
ঘুর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবের পর কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিস্থিতি সোমবার অনেকটাই স্বাভাবিক।
এরই মাঝে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দ্বীপের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।
আজ ১৫ মে বিকালে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ পরবর্তী সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে দ্বীপের দুর্গত মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তাসহ ত্রাণ বিতরণ করা করেন।
এসময় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, কোস্ট গার্ড-এর চট্টগ্রাম জোনাল কমান্ডার, জেলা পুলিশ সুপার, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য,১৪মে রোববার বেলা ২টা থেকে বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে ১ হাজার ২০০টির বেশি।
দ্বীপের মাঝেরপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপা, দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, উত্তরপাড়ার অধিকাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। এ কারণে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
ঝড়ে আহত হন অন্তত ১০ জন। ৪০০’র ওপর নারকেল গাছসহ অন্তত ৩ হাজার গাছগাছালির ক্ষতি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকালে এ ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ যখন উপকূল অতিক্রম শুরু করে, তখন এর কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগে দ্বীপের ৩টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৩৭টি হোটেল-রিসোর্ট-কটেজে স্থানীয় প্রায় ৬ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে আনা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ঝড়ের তাণ্ডব থামার পর তারা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেন। এরমধ্যেই বাসিন্দারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন।

পাঠকের মতামত