
ডেস্ক রিপোর্ট ::
কক্সবাজারে প্রস্তাবিত বিশেষ পর্যটন অঞ্চলে ক্যাসিনোসহ পর্যটকদের জন্য আধুনিক সব আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
পর্যটন সচিব বলে, দেশের পর্যটন বিকাশে একটি মাস্টার প্ল্যান এবং বিদেশিদের জন্য এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে মধ্যে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৯’ পালিত হবে।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘ভবিষ্যতের উন্নয়নে; কাজের সুযোগ পর্যটনে।’ পর্যটন নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে এ বছর অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সারাদেশের প্রতিটি জেলায় দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
মহিবুল হক বলেন, ক্যাসিনো বাংলাদেশে বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য দরকার। মালয়েশিয়াতে কিন্তু ক্যাসিনো আছে, সেখানে পাসপোর্ট দিয়ে ক্যাসিনোতে ঢুকতে হয়। আমরাতো পর্যটকদেন জন্য এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। তাই যেখানে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করা হবে, সেখানে বিদেশিদের জন্য এসব সুযোগ-সুবিধাগুলো থাকবে।
দেশের ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোসহ জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ হওয়ায় সরকার সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান করছে জানিয়ে সচিব বলেন, ক্যাসিনো খোলা হবে শুধু বিদেশি পর্যটকদের জন্য। তবে সরকারের ক্যাসিরোবিরোধী অভিযানের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি না। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। তবে যেটা বলছি, সেটা বিদেশিদের জন্য, যেখানে শুধু পাসপোর্ট দিয়েই তারা যাবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে পর্যটকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান আছে বাংলাদেশেও সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে কোনো অসুবিধা নেই। এটা হতেই পারে। পর্যটনের সুবিধা বাড়াতে তিন পার্বত্য জেলাকে নিয়ে স্ট্যাডি করছি, সেখানে পর্যটকদের জন্য কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি।
সুন্দরবনের পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে সচিব বলেন, পর্যটনের জন্য পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজগুলো করতে চাই।
পর্যটন বিকাশে হচ্ছে মাস্টার প্ল্যান:
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, পর্যটনের জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে একটা মাস্টারপ্ল্যান প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সেই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সারাদেশে যতো দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে।
বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা আসছে, এ ব্যাপারে প্রাইভেট ট্যুর অপারেটররাও কাজ করছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

পাঠকের মতামত