উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩/০৮/২০২৬ ২:১৭ পিএম

দীর্ঘ দুই মাস ৯ দিন কোনো খাবার না খেয়েই খুলনা থেকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে এসেছে বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর দীঘির আলোচিত কুমির ‘ধলাপাহাড়’।

গত ১২ আগস্ট বন অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে কক্সবাজারে পাঠানো হয়।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল।

তিনি জানান, গত ৩ জুন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর দীঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

এরপর ১২ আগস্ট কক্সবাজারে পাঠানো পর্যন্ত কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি।

নির্মল কুমার পাল বলেন, দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও কুমিরটি পুরোপুরি সুস্থ ছিল। কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন পরীক্ষা করে এর শারীরিক অবস্থা ভালো পেয়েছেন।

তিনি জানান, নতুন পরিবেশে এসে কুমিরের কয়েক দিন খাবার না খাওয়া স্বাভাবিক। শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী হওয়ায় কুমিরের শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম।

শরীরে সঞ্চিত চর্বি থেকেও এটি দীর্ঘ সময় শক্তি পেতে পারে। এমনকি কুমির কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত খাবার ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে।

বনকর্মীদের ধারণা, দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অপরিচিত ও বন্দি পরিবেশে আসার কারণেই ‘ধলাপাহাড়’ এমন আচরণ করেছে।

কক্সবাজারের নতুন পরিবেশে ধীরে ধীরে কুমিরটি স্বাভাবিক আচরণে ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘ধলাপাহাড়’-এর বয়স প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর। এর দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি।

২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে বর্তমানে এটিই একমাত্র জীবিত। সময়ের ব্যবধানে অন্য কুমিরগুলো মারা গেলেও ‘ধলাপাহাড়’ টিকে রয়েছে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, খুলনা থেকে আনা বাগেরহাটের খানজাহান আলীর (রহ.) দীঘির কুমিরটি বর্তমানে বেশ ভালো আছে। পার্কে নেওয়ার পরদিনই এটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছে।

এরপর আর খাবার খেতে দেখা যায়নি। পার্কের দীঘিতে সপ্তাহে একদিন কুমিরকে খাবার দেওয়া হয়। আশা করা হচ্ছে, নতুন পরিবেশে কুমিরটি ভালো থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন কুমিরটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই দিন খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নেমে আট বছর বয়সী এক শিশু কুমিরের আক্রমণে মারা যায়।

এর আগে একটি কুকুরকেও কুমিরটি আক্রমণ করে হত্যা করেছিল বলে জানা যায়। পরপর এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের দাবির মুখে ৩ জুন বন বিভাগ কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে।

পাঠকের মতামত

অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী

অক্টোবরে মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম ...

২৬-২৮ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে মার্কিন প্রতিনিধিদল

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে আসছে মার্কিন কংগ্রেসের কর্মকর্তা পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ২৬-২৮ আগস্ট ...

স্বাস্থ্য তহবিল কমছে, ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে ঝুঁকি

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জনসংখ্যা বাড়লেও অর্থায়ন কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ...

অতিরিক্ত বোঝাইয়ে দুর্ঘটনার শঙ্কা, বনভূমিতে বাঁশ মজুতের অভিযোগউখিয়ার সড়কে ফের বাঁশবোঝাই ট্রাকের দৌরাত্ম্য

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সড়কে আবারও অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই ট্রাকের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ট্রাকে নির্ধারিত ...
Single Page Footer