প্রকাশিত: ১২/০২/২০২২ ২:১০ পিএম , আপডেট: ১২/০২/২০২২ ২:১৮ পিএম

চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত বাবার শ্রাদ্ধ শেষে ফেরার পথে মালুমঘাট নামক স্থানে বেপরোয়া গতিতে চলমান পিকাপের চাপায় ৫ সহোদর ভাই এর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক পিকআপের চালক সাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুল( ২৩)কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।
গতকাল শুক্রবার ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান খান।
আটককৃত ঘাতক চালক সহিদুল ইসলাম ওরফে সাইফুল বান্দরবান জেলার লামা এলাকার মোঃ আলী জাফরের ছেলে।

এ ঘটনায় একই পরিবারের ৪ সহোদর ভাই অনুপম সুশীল (৪৬), নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫) চম্পক সুশীল (৩০) ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন অপর সহোদর ভাই স্বরণ সুশীল (২৪)। দূর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয় তাদের সহোদর ভাই রক্তিম সুশীল এবং বোন হীরা সুশীল। বর্তমানে রক্তিম সুশীল চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

আজ শনিবার ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২ঃ৩০ মিনিটের সময় কারওয়ান বাজারস্থ র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি নিহতদের পিতা সুরেশ চন্দ্র সুশীল বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন এবং গত ০৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূজা শেষ করে তারা৯ ভাই-বোন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মালুমঘাট বাজারের নিকট রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষারত ছিলেন। এ সময় ভোর ৫ টার দিকে কক্সবাজারমুখী বেপরোয়া গতিতে চলমান একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূলসড়ক থেকে নেমে গিয়ে তাদের চাপা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় নিহতদের ভাই প্লাবন সুশীল (২২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপ চালককে আসামী করে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় সড়ক পরিবহন আই্নে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই পরিবারের ৫ সহোদরের মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথম থেকেই সংবাদ মাধ্যমগুলোতে গুরুত্ব সহকারে প্রচারে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে, র‌্যাব দূর্ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে গতকাল রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ঘাতক পিকআপ চালককে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত পিকআপের চালক সাইফুল নিহতদেরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃতের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ঘাতক পিকআপের চাবি।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃত সাইফুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তারেক ও রবিউল নামক দুইজনসহ চকরিয়া থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সবজি বোঝাই পিকআপ নিয়ে সে রওনা করে। রাস্তায় অধিক কুয়াশা থাকা সত্তে¡ও চালক সাইফুল দ্রুত কক্সবাজার পৌঁছে সবজি ডেলিভারি দেয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে পিকআপটি চালাচ্ছিল। অধিক কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে মালুমঘাট বাজারের নার্সারি গেটের সামনে রাস্তা পাড় হওয়ার জন্য অপেক্ষারতদেরকে চালক সাইফুল দূর থেকে লক্ষ্য করতে পারেনি। গাড়ীর অধিক গতি থাকার কারণে কাছাকাছি এসে লক্ষ্য করলেও গাড়িটি সে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে দূর্ঘটনাটি সংঘটিত করে। দূর্ঘটনার সময় তার সাথে পিকআপ মালিকের ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল ছিল। সে আরও জানায়, দূর্ঘটনার সময় গাড়িটি প্রায় ৬৫-৭০ কিঃ মিঃ/ঘন্টা গতিতে চলছিল এবং চালক গাড়ি থামানোর জন্য ব্রেক করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি প্রায় ১০০ ফুটের মতো সামনে চলে যায়। পরবর্তীতে চালক পিকআপ থেকে নেমে নিহতদের দেখতে আসলেও মালিকের ছেলে তারেকের নির্দেশে সে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত পিকআপ চালক সাইফুল এর কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলেও দীর্ঘ ২ বছর যাবত সে পিকআপ, চাঁন্দের গাড়ী ও টন ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চালানোর কাজে নিয়োজিত ছিল। দূর্ঘটনার ১ সপ্তাহ পূর্বে সে উক্ত পিকআপটি মালিকের নিকট থেকে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে চালানো শুরু করে। ইতোপূর্বে সে বান্দরবানের লামাতে একটি রাবার বাগানে চাকুরী করত বলে জানা যায়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান ,দূর্ঘটনার পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত সাইফুল মালুমঘাট বাজারের একটি স্থানে গাড়িটি থামিয়ে মালিককে ফোন করে দূর্ঘটনার বিষয়টি জানায়। গাড়িটির মালিক তাকে পিকআপটি পরবর্তী কোন এক স্টপেজে রেখে লোকাল বাসে করে তার সাথে দেখা করতে বলে। মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ডুলাহাজরায় এসে পিকআপটি রাখে এবং লোকাল বাসে করে চকরিয়া গিয়ে মালিকের সাথে দেখা করে। পিকআপের মালিক মাহমুদুল তাকে নূন্যতম ১ বছর আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দিলে সে প্রথমে তার পূর্ববর্তী চাকুরীস্থল বান্দরবানের লামার রাবার বাগানে আত্মগোপনে যায়। পরবর্তীতে জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে অন্যত্র আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা হতে র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়।

তিনি আরও জানান, পিকআপের মালিক মাহামুদুল করিম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন মালুমঘাট এলাকার শামছুল আলমের ছেলে । মূলত তিনি সবজি পরিবহণের ব্যবসা করেন। তিনি চকরিয়ার সবজির আড়ৎ থেকে কক্সবাজার সদর ও মহেশখালী এলাকায় সবজি সরবরাহ করত। তার ছেলে তারেক সবজি সরবরাহের তদারকি করত এবং ভাগিনা রবিউল তারেকের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। তিনি ২০১৬ সালে উক্ত পিকআপটি ক্রয় করেন। মূলত সবজি পরিবহণের উদ্দেশ্যেই পিকআপটি ব্যবহার করা হতো। গত ৪ বছর ধরে উক্ত পিকআপের ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন এবং গত ৩ বছর ধরে রুট পারমিট মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। দূর্ঘটনা পরবর্তীতে পিকআপের মালিক, তার ছেলে তারেক ও ভাগিনা রবিউল আত্মগোপনে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

পাঠকের মতামত

 

ইষ্ট বেকারের জ্যাম-ফিল্ড ব্রেডে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের ...

আর্জেন্টিনার জয়োল্লাসের ভিডিও করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে ...

জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কক্সবাজারের বন্যাদুর্গতদের পাশে আইআরসি

কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। আইআরসির পক্ষ থেকে কক্সবাজারের ...

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র ...