প্রকাশিত: ০২/০৮/২০১৯ ৯:৪১ এএম

হুমায়ুন কবির জুশান,, উখিয়া:
চীন ভারতসহ শক্তিশালী প্রতিবেশি দেশগুলো ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য মিয়ানমারকে যেভাবেই হোক আস্থায় রাখার পক্ষপাতী। চীন ও রাশিয়ার সুবাদে মিয়ানমার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কড়া পদক্ষেপ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখলেও বিশ্বসমাজের ক্ষোভ থেকে নিরাপদ থাকতে পারছে না। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর টনক নড়েছে মিয়ানমারের। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের দেখতে আসেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। ১ মাস পর আবার আসার এবং প্রত্যাবাসনের কথা বলে ১ বছরেও আর আসেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্তিশালী প্রতিবেশি দেশ চীন সফরের ১ মাসের মাথায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত ২৭ জুলাই কক্সবাজারে আসে। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চিয়তা কাটেনি। দুর হয়নি কবে কোন পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন হবে তা নিয়ে সৃষ্ট সংশয়। মিয়ানমারের ওপর এখনো আস্থা রাখতে পারছেন না নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা দেখছেন না আশার আলো। রোহিঙ্গা নেতা জিয়াবুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ছাড়া কোনো প্রত্যাবাসন হবে না। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ধারণার ইতি টানতে হবে। এ ছাড়া জমিজমা ফেরত দেওয়া এবং ধ্বংস করা বাড়িঘর, গ্রাম পুনর্গঠনসহ আরও অনেক শর্ত দিতে হবে। বার্মিজ সেনাবাহিনী যদি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশকের নির্যাতন ও বৈষম্যের চর্চাকে পাল্টানোর বিরাট কাজটা শুরু না করে, তাহলে স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে বহু রোহিঙ্গার মধ্যে পর্যাপ্ত আস্থা তৈরি করা কঠিন হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সহিংসতার শিকার হওয়া মিয়ানমারের ওই জনগোষ্ঠীর রাখাইনে ফেরার বিষয়টি যেন স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরাও প্রস্তুত। ময়নাঘোনা ক্যাম্পের বয়োবৃদ্ধ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে। আর গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তার জন্যে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশ্ব নেতারা। এবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে চীন এমনটি মনে করে স্থানীয় সাংবাদিক পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা চাই সম্মানের সাথে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক।

পাঠকের মতামত

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...
Single Page Footer