
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া পর্যটন নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কক্সবাজার প্রেসক্লাবসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি অফিস। এসব অফিসের কাছাকাছি উঠেছে বহুতল দৃষ্টিনন্দন নানা ভবন।
তবে অবাক করার বিষয় হলো, প্রশাসনের দৃষ্টি এড়াতে এসপি কার্যালয়ের পাশে এমন এক অভিজাত বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ইয়াবার ‘ডেরা’ তৈরি করেছিলেন মাদক কারবারিরা। প্রতি সপ্তাহে নিজেদের গাড়িতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ইয়াবার চালান নিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নজরে আসে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি)। এসপির নির্দেশনায় ফোর্স নিয়ে অভিযানে তিন লাখ ইয়াবা জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এসময় ডেরার তিন সদস্যকে আটক করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত শহরের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউজ রোডের কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলার নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে এ অভিযান চালানো হয়। ভবনটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেস ক্লাবের ঠিক সামনেই অবস্থিত।
আটকরা হলেন শরীয়তপুরের আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মো. শামীম (৩০) ও ভোলার মো. রাকিব (২৫)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের কেবিনেটের ভেতরে থাকা দুটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৩০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে পাওয়া যায় তিন লাখ পিস ইয়াবাসদৃশ ট্যাবলেট। এসময় তিনটি মোবাইলফোনও জব্দ করা হয়।
ওসির ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবাগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জে রাহাদ হোসেন (২৬) নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য ফ্ল্যাটটিতে মজুত করা হয়েছিল। ফ্ল্যাটটি রাহাদের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি পলাতক।
আটক আরমান সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে স্বীকার করেন, এর আগে দুই লাখ পিস করে ১০টি চালানে মোট ২০ লাখ পিস ইয়াবা রাহাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটটিতে কারা আসা-যাওয়া করতেন, তা শনাক্ত করতে ভবনটির গত এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ইয়াবা মজুত ও পাচারের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার তিনজন ও পলাতক রাহাদ পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটটি ইয়াবা মজুত ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, শহরের অভিজাত ভবনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বড় মাদক কারবারিদের বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। বেশি ভাড়া ও বাসিন্দাদের বিষয়ে খোঁজখবর কম রাখার সুযোগে এসব ভবন মাদক মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং সাংবাদিকদের কেউ কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে পেশা বা পরিচয় বিবেচনা না করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, মাদক ও অপরাধের বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে। আমরা কাজ করছি। সুত্র, জাগো নিউজ

পাঠকের মতামত