প্রকাশিত: ১২/০৭/২০২০ ১০:৪৬ এএম

ইমাম খাইর, কক্সবাজার
করোনা পরিস্থিতিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সভায় ৭ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ বিষয়ে শনিবার (১১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সভাপতিত্বে কক্সবাজার জেলায় কোভিড-১৯ মোকাবেলা সংক্রান্ত সার্বিক দিক নির্দেশনার ওই সভায় জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা নিম্নগামী হয়েছে।
এধারা অব্যাহত রাখতে আংশিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা আরও কিছু দিন বহাল রাখা দরকার।
আবার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যাতে চালু হতে পারে যেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জাফর আলম, কানিজ ফাতেমা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ঃ
১) রোগ সংক্রমণের ব্যাপকতা বিবেচনায় সিভিল সার্জনের সুপারিশের ভিত্তিতে কোন এলাকার এক বা একাধিক অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হবে।

২) যেকোন পরিস্থিতিতে সকল প্রকাশ্য স্থানে জনসাধারণকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কবিহীন কোন নাগরিককে প্রকাশ্যে চলাচল বা অবস্থান করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩) পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে আগ্রহী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনলাইন মার্কেট হতে কোরবানির পশু ক্রয়ের অনুরোধ।

৪) রাস্তার ধারে কোন প্রকার পশুর হাট বসানো যাবেনা। যেসব স্থানে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাকে স্বাস্থ্য-বিধি ও সামাজিক দুরত্ব মেনে চলতে হবে। প্রতিটি হাটে মোবাইল কোর্ট ও আইন-শৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হলে হাটের ইজারা/অনুমোদন বাতিলসহ ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫) কাঁচা-বাজার, সুপার মার্কেট, শপিং মল ইত্যাদি সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সর্বক্ষত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে এবং স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ায় ব্যবস্থা ইত্যাদি রাখতে হবে।

৬) সকল প্রকার গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। ইজিবাইক বা অটোরিক্সায় সর্বোচ্চ তিনজন যাত্রী পরিবহণ করা যাবে।

৭) পবিত্র ঈদ-উল-আযহার পর জেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পর্যটন স্পটসমূহ খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকসুদ মিয়া, সেনা ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ নজিবুল ইসলাম, সাংবাদিক এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে ‘হত্যা’, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ...

‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ...

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন ...