প্রকাশিত: ০৬/০৯/২০১৯ ৮:৪২ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
এত আলোচনা, এত সতর্কতার পরও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ে পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। তাদের কেউ কেউ ধরা পড়লেও সসম্মানে ফিরে আসছে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে। গত এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট করতে আসা এমন ৩০ রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। আবেদন ফরমে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তাদের অনেককেই চট্টগ্রামের দক্ষিণের সাত উপজেলাকে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এ এলাকার মানুষের আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মাতৃভাষার অনেক মিল রয়েছে।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সেখানে পাসপোর্ট করতে এসে ১৪ রোহিঙ্গা ধরা পড়ে। আর জুলাই ও আগস্টে শনাক্ত করা হয় আরও ১৫ জনকে। গতকাল বৃহস্পতিবারও এক রোহিঙ্গা সেখানে পাসপোর্ট করতে এসে ধরা পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাসপোর্ট ফরম জমা দেওয়ার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা খুব কমই নানা প্রশ্ন করেন আবেদনকারীকে। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলেই কেবল তারা প্রশ্ন করেন। তখনই রোহিঙ্গারা ফাঁদে আটকে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ে পাসপোর্ট নিতে এসে ধরা পড়লেও এ জন্য তাদের কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয় না। ফলে আগেরবার পাসপোর্ট করাতে এসে যে রোহিঙ্গা ধরা পড়েছিল, ওই ব্যক্তি আবারও ফরমের তথ্য সংশোধন করে অনেক সময় পাসপোর্ট পেয়ে যায়।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নুরুল আমিন মৃধা বলেন, নানা কৌশলে আমরা রোহিঙ্গাদের ধরি। নিয়ম অনুযায়ী ধরা পড়া রোহিঙ্গাদের আমরা পুলিশের হাতে সোপর্দ করি। অবশিষ্ট আইনি বিষয় দেখার দায়িত্ব পুলিশের।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধরা পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সর্বোচ্চ আটজন লোহাগাড়া উপজেলাকে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচজন নিজেদের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছেন পাঁচলাইশকে। এ ছাড়া চারজন সাতকানিয়া, তিনজন পটিয়া, তিনজন বাঁশখালী ও দুজন আনোয়ারা উপজেলাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর বাইরে একজন করে রোহিঙ্গা কর্ণফুলী, হালিশহর, চান্দগাঁও, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছেন। এসব ঠিকানার বিপরীতে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ছিল। সেই সঙ্গে ছিল জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

জানা যায়, রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময় নিয়ে একটি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। তারা প্রথমে নানা উপায়ে জন্মসনদ সংগ্রহ করেন। এর পর সেটি ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। পরে সেটি দেখিয়েই আবেদন করেন পাসপোর্টের জন্য। সম্প্রতি উখিয়া ও টেকনাফের শিবিরগুলো ঘুরেও এ ধরনের নানা কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের বিষয়টি জানা গেছে। ওই দুই উপজেলার স্থানীয়রা জানান, অনেক রোহিঙ্গা জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে নেয় স্থানীয় কিছু কম্পিউটারের দোকান থেকে। এর পর পথে পথে চেকপোস্টে সেটি প্রদর্শন করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলে আসে।

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, পাসপোর্ট করাতে এসে রোহিঙ্গারা ধরা পড়লে আমরা গোয়েন্দা বার্তা দিই। এর পর প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও রবিবার রোহিঙ্গা শিবির থেকে বাস আসে। ওই বাসে করে তাদের আবার রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রোহিঙ্গারা ধরা পড়লে কোনো মামলা করা হয় না। অতীতেও এভাবেই রোহিঙ্গাদের ফেরত দেওয়ার রেওয়াজ চলে এসেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেন বিভিন্ন উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা। এটা নিয়ে তারা পুলিশের সঙ্গেও ঝগড়া করেন। আর রোহিঙ্গাদের নিয়ে যদি মামলা করতে হয় তা হলে সারাদেশে লাখ লাখ মামলা শুরু করতে হবে। সুত্র: আমাদের সময়

পাঠকের মতামত

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

পালংখালীর ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন কামনা

কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং (কাস্টমস) ওয়ার্ড থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ...

অষ্টাদশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ হলেন উখিয়ার রিদুয়ান

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ...