
দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় পর ১৭ জানুয়ারি কারামুক্ত হয়েছেন ‘আলোচিত’ জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী। নানা ‘ঝুট-ঝামেলা’ মিটিয়ে কারামুক্ত হয়েই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাত করছেন আগের মতোই। তবে ‘কৌশলে’ উপস্থিত হচ্ছেন বিয়ে, মেজবান, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। ক্ষণিকের জন্য দেখা দিলেও রাজনৈতিক কারণে ‘জনসম্মুখ’ এড়িয়ে চলছেন তিনি। ফের ‘গ্রেপ্তার আতঙ্ক’ না থাকলেও সরব উপস্থিতি দেখিয়ে নতুন করে ‘নজরবন্দি’ হতে চাইছেন না শাহজাহান চৌধুরী— এমনটা বলছেন তার ভক্ত নেতাকর্মীরা।
এদিকে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের প্রতিনিধি সম্মেলনে নগর জামায়াতের আমির পদে নির্বাচিত করা হয়েছে তাঁকে। শাহজাহান চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলীয় নেতৃত্বে আসায় খুশির বন্যা বইছে তাঁর অনুসারীদের মাঝে। তবে আনন্দের ঢেউ সামাল দিয়ে নিজেদের মধ্যেই রাখতে চান তাঁরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব নিয়ে বেশি মাতামাতি করলে ‘বিরোধী রাজনীতির’ রোষানলে পড়তে পারেন শাহজাহান চৌধুরী। তাই আপাতত নিজেদের আনন্দ নিজেদের মধ্যেই ভাগাভাগি করতে চান।
nagad
nagad
‘জনসম্মুখ’ এড়িয়ে চলছেন শাহজাহান চৌধুরী
এর আগে তাঁর সঙ্গে নির্বাচনী আসন ভাগের দ্বন্দ্বে নগর জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানকে। কিন্তু আমিরের দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ শাহজাহান শামসুলের ঘনিষ্ট হওয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন শাহাজাহান চৌধুরী বলয়ের নেতাকর্মীরা। দুই নেতার ওই দ্বন্দ্বে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল জামায়াত। এমনকি শামসুলকে সরানোর পর শাহজাহান চৌধুরীকে বহিস্কারেরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবারের ওই প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। এতে করে শাহজাহান-শামসুলের যে দ্বন্দ্ব তা কিছুটা ‘মিটমাট’ হয়েছে বলে আভাস মিলেছে।
কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর নায়েবে আমির ড.আ জ ম ওবায়েদুল্লাহর সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল ওই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক উপাধ্যক্ষ আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি ও নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি এফ এম ইউনুছ, সহকারী সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীসহ মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যরা।
জানতে চাইলে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী শনিবার সন্ধ্যায় সিভয়েস২৪-কে বলেন, ‘মহানগর জামায়াতের প্রতিনিধি সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সর্বোচ্চ ভোটে শাহজাহান চৌধুরী আমির নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবারই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি শপথ নিয়েছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জামায়াত একটি সুসংগঠিত-সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। জামায়াত ইসলামী গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনমত সব সময় রাজপথে ছিল, থাকবে। তবে নতুন আমির দায়িত্ব নিয়েছেন বলে চট্টগ্রাম মহানগর আলাদা করে রাজপথে নামবে বিষয়টি এমন নয়।’
শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীর সেই দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় নির্বাচন ঘিরে দুজনের মধ্যে যে দ্বন্দ্বের কথা বাইরে চাউর হয়েছিল সেটি আসলে সত্য নয়। প্রার্থী হওয়া নিয়ে মানুষের হয়তো মনে হয়েছে এমনটি। দলই সবসময় প্রার্থী চূড়ান্ত করে। আমাদের দলের সিদ্ধান্ত ছাড়া সংসদ সদস্য তো দূরের কথা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, ইউপি মেম্বার হওয়ারও সুযোগ নেই। কাজেই এসব নিয়ে দ্বন্দ্বের প্রশ্নই উঠে না। মানুষ শুনলে অবাক হবেন যে, শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী দুজনেই কারাগারের একই কামরায় ছিলেন। কেউ যখন অসুস্থ হতেন একজন একজনের সেবা শুশ্রূষা করতেন।’
প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তারা যা বললেন
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতকে অতীতের ন্যায় আগামী দিনের সকল আন্দোলন সংগ্রামে প্রধান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার নয়। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বর্তমান ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।‘
চট্টগ্রাম মহানগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করে সাবেক আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে চট্টগ্রামকে জামায়াতে ইসলামীর মজবুত ঘাঁটি হিসেবে তৈরি করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম মহানগর সাবেক আমির মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘আশাকরি, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত নতুন নেতৃত্বে বর্তমান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’
মহানগর আমির শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কর্মসূচি পালন করে সরকার উৎখাতের সংগ্রাম বেগবান করতে হবে। সুত্র, সিভয়েস

পাঠকের মতামত