প্রকাশিত: ০১/০১/২০২১ ৪:৩১ পিএম , আপডেট: ০১/০১/২০২১ ৪:৩৫ পিএম

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া::
উখিয়ার সীমান্তবর্তী ঘুমধুমের গহীন অরণ্যে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ইট ভাটা। বনভূমির পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। জ্বালানী হিসেবে যোগান দেওয়া হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছগাছালি। ইট ভাটার আশে পাশে নির্বিচারে বন জঙ্গল লুটপাট, পাহাড় কর্তনসহ নানাবিদ তান্ডবে বনভূমি লন্ডভন্ড হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আক্রান্ত এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইট তৈরির কায্ক্রম। গ্রামবাসীর অভিযোগ প্রভাবশালী চক্রের হাতে বনবিভাগের দুর্নীতি পরায়ন কর্তাব্যক্তিরা ম্যানেজ হওয়ার কারণে অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী,রেজু মগ পাড়া,আজু খাইয়া ও চাইল্লাতলী এলাকায় গিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বললেন, পূর্ব দিকের গহিন অরণ্যে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। পরে আরো ঘন্টা খানেক পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা পাহাড় কেটে ইট তৈরির মাটি মজুদ করছে। আরো কিছূ দূর ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, বনাঞ্চলের গাছ কেটে শত শত মেট্টিকটন লাকড়ি মজুদ করা হয়েছে। পরে ইট ভাটা সংশ্লিষ্টরা বলেন, আজু খাইয়ার মেম্বার আবুল কালাম, পলাশ বড়ুয়া, হায়দারের ইট ভাটায় ধাউ ধাউ করে জলছে আগুন। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক জানান, সংশোধিত আইনে সংযোজিত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধূনিক প্রযুক্তির ইট ভাটা অর্থাৎ জিগজাগ কিলন, টানেল কিলন বা অনুরূপ উন্নততর প্রযুক্তিতে ইট ভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষি জমি বা পাহাড় বা ঢিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ইট তৈরি করার জন্য মজা পুকুর, খালবিল, নদনদী, চরাঞ্চল বা পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা যাবে না। মাটির ব্যবহার কমানোর জন্য কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ফাঁপা ইট তৈরি করতে হবে। নির্ধারিত মান মাত্রায় কয়লা ব্যবহার করতে হবে। যেসব জায়গায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না সেগুলো হচ্ছে উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য বাগান বা কৃষি জমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, নিষিদ্ধ এলাকার সীমা রেখা থেকে নূন্যতম ১ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইট ভাটা করা যাবে না। পার্বত্য জেলায় পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির নির্ধারিত স্থানছাড়া অন্যকোন স্থানে ইট ভাটা তৈরি সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে। তিনি জানান, বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৫টি ইট ভাটা রয়েছে। যার একটিও নীতিমালায় পড়ে না।ঐসব ইট ভাটার কোন লাইসেন্স নাই বলে জানান উপজেলার রেঞ্জ কমকতা আনোয়ার হোসেন খান জানান, ক্ষমতার ডাপট দেখিয়ে ইটভাটা গুলো চালিয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে বিট কমকতা বলেন ঘুমধুমে ৬/৭টি ইটভাটা অবৈধ ভাবে গড়ে উঠলে ও তারা ক্ষমতার ডাপট দেখিয়ে ইট ভাটা গুলো চালিয়ে যাচ্ছে।ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ উক্ত অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের ব্যাপারে প্রসাশনের সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ঘুমধুম ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা এসব ইটভাটার কারণে পাহাড় কাটা, বন সম্পদ ধ্বংসের তান্ডবলীলা চলছে। তিনি এ ব্যাপারে উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় যত্রতত্র ইট ভাটা তৈরির বিষয়টি উত্থাপন করে অবৈধ ইট ভাটা বন্ধের জোরালো দাবী জানাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত

অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী

অক্টোবরে মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম ...

২৬-২৮ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে মার্কিন প্রতিনিধিদল

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে আসছে মার্কিন কংগ্রেসের কর্মকর্তা পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ২৬-২৮ আগস্ট ...
Single Page Footer