
মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
কক্সবাজার জেলার ৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের জন্য ৭১ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুত্র মতে, গত ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টের প্রদত্ত এক রীট মামলার আদেশের কারণে এ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমিতে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা গ্রহনের জন্য বাচাইয়ে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের কাছে প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হয়েছিলো।
ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা পদে বর্তমানে কর্মরতদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ না করে ডিজিটাল সেন্টারে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সহ দেশের ৪ টি জেলার ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের ১১৯ জন উদ্যোক্তা পদে কর্মরতরা হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান তালুকদার সমন্বয়ের গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ গত ৩ ডিসেম্বর ২ টি পৃথক রীট আবেদন করেন। এ রীট আবেদন ২টির শুনানি শেষে আবেদনকারী ১১৯ জনের জন্য ১১৯ টি পদ আগামী ৬ মাসের জন্য সংরক্ষনের নির্দেশ প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইউপি ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা পদে কর্মরতদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ না করে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার পদে প্রকাশিত নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা পদে কর্মরতদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্টের উক্ত বেঞ্চ। ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক দুইটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ঐদিন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান তালুকদার সমন্বয়ের গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। দীর্ঘ ৯ বছর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত আছেন রিট আবেদনকারীরা। অথচ তাদের রাজস্ব খাতে আত্তীকরণ না করে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।
হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের এই ১১৯ টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে পদগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।
গত ৩ ডিসেম্বরের হাইকোর্টের প্রদত্ত আদেশ রীট আবেদনকারীদের আইনজীবীর মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া সরকারীভাবে হাইকোর্টের এ আদেশ ই-মেইল ভার্সনে পাঠানো হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টের প্রদত্ত আদেশ নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সভা করেন। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে কক্সবাজার জেলার ৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় উচ্চ আদালতের আদাশের পর আর কোন কথা নাই।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রথম দফায় ১২ জন, দ্বিতীয় দফায় ৩৪ জন ও তৃতীয় দফে ২৫ জন সহ কক্সবাজার জেলার মোট ৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য মোট ৭১ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এই ৭১ জন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রায় ৫ হাজার আবেদন জমা পড়ে। আবেদন গুলো যাচাই বাচাই করে আগামী ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার কক্সবাজার শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমিতে লিখিত পরীক্ষা গ্রহনের জন্য বাচাইয়ে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের কাছে প্রবেশপত্র প্রেরণ করা হয়েছিলো।
রীটে কক্সবাজার জেলার রিট আবেদনকারিগণ হলেন-আহমেদ আনোয়ার, মুরশেদুল করিম, জিয়াউল হক বাপ্পি, এহসান, গিয়াস উদ্দিন টিটু, আনোয়ারুল কবির, আব্দুল হাকিম, মোঃ মহিউদ্দিন, রুপন নাথ, শাহেদা পারভিন ও অন্যান্যরা। কক্সবাজার জেলা ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত সাথে অন্যান্য যেসব জেলার উদ্যোক্তা পদে কর্মরতরা গত ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রীট আবেদন করেছেন সেসব জেলা হলো-নারায়নগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ।

পাঠকের মতামত