প্রকাশিত: ২০/১২/২০১৯ ৯:১৮ এএম
ফাইল ছবি

কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দফার সংলাপ। দুই দিনের সফরে আসা মিয়ানমার ও আসিয়ানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি ৪৭ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপ করেছে। এ সময় তারা রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যেতে অনুরোধ জানান। প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গাদের বলেছে, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নিয়ে স্বদেশে ফিরে যেতে।

কিন্তু রোহিঙ্গারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, রাখাইনে পূর্ণ নাগরিকতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিলেই তারা ফিরে যাবেন, এর আগে নয়। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান মামলা ভিন্ন খাতে নিতেই রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলাকে কৌশল হিসেবে নিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনীতিক বিভাগের পরিচালক চ্যান অ্যায়ের

নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, শ্রম ও অভিবাসন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন। একইভাবে সাত সদস্যের আসিয়ান প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মুহিব উল্লাহ বলেন, মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি সেই পুরনো কথাগুলোই বারবার বলছে। ‘এনভিসি’ কার্ড নিয়ে আমরা কোনোভাবেই মিয়ানমারে ফিরব না। এ কথা বলার পরও দীর্ঘদিন পরে এসে সেই পুরনো কথা নতুন করে শুরু করছে মিয়ানমার। সংলাপে নতুনত্ব বলতে কিছুই নেই।

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার সিরাজ আহমদ বলেন, এটি মিয়ানমারের নাটক। আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলাকে কৌশল হিসেবে নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো ছাড়া আমি কিছুই দেখছি না।

আরেক রোহিঙ্গা নেতা ডা. জোবায়ের আহমদ বলেছেন, ‘বৈঠকে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি যে আমাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো সুরাহা দেখছি না।

রোহিঙ্গা নারী নেত্রী জামালিদা বেগম বলেন, ‘রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারছি না মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে। তারা রাখাইনের সহিংস কোনো ঘটনা শুনতে রাজি নন। বলছে তোমরা প্রথমে ‘এনভিসি’ কার্ড নাও পরে পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু ‘এনভিসি’ কার্ডের মধ্যে নানা শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত সচিব শামশুদ্দোজা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের নয় সদস্যের ও আসিয়ানের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে এসেছে। প্রথম দিনে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংলাপ শেষ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে একই স্থানে আবার সংলাপ শুরু হয়ে ২টার দিকে শেষ হয়। বিকালে প্রতিনিধি দলটি ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করে।

এর আগে চলতি বছরের ২৭ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করে। এ সময় আসিয়ানের প্রতিনিধি দলটিও সঙ্গে ছিল। সে সময়ে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যৌথ সংলাপে অংশ নেয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে’র নেতৃত্বে আরও একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনায় প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছর ৬ জুন নেপিদুতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতার চুক্তি হয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফা ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের দিন ধার্য করে ৩ হাজার ৪৫৫ রোহিঙ্গা নাগরিকের তালিকা পাঠায় মিয়ানমার সরকার। কিন্তু কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ফিরতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে যায়।

পাঠকের মতামত

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...
Single Page Footer