দের বই, ওজনকে অগ্রাহ্য করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন অনেকে প্রিয় আরও কিছু বই খুঁজে কিনে নেওয়ার আশায়।

মেলায় আগত হোসেন সাগর নামের এক দর্শনার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সারা মাসই বইমেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা থাকে। কিন্তু, শেষ বেলায় তার বহিঃপ্রকাশ আরও বেশি দেখা যায়। পাঠক হিসেবে কিছু একটা হারানোর বেদনাও অনুভব করি। সেই অনুভবই আকর্ষণ হিসেবে পরের মেলায় টেনে আনে আমাদের। মনে হয় সব বইপ্রেমীর মধ্যেই এই টানটা থাকে। নাহলে বইয়ের আড়তে প্রতিবছর এত মানুষের আনাগোনা হবে কেন? বছর ঘুরে আবারও বইমেলা আসবে সে প্রত্যাশাতেই আছি।

মেলায় প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেষবেলায় বিক্রি ভালোই হচ্ছে। মোটামুটি যারাই মেলায় আছেন, সবাই বই কিনছেন।

আর, তথ্যকেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী, শেষদিনেও মেলায় এসেছে বেশকিছু বই। মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানও হয়েছে বেশ কয়েকটির।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান। আর রাত ৮টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়েই বিদায় নেবে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

পাঠকের মতামত

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াটাও কঠিন হয়ে যাবে একদিন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ...

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সুইডিশ সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ...

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনবিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে ...

হঠাৎ ঢাকায় ভারতের ‘র’ প্রধান

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা ...

কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে, চেহারা কেউ দেখেছে: প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশের মানুষ কখনও গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ...
Single Page Footer